কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের রাজস্বকরনের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের রাজস্বকরনের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সিএইচসিপিদের চাকুরী উন্নয়ন খাত থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্থরের নির্দেশ প্রদান করেছে হাইকোর্ট বিচার বিভাগ। 

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পৃথক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রায় দুই হাজারের অধিক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের পক্ষে গত ৮ নভেম্বর বুধবার রায় দিয়েছে আদালত। হাইকোর্ট ডিভিশনের যৌথ বেঞ্চের বিচারপতি  আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি  আশীষ রঞ্জন দাশ এ রায় দেন। রিট আবেদন কারী সিলেট, সুনামগঞ্জ, ফেনী, কক্সবাজার, নওগা, পাবনা, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম জেলার প্রায় ৯৭৭ জনের  রিট পিটিশন ০৫ টি মামলা  ৮৭৮৭/২০১৭, ৮৭৮৮/২০১৭, ৮৭৮৯/২০১৭, ১১৯৩৩/২০১৭, ১১৯৩৪/২০১৭ এর পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট রমজান আলী সিকদার।

গ্রামীণ হত দরিদ্র জনগোষ্ঠী কে সেবা প্রদানের জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর জনগনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্য তৃর্নমূল পর্যায়ে প্রতি ৬০০০ হাজার জনগোষ্টির জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু সরকার পরির্তনের ফলে স্বাস্থ্য সেবার বর্তমানে গরিবের হাসপাতাল খ্যাত কমিউনিটি ক্লিনিক  মুখ থুবড়ে পড়ে। আওয়ামীলীগ সরকার ২০০৯ সালে পূনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে জনগনের মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্যসেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদানের জন্য উন্নয়ন খাতে ২০১১ সালে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডারদের নিয়োগ প্রদান করেন। ২০১১ সালে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার অস্থায়ীভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে বেসিক ট্রেনিং গ্রহন করে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে এ পর্যন্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সপ্তাহে ৬ ছয় দিন এবং মাঠ কর্মী স্বাস্থ্য সহকারী ,  পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর মাধ্যেমে   ৬১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ সেবা গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া গর্ভবতী ও প্রসূতী মায়েদের সেবা প্রদানের জন্য  ট্রেনিং প্রাপ্ত সিএস বি মহিলা সিএইচসিপি দের দ্ধারা  স্বাভাবিক সফল প্রসব করানো হয়েছে ৫০ হাজার ৩০৯ জনের। এবং প্রসব পূর্ব প্রসবোত্তর সেবা নিয়েছেন প্রায় ৩১ লক্ষ ৯৭ য় ৮৬৭ জন।বর্তমানে কমিউনিটি ক্লিনিক শুধু গ্রামীন হত দরিদ্র নয় সকল শ্রেনীর মানুষের কাছে গ্রহন যোগ্য হয়ে উঠছে। ২০১১ সালে  অস্থায়ী ভাবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৪ বছরের জন্য সিএইচসিপিদের নিয়োগ দেয়া হয় প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে আর ও দুই বছর অর্থাৎ ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের চাকুরী রাজস্ব খাতে স্থানান্থরের সুপারিশ করে তা বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কে চিটি দেয়। ২০১৬ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সাড়ে তেরো হাজার সিএইচসিপি কে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের চতুর্থ স্বাস্থ্য জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচী (এইচপিএনএসপি) প্রকল্পে স্থানান্তর করা হয়। 

গত ১৫ মে স্বাস্থ মন্ত্রনালয়ের পরিবেশ ও স্বাস্থ বিভাগ কর্তৃক চিটি মারফত জানানো প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু নতুন প্রকল্পে স্থানান্থরের পূর্বে রাজস্বে খাতে স্থানান্থরের নির্দেশনা চেয়ে সিএইচসিপি রা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রায়ের পর সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট রমজান আলী সিকদার বলেন, এ  রায় সারা দেশে  কর্মরত সকল কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সিএইচসিপি দের উন্নয়ন খাত থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের পথ সুগম হবে। 



রিট পিটিশনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএইচসিপি এসোসিয়েশন সিলেট জেলা সভাপতি মোঃ আকরামুল হক চৌধুরী, সমন্বয়ক সৈয়দ হাবিবুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি তানজিল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লিংকন মিয়া, ফেনী জেলা সভাপতি জিয়াউর রহমান রাসেল, কক্সবাজার জেলা  সিএইচসিপি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম কে মোঃ মিরাজ, মাইনুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ। সিএইচসিপি নেতৃবৃন্দ রিটের রায় তাদের পক্ষে আসায় আইনজীবী এবং তাদের প্রত্যেক জেলার দায়িত্বশীল  বৃন্দ ও কর্মরত সকল সিএইচসিপিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সিএইচসিপিদের চাকুরী রাজস্বে স্থানান্তরের জন্য প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post