গ্রামে গ্রামে করোনায় আক্রান্ত, নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই

 



ইমাদ উদ দীন: মাস্ক ব্যবহার। সামাজিক দূরত্ব আর করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি। গ্রাম এলাকায় বালাই নেই কোনো কিছুরই। গেল কয়েক দিন থেকে জেলার ৭টি উপজেলার প্রতিটি গ্রামেই এমন দৃশ্যই প্রতিয়মান। 

শহরে নয় এখন গ্রামে ছুটছে আসছে করোনা। এমন বক্তব্য খোদ গ্রামে বসবাসকারী অনেকের। তারা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে বলছেন প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত সীমান্তবর্তী মৌলভীবাজার জেলার সবক’টি গ্রামের প্রতিটি ঘরেই এখন করোনার উপসর্গ। জ্বর,সর্দি,কাশি, শ্সবাসকষ্ঠ আর মাথাব্যথা। এসব রোগে চলছে নিজেদের মতো করে ফার্মেসী নির্ভার চিকিৎসা। চুড়ান্ত পর্যায়ে না গেলে কেউ তা গুরুত্বই দিচ্ছেন না। হাসপাতালে কিংবা ডাক্তারেরও দারস্ত হচ্ছেন না। তাদের এমন বক্তব্যের সত্যতাও দৃশ্যমান।

পহেলা জুলাই থেকে চলছে কঠোর লকডাউন। শহর এলাকায় অনেকটাই মানা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। প্রশাসনও তৎপর শহরে। কিন্তু ভিন্ন দৃশ্য  গ্রামে। বাড়ির বাহিরে রাস্তা বা বসার জায়গা (ব্রীজ ও কালর্ভাটের উপর) ভিড় লেগেই আছে সবসময়। গ্রামের ভেতরের ছোট বড় দোকান কিংবা স্থানীয় হাঁটবাজারও খোলা থাকছে রাত দিন। ওইসব দোকানে অপ্রয়োজনে বসে আড্ডা দিয়ে সময় পার করছেন। আর সবখানেই গাদাগাদি। গ্রাম জুড়ে করোনাকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতার নেই বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্নতা। জ¦র,সর্দি,কাশি,মাথাব্যথা ও শ^াসকষ্ঠ নিয়ে একজন অন্যজনের পাশে বসে অযথা আড্ডা দিচ্ছেন। গল্প গুজবের চ্ছলে জ¦র,সর্দি নিয়ে কথা বলছেন। চা স্টলে বসে একই কাপে পর পর অনেকেই চা খাচ্ছেন। ছোট ছোট গাড়িতে (সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও টমটম) গাদাগাদি করে বসে যাতায়াতও করছেন।  এতে করে দিন যত যাচ্ছে ততই পরিসংখ্যান বাড়ছে করোনা আক্রান্ত কিংবা মৃতের। কিন্তু করোনায় মারা গেলেও টেষ্টের আওতায় না আসায় অনেকেই তা স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই ধরে নিচ্ছেন। গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে যারা হাসপাতালে যাচ্ছেন। কিংবা ডাক্তারের শরণাপন্ন হচ্ছেন। কেবল তারাই করোনা টের পাচ্ছেন। অন্যদের করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার,সামাজিক দুরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানার দৃশ্যই চোখে পড়ছে কম। ঢালাও ভাবে টেষ্টের আওতায় না আসায় করোনা নিয়ে ধূয়াসায় গ্রামের বাসিন্দারা। তারা করোনাকে মৌসুমী জ¦র, সর্দি ও কাশি ভেবেই আগের মতোই স্বাভাবিকতায় চলছেন। সরজমিনে গেলো দুদিনে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর,সরকার বাজার, নাদামপুর, কাজিরবাজার, নতুন ব্রীজ, কামালপুর, কনকপুরবাজার ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার  মোকামবাজার, গিয়াসনগর বাজার, ভৈরববাজার, কালাপুর বাজার, কাকিয়াবাজার,কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার,রবিরবাজার, বরমচালবাজারসহ অধিকাংশ বাজারেই স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগের সত্যতা মিলে। এছাড়াও গ্রামের ভেতরের দোকানের একই অবস্থা বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায় লকডাউনের গেল ৫ দিনে জেলার ৭টি উপজেলাতে ২৩ টি টিম লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করছে। জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী  ম্যাজিস্ট্রেট মীর নাহিদ আহসানের নেতৃত্বে ও সার্বিক দিকনির্দেশনায় এক্রিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেটগণ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছেন। তাদের সার্বিক সহায়তায় মাঠে রয়েছে আনসার, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী।

জানা যায় পহেলা জুলাই থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনে জেলার ৭টি উপজেলায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৭৪৪ টি মামলায় ৪ লক্ষ ২১ হাজার ৩  শ ৪০ টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। ২১১ জনকে সাময়িক আটক করা হয়। সাময়িক আটককৃতদের মুচলেকা নিয়ে পরবর্তীতে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই পরিসংখ্যানে জেলা ও উপজেলা শহরের চিহ্নিত হাটঁবাজার ও দোকান ছাড়া  গ্রামের ছোট বড় দোকান কিংবা গ্রামীণ হাঁটবাজার পাওয়া যায়নি। গ্রামে প্রশাসনের লোকজন যাচ্ছেন না। এমনটি গ্রামের বাসিন্দারাই জানাচ্ছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় ১০৮ টি নমুনা পরীক্ষায় পাঠালে ৫৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা অনুযায়ী আক্রান্তের হার ৫২ শতাংশ। এ পর্যন্ত জেলায় ৩ হাজার ২‘শ ৩৮ জনের শরিরে করোনা সনাক্ত হয়। সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৭ শত ৫০ জন। হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৫৫ জন।

সরকারী হিসেবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় মৃত্যুবরণ করেন ৩৭ জন। তবে করোনায় আক্রান্ত মৃত্যুবরণকারী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে প্রাপ্ত তথ্যে বে-সরকাররি হিসেবে জেলার বাহিরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬১ জন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা: চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ গ্রামে করোনা বাড়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন গ্রামে করোনার হার বাড়ছে। কারণ গ্রামের বাসিন্দারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। তারা টেষ্টের আওয়তায়ও আসছেন না। মাস্কও পরিধান করছেন না। করোনার উপসর্গকে জ্বর সর্দি বলে তোয়াক্কা করছেন না। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহবান জানান।

Post a Comment

Previous Post Next Post