অনলাইন ডেস্কঃ
‘রাতে আতঙ্ক নিয়েই ঘুমিয়েছিলাম। পাশের গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল আগের রাতে।
সকালে পালানোর কথা ছিল। সে সময় আর দেয়নি সেনাবাহিনী। শেষ রাতেই আগুন ধরিয়ে
দেয় বাড়িতে। জেগে ছিলাম বলে বের হতে পারছিলাম। নাতনি আর ছেলের বউরা আমার
সঙ্গেই ছিল। ওরাও প্রাণে বাঁচে। দুই ছেলে আর এক মেয়ের আর ঘুম ভাঙেনি। আগুনে
পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। কবরও দিতে পারি নাই। পোড়া লাশ ঘরে রেখেই পালিয়ে
এসেছি এপারে।’
কক্সবাজারের
থাইনখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাবেদা বেগমের এখন শুধুই শোকের মাতম। পাঁচ
সন্তানের তিনজনই পুড়ে মরেছে মিয়ানমার বৌদ্ধদের দেয়া হিংসার আগুনে।
সন্তানদের পোড়া লাশ ঘরে রেখে দু’দিন হলো বাংলাদেশে এসেছেন এই নারী। ছেলের
বউ আর নাতি-নাতনি নিয়ে কোনোমতে ঠাঁই মিলেছে।
পাহাড়ের
যে জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে, তার জন্য এক বাঙালিকে তিন হাজার টাকা দেয়ার কথা
সাবেদা বেগমের। সর্বসাকুল্যে দেড় হাজার টাকা দিতে পেরেছেন এই অসহায়
রোহিঙ্গা। বাকি টাকার জন্য নানাজনের কাছে হাত বাড়িয়েও নিরাশ হয়েছেন।
দুঃখের
কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, নাফ নদীতে নৌকায় দুদিন ভেসেছিলাম। এক রাতে
পাশের নৌকা ডুবে যায়। সেখানে আমার ১১ জন আত্মীয়ও ছিল। কারও আর সন্ধান
মেলেনি। পোড়ায়ে, ডুবায়ে সব শেষ করে এপারে এলাম। এত দুঃখ বলি কার কাছে!
সাবেদা
বেগমের স্বামী আবুল বাশার প্রায় বাকরুদ্ধ। কথাও আর বলতে পারছেন না।
মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশের বলিবাজারে গৃহস্থ বাড়ি আবুল বাশারের। এক রাতের
আগুনে সব শেষ। বলেন, এভাবে দেশ ছাড়া হব, ভাবিনি। ছেলেমেয়েদের লাশও দেখতে
পারলাম না। ওরা নিষ্ঠুর, বর্বর।
