অনলাইন ডেস্ক : ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো পাখিকে ওরা আর উড়তে দিলো না! থমকে দিলো তার গতিপথ, দূর দিগন্ত। প্রাণীর প্রাণনাশেই বুঝি যান্ত্রিক জীবন পাবে আরও গতিশীলতা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রায় ৭০ হাজার পাখি নিধন করা হয়েছে। গাঙচিল, স্টারলিং, রাজহাঁসসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এই ব্যাপক নিধনের শিকার। যার মধ্যে কোনোকে মারা হয়েছে গুলি করে, নয়তো ফাঁদ পেতে।
স্থানীয় লাগর্ডিয়া এয়ারপোর্ট ও নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টের প্লেন দুর্ঘটনা এড়াতে এতো বিপুল সংখ্যক পাখিকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। ২০০৯ সালের একটি দুর্ঘটনার জের ধরে এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তারা।
পূর্ব নিউইয়র্কের হাডসন নদী সংলগ্ন এই দুই বিমানবন্দরে পাখির জন্য প্লেন ওঠা-নামায় সমস্যা হয়। যা এড়াতেই জীববৈচিত্র্যের ওপর এমন আঘাত। ইতোমধ্যে নিধনকাণ্ডে সমালোচনাও শুরু হয়েছে জোরেশোরে। অনেকের দাবি ছিল বিকল্প পদ্ধতি বের করার, কিন্তু তা না করে অন্তত ৭০ হাজার পাখি হত্যা কোনো সমাধান বয়ে আনতে পারে না; বরং তা পরিবেশের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
‘‘দুর্ঘটনা এড়াতে মূলত দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দরকার, কেবল পাখি নিধনই সুনির্দিষ্ট উপায় নয়। আরও উন্নত রাডার ব্যবস্থা হতে পারে নিরাপদ প্লেন চলাচলের সহায়ক,’’ স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জেফরি ক্রেমার এমনই মত দিয়েছেন।
বন্যপ্রাণি বিশেষজ্ঞ ও জীববিজ্ঞানী লরা ফ্রেনকোয়ার জানান, ঝুঁকি এড়াতে যতদূর সম্ভব চেষ্টা করা হয়েছে, এতে করে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। শুধু পাখি নিধন নয়, আরও অনেক পরিবর্তনই আনা হচ্ছে।
