বড়লেখায় নদীভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে রাস্তা, আতঙ্কে বাসিন্দারা

বড়লেখায় নদীভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে রাস্তা, আতঙ্কে বাসিন্দারা
বড়লেখা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বরুদল নদীভাঙ্গেেন বিলীন হচ্ছে মনাদী-মনারাই পাকা রাস্তা। এ রাস্তা দিয়ে মনাদী, মনারাই, রংপুর, পাকশাইল ও পূর্বমনারাই গ্রামের কয়েক হাজার লোকজন চলাচল করেন। গেল বর্ষায় মনাদী-মনারাই পাকা রাস্তার অন্তত দেড়শ মিটার নদীতে ভেঙে পড়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। নদীভাঙ্গনের ফলে বর্তমানে হুমকিতে রয়েছে আশপাশের অন্তত ৫০ বসতঘর। 

এদিকে প্রতি বছরের বর্ষায় আতঙ্কে থাকেন নাদী পাড়ের বাসিন্দারা। দেড় দশকে নদীভাঙ্গনে বসত ভিটা হারিয়ে অন্তত ৫০ পরিবার অন্যত্র বাড়ি করেছেন। ভাঙ্গনরোধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে এ অবস্থা চলছে। বর্ষাকালে নদীর ভাঙ্গনে রাস্তা বিলীন হওয়াসহ বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হুমকির মুখে রয়েছে। ফলে গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ তৈরি হয়েছে সব হারানোর ভয়। ভাঙন রোধে দ্রত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনুমানিক দুই যুগ থেকে বরুদল নদীতে ভাঙ্গন দেখা দেয়। নদীটির বর্তমান অবস্থান থেকে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার পূর্বে ছিল। ভাঙ্গন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তখন থেকে গ্রামের বসত ভিটে, মসজিদ ও রাস্তা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। অব্যাহত ভাঙনে অর্ধশতাধিক বসতঘরও চলে যায় নদীগর্ভে। ভাঙন রোধে দ্রত ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রাম নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষায় নদীভাঙ্গনে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। রাস্তা ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কিছু কিছু বসত ঘরের উঠান ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে ঘরও চলে যেতে পারে নদীতে।

মনাদী গ্রামের বাসিন্দা ছিকন্দর আলী (৬৫) ও আনু মিয়া (৪৫) বলেন, ‘কতবার বর্ষায় নদী ভাঙিয়া জায়গা নিছে। আবার ভাঙলে যাইবার (যাওয়ার) আর জায়গা নাই। মন করমু (মনে রাখব) রেবা। রাস্তাটা কাম অইলে (কাজ হলে) আর নদীতে গার্ড ওয়াল দিয়া ঠিক করি দিলে। সবতা (সব) নদীত (নদীতে) ভাঙিয়া নিছেগি (নিয়ে গেছে)।’

আকবর আলী (৫৫) নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘তিনবার বাড়ি বদলাইছি। সড়কের লগে ঘর বানাইছি। এখন আর ভাঙলে সবতা (সব) নদীতে যাইবগি (চলে যাবে)। যাইবার আর কোন জায়গা নাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘যেভাবে ভাঙন চলছে দ্রত রোধ করা না হলে গ্রামের আরও অনেক বাড়িঘর নদীর গর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাস্তা ভাঙায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। নাদী পাড়ের বাসিন্দারা খুব কষ্টে আছেন।’

স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘নদীর পাড়ের রাস্তাটি অর্ধ কিলোমিটার পূর্বে ছিল। ভাঙনের ফলে পশ্চিম দিকে সরেছে অনেক বছর হয়। অনেক পরিবার ভাঙনের ফলে জায়গা ছেড়েছে। বিভিন্নভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। মনাদি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র ও মৎস্যজীবী। বাড়ি ঘর আর ভাঙলে মেরামত করার সামর্থ তাদের নাই। দ্রত এ ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

এ ব্যাপারে বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন বলেন, ‘ভাঙ্গনের ফলে রাস্তার অবস্থা বেহাল। বাড়ি ঘর ঝুঁকিতে আছে। গত দুই যুগ থেকে এখানে ভাঙছে। আর মানুষ অন্যত্র ঘরবাড়ি করছে। এখন যে অবস্থায় আছে। আর ভাঙলে মানুষের যাওয়ার জায়গা থাকবে না। নাদীপাড়ের আশপাশের অন্তত ৫০ পরিবার ভাঙনের মুখে আছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন মহোদয় সরেজমিনে অবস্থা দেখে গেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন দেখে গেছেন। দ্রæত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে পাউবোর (পানি উন্নয়ন বোর্ড) মৌলভীবাজার (শাখা চার) উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমি কিছু দিন আগে বর্ণিতে গিয়েছি। জায়গা দেখেছি, কি অবস্থায় আছে। আনুমানিক ১২০ মিটারের মতো জায়গায় বেশি ঝুঁকিতে আছে। এটা জরুরী ভিত্তিতে বরাদ্দের জন্য উপরে পাঠানো হয়েছে।’

Post a Comment

Previous Post Next Post