কুলাউড়া প্রতিনিধিঃটানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ,কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার দশটি ইউনিয়নের দেড় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে দু’লাখ মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন । পানির নিচে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় আদমপুর-কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের নতুন ও পুরাতন ছয়টি ভাঙন এলাকা দিয়ে পানি প্রবেশ করে উপজেলা সদরের পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের পঞ্চাশটি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ১০ হাজার হেক্টর জমির আউশ ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে আদমপুর ইউনিয়নের ৮টি গ্রাম, শমশেরনগর ইউনিয়নের ১৯ টি গ্রাম ও শরীফপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গিয়ে উপজেলার কমপক্ষে ত্রিশটি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে।
শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: জুনাব আলী জানান , রোববার বেলা দেড়টায় নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ এলাকা দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ শুরু করে। ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে সৃষ্ট ভাঙনের ফলে উপজেলার হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নের কমপক্ষে দশটি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে।
রাজনগর উপজেলার টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নে রোববার বিকেল ৪ টার দিকে ছয়টি ভাঙ্গন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।
কামারচাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজমুল হক সেলিম কামারচাক ইউনিয়নের ৩০টিরও বেশি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করে জানান, সেহরির পর মুন নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে প্রায় ১০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙনে বন্যার সৃষ্টি হয়।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, অনাকাংখিত বন্যায় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। লোকজন আপাতত বাধেঁ আশ্রয় নিয়েছে। আশপাশের বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোডের্র নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র চক্রবর্তী জানান, ১০টি ভাঙ্গন দিয়ে মনু ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।
শুষ্ক মৌসুমে বাধঁ নির্মাণ না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, ডিপিপি’র প্রজেক্ট পরিকল্পনায় যাওয়ার আগে ঝুঁকিপূর্ণ বাধঁগুলো পানির ঢলে তলিয়ে গেছে। আগামীতে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করব।
