বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নানা অযুহাতে হর হামেশাই মারধর করেন স্কুল সভাপতি। শিক্ষকরা এর প্রতিবাদ করতে গেলে নোংরা আচরনের হামলায় শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ওই এলাকায় ব্যাপাক আলোচনার পাশাপাশি চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে অভিভাবকদের মাঝে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার এক জরুরি সাধারণ সভায় অভিভাবক ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে সভাপতি জুবের আহমদ (৩০)-কে অব্যাহতি প্রদান এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অবাঞ্চিত ঘোষনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সম্মান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সভাকক্ষে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, অভিভাবকবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জানা যায়, বিগত প্রায় ৩ বছর যাবৎ সম্মান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীদের সাথে অসদাচরণ করছে জুবের আহমদ। বিদ্যালয় ক্লাস চালাকালীন অবস্থায় যে কোন সময় ক্লাস রুমে প্রবেশ করে বিভিন্ন অযুহাতে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এসময় শিক্ষক বা শিক্ষিকা বাঁধা দিলে উনাদেরকেও হুমকী-ধামকী দিতে পিছ-পা হোননা জুবের। ধারাবাহিক ছাত্রছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণ, শারীরিক নির্যাতন, বাঁধা দিলে শিক্ষকদের হুমকী এবং বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করায় অতিষ্ট হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মছদ্দর আলী, অভিভাবকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় সভাকক্ষে এক জরুরী সভায় জুবের আহমদকে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। একই সাথে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে তার প্রবেশাধিকার নিষেধ করারও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মছদ্দর আলী জানান, সহকারী শিক্ষক মো. মুকুল খানের সাথে খুব বাজে আচরণ করেছেন সভাপতি। এছাড়াও যখন তখন ছাত্রছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণ করতেন তিনি। বাঁধা দিলেই তিনি উত্তেজিত হয়ে অসদাচরণ করতেন তিনি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্বাছ আলী জানান, কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জুবের আহমদ বিদ্যালয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছিলেন। শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীদের সাথে তিনি অসদাচরণ করে আসছিলেন। তার নির্যাতনে অতিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকবৃন্দ। এছাড়াও বিদ্যালয়ের অর্থ সঠিকভাবে বন্ঠন করেননি তিনি।
এ নিয়ে সহকারি শিক্ষক মুকুল খান বলেন, যে কোন বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সমানে শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এমনি কি বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে কৃ-রুচিপূর্ন গালিগালাজ করেন। গত ২ জানুয়ারি ও ৩ মার্চ আমার সাথে কোন কারণ ছাড়াই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অশালীন ব্যবহার করেন। এসময় বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষক সভাপতি (জুবের)কে ধরলে আমায় শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করতেও দ্বিধাবোধ করত না।
অভিযুক্ত জুবের আহমদ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন জরুরী সভা সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। শিক্ষকের সাথে অসধাচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, গত বুধবার একজন সহকারী শিক্ষকের সাথে বাকবিতন্ডা হয়েছে।
এ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমান ঘটনার অবগত আছেন জানিয়ে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
