অনলাইন ডেস্কঃ শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে হটলাইন চালু করার কথা জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। তিনি বলেছেন, আমরা মানবাধিকার নিশ্চিতের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদেরও ব্যর্থতা আছে। মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের দায়বদ্ধতা আছে। সরকারের সাথে অনেক দেনদরবার করেই মানবাধিক নিশ্চিতের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতা বন্ধ হোক’ শীর্ষক মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ওয়ার্ল্ড ভিশন নামের একটি সংগঠন।
মানবাধিকার বিহীন উন্নয়ন পরিপূর্ণতা পায় না বলে মন্তব্য করে মানবাধিকার চেয়ারম্যান বলেন, মানবাধিকার নিশ্চিতে সমস্ত এনজিও, বুদ্ধিজীবীদের এক সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের ডেপুটি ডাইরেক্ট সাবিরা নূপুরের সভাপতিত্বে এ সময় কমিশনের চেয়ারম্যান মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে একটি হট লাইনের নম্বর (১৬১০৮) চালুর কথা বলেন। যা মার্চ মাসে চালু করার কথা জানান তিনি।
কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, সত্যিকারের উন্নয়নের জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ মানবাধিকার ছাড়া উন্নয়নের পরিপূর্ণতা পায় না।
‘সরকারের এসডিজির গোল অর্জনে শিশুদের বিষয়টা রয়েছে। আমরা শিশু নির্যাতিন রোধে কাজ করে যাব। এমন কি বাবা-মার কাছে শিশু নির্যাতিত হলেও তার জবাব দিহিতা করতে হবে। প্রয়োজনে আমাদের পক্ষথেকে মামলাও করতে পারি’ যোগ করেন তিনি।
শিশুদেরকে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না উল্লেখ করে রিয়াজুল হক বলেন, শিশুদেরকে নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করতে কেউ পারবেন না। সামান্য টাকার জন্য শিশুদের জীবন দিতে হচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। আমি নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি নিয়ে বলেছিলাম, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যারা শিশুদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করবে তাদেরকে জবাবদিহীতার আওতায় আনা হবে।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, বিশ্ব প্রতিদিন ১০ জনের মধ্যে ৬ জন শিশু শারীরিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু বিদ্যালয়ে শারীরিক শাস্তির সম্মুখীন হয়। বাংলাদেশে প্রায় ৮২ শতাংশ শিশু বিভিন্নভাবে সহিংসতার শিকার হয় ১৪ বছরের পূর্বে। এবং ৭৭ দশমিক এক শতাংশ শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বিদ্যালয়ে। এছাড়া ৫৭ শতাংশ শিশু কর্মক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে কাজী রিয়াজুল হক হট লাইনের বিষয়ে বলেন, জনবল কম থাকায় অফিস আওয়ারে এই নম্বর চালু থাকবে। এখানে অভিযোগগুলো রেকর্ড করে রাখা হবে। অভিযোগ অনুযায়ি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
