অনলাইন ডেস্কঃ সিলেট নগরের বালুচর এলাকার ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে উদ্ধার করা প্রবাসীর স্ত্রী আফিয়া বেগমের (৩১) লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে আফিয়ার লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয় পুলিশ।
এ ঘটনায় বুধবার (২৪ আগস্ট) রাতে নিহত আফিয়া বেগমের মা কুটিনা বেগম বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় অজ্ঞানামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান বুধবার রাত ১১টায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি বলেন, ‘‘স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে খাটের ওপরে ওই নারীর মরদেহ দেখতে পাই। মরদেহ পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তার পাশেই পড়েছিল শিশু সন্তানটি। শিশুটি জীবিত আছে বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
‘‘মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাতে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগও রয়েছে। মরদেহ ফুলে ও গলে বীভৎস আকার ধারণ করে। বাসার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখে মনে হচ্ছে, দুই-তিনদিন আগে দুর্বৃত্তরা তাকে খুন করে দরজা তালাবদ্ধ করে পালিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাসায় চুরি-ডাকাতির কোনো আলামত মেলেনি।’’
ওসি আরও বলেন, ‘‘নিহত নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন কিনা তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের আগে নিশ্চিত হতে পারছে না পুলিশ। ইতিমধ্যে বাসার সিটিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত তাদের সনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দিক সামনে নিয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। বেশ কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহুর্তে এসব বলা যাচ্ছে না।’’
এদিকে আফিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার খুনি কে? এ নিয়ে এখন চলছে নানা আলোচনা।
তবে আফিয়ার পরিবারের অভিযোগ- এটি হত্যাকাণ্ড। তাদের দাবি এ হত্যায় আফিয়ার স্বামী নিয়াজ জড়িত।
আফিয়ার বড় বোন বলেন, ‘‘আমাদের পরিবার হতদরিদ্র। আফিয়াকে বেশ কয়েক বছর আগে সিলেট নগরের এক নারী চিকিৎসকের বাসায় কাজ করার জন্য দেন। ওই নারী চিকিৎসক প্রায় ১০ বছর আগে আফিয়াকে নিয়াজের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের কয়েক বছর পর নিয়াজ প্রবাসে চলে যান। গত দুবছর আগে তিনি দেশে ফিরলে পরিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আফিয়ার সঙ্গে কলহের সৃষ্টি হয়। এসময় আফিয়ার বাবার বাড়িতে এ বিষয়ে বিচারসালিশও হয়। পরে বিষয়টি আর সমাধানের পথে যায়নি এবং নিয়াজ ফের ওমানে চলে যান।
‘‘নিয়াজ কয়েক বছর ধরে আফিয়া ও তার সন্তানের ভরণ-পোষণ করছেন না। বিষয়টি নিয়ে আফিয়া স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। কিছুদিন আগে নিয়াজ দেশে ফিরলে এ মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। ৮ দিন আগে জামিন নিয়ে নিয়াজ কারাগার থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি লাপাত্তা। নিয়াজের বাড়ি কোথায় বা তার অন্যান্য বিষয়ে আর কোনো তথ্য দিতে পারছে না আফিয়ার পরিবার।’’
তিনি আরও বলেন- ‘‘ওদের সঙ্গে আমাদের তেমন যোগাযোগ ছিলো না। আমার বোন (আফিয়া) তার সন্তানকে নিয়ে ওই বাসায় একাই থাকতেন। ৪ দিন আগে আমাদের সঙ্গে আফিয়ার সর্বশেষ ফোনে কথা হয়। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। এরই মাঝে গতকাল (মঙ্গলবার দিবাগত) রাত দেড়টার দিকে পুলিশ আমাদের ফোন করে তার মৃত্যুর খবর দেন।’’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টার দিকে নগরীর বালুচরের সেকান্দর মহল নামের ফোকাস-৩৬৪ নম্বর বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আফিয়া বেগম (৩১) গোয়াইনঘাটের আজির উদ্দিনের মেয়ে। - সিলেটটুডে
