অনলাইন ডেস্কঃ দেশের রেলপথে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে যাত্রীদের আহত করার দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। চলন্ত ট্রেনের জানালায় পাথর ছুড়ে মারার ঘটনায় উদ্বিগ্ন যাত্রী-সাধারণ সহ রেলওয়ের কর্মকর্তারাও। গত কয়েক বছরে ট্রেনের ড্রাইভারসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ায় এই পাথর ছুড়ে মারার প্রবণতাটি বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
ফেসবুকেও এই বিষয়ে বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করায় সম্প্রতি আবারো আলোচনায় উঠে এসেছে এই প্রসঙ্গটি। সারাদেশের মতো শিল্পনগরী টঙ্গীতেও এমন ঘটনা ঘটছে অহরহ। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতিকারীকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হলেও কমানো যাচ্ছেনা ‘ঢিল আতংক’।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিল্পনগরী টঙ্গীর রেলপথ ঘেঁষে অসংখ্য ছোট-বড় বস্তি গড়ে উঠেছে। এসব বস্তিতে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা হয়। আর নিয়মিত মাদক সেবনের জন্য মাদকসেবীরা বেছে নেয় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ। এসব অপরাধ বা অপকর্মের অংশ হিসেবে মাদক সেবীরা বিভিন্ন রুটের ট্রেনের যাত্রীদের মোবাইল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। আবার কেউ কেউ ছিনতাইয়ের অংশ হিসেবে চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছুড়ে মারে।
এছাড়াও টঙ্গীর বনমালা, তিস্তারগেট, রেলওয়ে ষ্টেশন, মধুমিতা ও বৌ-বাজার এলাকায় বিকেলের পর থেকে সন্ধারাত পর্যন্ত আড্ডা দেয় আশপাশের এলাকার বখাটে যুবকরা। এসময় খেলার ছলে চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছুড়তে দেখা যায় এসব বখাটে যুবকদের। প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে রেলপথে রাজধানী ছাড়েন লাখো মানুষ। ছুটি শেষে আবারো তারা ফিরতে শুরু করে ইট-পাথরের এ শহরে। আসা-যাওয়ার পথে প্রতি বছরই দুর্বৃত্তদের ছোড়া ঢিলে ট্রেনের অসংখ্য যাত্রী আক্রান্ত হন। আহত হওয়ার পাশাপাশি ঘটে মৃত্যুর ঘটনাও।
তবে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির জনবল সংকটের কারণে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছেনা বলে জানান টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, টঙ্গী রেলওয়ে ফাঁড়ির সদস্য সংখ্যা মাত্র ১৫জন। প্রতি শিফটে ৪জন করে পুলিশ কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন। এই জনবল দিয়ে এতো বড় এলাকায় ট্রেনের ঢিল ছোড়া বন্ধ করা অনেকটাই দুঃসাধ্য।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে প্রত্যক্ষভাবে কেউ ঢিল ছুড়ে মারার অভিযোগ করেনি। তবে আমরা সবসময় সতর্ক রয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতিকারীকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছি। আর ট্রেনে ঢিল ছোড়ার জন্য টঙ্গী রেল জংশনের পাশে অবস্থিত বস্তি ও বস্তির মাদকসেবীদের দায়ী করেন এই কর্মকর্তা।
