‘ডেথ ওভারের দুর্বলতা কাটাতে পারলে সেমিতে খেলবে বাংলাদেশ,খালেদ মাহমুদ সুজন

স্পোর্টস ডেস্ক:বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রস্তুতি ম্যাচ। এজবাস্টন। শনিবার। প্রথমে ব্যাটিংয়ে, পরে বোলিংয়ে, ৪৩ ওভার পর্যন্ত কিন্তু দুই ইনিংসেই পরিস্কার এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ দল। আগে ব্যাট করে ৪৩তম ওভার পর্যন্ত ৪ উইকেটে টাইগাররা করেছিল ২৯৫ রান। ডেথ ওভারের সুবিধা আদায় করতে না পারায় শেষ ৭ ওভারে আরও ৫ উইকেট হারিয়ে তারা রান যোগ করে মাত্র ৪৬। অন্যদিকে, বোলিংয়ের সময় ৪৩তম ওভার পর্যন্ত পাকিস্তানিদের ৮ উইকেট তুলে ২৫২ রানে আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচ জেতাটা তখন তাদের জন্য সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ ৭ ওভারে উল্টো বাকি ৯০ রান দাপটের সঙ্গেই তুলে নেন পাকিস্তানের টেল এন্ডারের দুই ব্যাটসম্যান। ডেথ ওভারের এলোমেলো বোলিং ও ছন্নছাড়া ফিল্ডিংয়ে মাশরাফির দলের সর্বনাশ। ৩ বল বাকি থাকতেই জয় পায় পাকিস্তান। অর্থাৎ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের হতাশার নাম আসলে 'ডেথ ওভার'। শুধু পাকিস্তানের বিপক্ষে এই প্রস্তুতি ম্যাচেই নয়, এ চিত্র বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রায় নিয়মিত। ডেথ ওভারে বোলিং কিংবা ব্যাটিং করতে গিয়েই খেই হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। ব্যাট হাতে কখনো কখনো ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার মিছিল শুরু হয়। ছয়-সাত নম্বরে এখন পর্যন্ত সেই অর্থে কোন আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। এমনকি শেষ দিকে নিয়মিত নিয়ন্ত্রিত ও খুনে বোলিং করে দলকে জেতানোর মতো কেউ মেলেনি। সাম্প্রতিক সময় মোস্তাফিজুর রহমান কিছুটা আশা জাগালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নবীনই তিনি। প্রায় দেড় যুগ ধরে বাংলাদেশের বোলিংয়ের নেতৃত্ব দেওয়া মাশরাফিও ডেথ ওভারে এখন আর তেমন কাজে আসেন না। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সামনে রেখে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদেরও দুশ্চিন্তার নাম ওই ডেথ ওভার। সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনও কপালে ভাঁজ নিয়ে ওই কথাই ভাবছে, ‘ডেথ ওভারে বোলিং-ব্যাটিং আমাদের জন্য সবসময় দুশ্চিন্তার। ডেথ বোলিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ব্যাটিংও। গতকালই (শনিবার) দেখেন আমাদের কোনো ব্যাটসম্যান কিন্তু শেষ করে আসতে পারেনি। বোলাররাও সঠিক লেন্থে বল করতে পারেনি। তবে এটা বড় কোনো দুর্বলতা না। পরিকল্পনাটা সঠিকভাবে প্রয়োগ না করতে পারার কারণেই এমনটা হয়।’ এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল সুজনের। প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর কোচের দায়িত্ব পালন করায় শেষদিকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিলেন। তবে এর আগে অনেক সিরিজ ও টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ম্যানেজার ছিলেন তিনি। একসময় ছিলেন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও অধিনায়ক। তাই সাবেক অল-রাউন্ডার কাছ থেকেই জানেন দলের এই দুর্বলতার ক্রম ইতিহাস। ডেথ ওভারের এ দুর্বলতা কিভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, সেই প্রশ্নে সুজনের জবাব, ‘ওই যে বললাম। পরিকল্পনার সঠিকভাবে ব্যবহার না করতে পারায় এমন হয়। যে পরিকল্পনা থাকে সেটি কার্যকর করা খুব জরুরি। আমরা মোটামুটি জানি প্রতিপক্ষের কোন ব্যাটসম্যান কোন সময়ে ব্যাট করবে। তাদের কোথায় দুর্বলতা, কিভাবে বল করলে ভালো হবে, খেলতে পারবে না এই জিনিসগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর ব্যাটিংয়ের সময় আমাদের মাথায় রাখতে হবে যেন ব্যাটসম্যানরাই যেন ম্যাচ শেষ করে আসে। ব্যাটসম্যানরা থাকলে দেখা যায় ১৫/২০টা রান বেশি হয়। শেষ দিকে এটাই ম্যাচের চেহারা বদলে দেয়।’ কিন্তু গেলো ম্যাচেই ৯ উইকেট হারাতে হয়েছে। পাকিস্তানের এই প্রস্তুতি ম্যাচে ডেথ ওভারের একটু বেশি এলোমেলো ছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। সুজনের মতে কন্ডিশন অনুযায়ী সঠিকভাবে বল করতে না পারার কারণেই এমন হয়েছে। ওই কন্ডিশনে নিয়মিত না খেলায় অনভিজ্ঞটাকেও দায়ী করছেন তিনি। 'দেখেন বোলিংতো একই রকম থাকে। অ্যাকশন-ট্যাকশনও একই, পার্থক্য হয় শুধু লেন্থে। আমি কোন লেন্থে বল করলে ব্যাটসম্যানদের আটকাতে পারবো সেটা জানা জরুরি।' সুজন জানালেন, 'ঢাকায় বল করলে একটা লেন্থে বল করেন, ইংলিশ কিংবা অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে একটু আলাদা। প্রত্যেকটা দেশের প্রতিটি উইকেটের একটা আলাদা লেন্থ থাকে। দেশের বাইরে যত খেলবে তত এটা জানবে, তত অভিজ্ঞতা হবে। এটা তাড়াতাড়ি রপ্ত করতে হবে।’ ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরে গ্রুপ পর্বেই বাংলাদেশ কঠিন পরীক্ষার সামনে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড প্রতিপক্ষ। তবে এ নিয়ে ভাবছেন না সুজন। র‍্যাংকিংয়ে ৬ নম্বর দলকে এমন সব দলকেই মোকাবেলা করতে হয় বলে জানান তিনি। আর এই সব প্রতিপক্ষকেই টাইগারদের হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিজেদের সেরাটা দিলে এবারও তার পুনরাবৃত্তি হবে বলে মনে করেন তিনি। ‘সব দলকেই হারানোর অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। আমাদের দিনে যে কোনো দলকেই আমরা হারাতে পারি। আমরা এখন পরিকল্পনা করে ম্যাচ হারাই। আমরা ডেথ গ্রুপে আছি ঠিকই। আমি মনে করি এটাই এখন আমাদের লেভেল। র‍্যংকিংয়ে আমরা ছয় নম্বর। আমাদের এখন চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গেই খেলতে হবে-’

Post a Comment

Previous Post Next Post