হাছনা-মমতাজ স্মৃতি বৃত্তি পরিষদ ও মম-ছায়া প্রকাশনীর উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচী

হাছনা-মমতাজ স্মৃতি বৃত্তি পরিষদ ও মম-ছায়া প্রকাশনীর উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচী
স্টাফ রিপোর্টারঃ কুলাউড়ায় হাছনা-মমতাজ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারী শনিবার কুলাউড়া উছলাপাড়াস্থ লিটল স্টার একাডেমিতে দিনব্যাপী কর্মসূচী পালিত হয়।

হাছনা-মমতাজ ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক ও চেয়ারম্যান এ.এফ.এম ফৌজি চৌধুরীর লেখার অঙ্গণে ২৫ বৎসর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়া  লেখাগুলোর প্রদর্শনী সকাল ১১:০০ টায় এ.এফ.এম ফৌজি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও শহীদুল ইসলাম তনয়ের সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদপত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ,স,ম কামরুল ইসলাম বলেন- ফৌজি চৌধুরীর লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত ও বাছাইকৃত প্রায় পাঁচ শতাধিক ফিচার, জড় করে প্রদর্শিত এবং উপস্থাপন করায় সাধুবাদ জানান। ভাষা ও সাহিত্য চর্চার কথা  চিন্তা করে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আমাদের স্বাধীনতা আরও অর্থবহ করতে হলে ভাষা ও সাহিত্য চর্চার কোনো বিকল্প নেই। বিভিন্ন রকম সাহিত্য সমাবেশ করতে হবে। বিশ্বমানের সাহিত্য রচনায় উন্মেষ ঘটাতে হবে।

দুপুর ১২:০০ টায় হাছনা-মমতাজ ফাউন্ডেশনের ১২ বৎসর পূর্তি, হাছনা-মমতাজ স্মৃতি বৃত্তি পরিষদের ১০ বৎসর পূর্তি, মম-ছায়া প্রকাশনীর লোগো উন্মোচন ও সাহিত্যপত্র “স্বপ্ন” এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠান এ.এফ.এম ফৌজি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও শহীদুল ইসলাম তনয়ের সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠান মুশফিকুর রহমান মজুমদারের  কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ওয়াহিদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ,স,ম কামরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসাবে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নেহার বেগম, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (অবঃ) প্রফেসর মোঃ বদরুজ্জামান চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার সোহেলী রহমান, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী ফরহাদ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন লিটল স্টার একাডেমীর অধ্যক্ষ হিফজুল এনাম খান, রাইজিং স্টার এর লাইফ মেম্বার তোফায়েল আহমেদ ডালিম, রাইজিং স্টার আব্দুল হান্নান এডুকেশন ট্রাষ্টের পৃষ্টপোষক ও স্পেন প্রবাসী তুতিউর রহমান, এপেক্স ক্লাব অব মৌলভীবাজার এর আইপিপি এপেঃ ডাঃ হেমন্ত চন্দ্র পাল, প্রেসিডেন্ট এপেঃ শরীফ আহমদ, কামরাঙ্গার সম্পাদক কামরুল হাসান, বিন্দুর সম্পাদক সিরাজুল আলম জুবেল ও হাছনা-মমতাজ ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক ও সেক্রেটারী এ,এফ,এম মারুফ চৌধুরী। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা বলেন- সাহিত্য সমাজের দর্পন আর সংস্কৃতি আমাদের জাতিসত্তার মূল উপাদান। সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চাকে এগিয়ে নিতে পেছনে কাজ করে ভাষা। ভাষার মাধ্যমেই আমাদের জাতীয় বোধের চেতনার নিঃসরণ ঘটে। যে জাতীর মধ্যে ভাষা এবং সাহিত্য চর্চা নেই, সে জাতি হচ্ছে ঘুমন্ত জাতি, চেতনাহীন জাতি। ইদানীং ভাষা ও সাহিত্যচর্চা খুব একটা দেখা যায় না। ডিজিটাল যুগে এসে কোনো রাগঢাক না করেই অবলীলায় বাংলা ভাষার বিকৃতি ঘটাচ্ছি এবং এ ব্যাপারে আমাদের কোনো অনুশোচনা বা দায় বোধও নেই। ভাষা চর্চার মাধ্যম হলো সাহিত্য। যত সাহিত্য রচনা হবে ততই ভাষার বিস্তৃতি ঘটবে। ভাষা পাবে শক্ত গাঁথুনি। ভাষা ও সাহিত্য চর্চা একে অপরের পরিপূরক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাছমা-মমতাজ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ওয়াহিদুর রহমান খান, বেলায়েত হোসেন চৌধুরী, জিল্লুল-ই-মজিদ ও মিজানুর রহমান মজুমদার, কুলাউড়া প্রেস ক্লাব এর সাবেক সভাপতি কয়ছর রশীদ, এ.বি ব্যাংক শ্রীমঙ্গল এর কর্মকর্তা আবদুস শহীদ, সাপ্তাহিক সংলাপ এর সহ-সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ, সাপ্তাহিক মানব ঠিকানার বার্তা সম্পাদক চৌধুরী আবু সাইদ ফুয়াদ, সিনিয়র ষ্টাফ রির্পোটার আলাউদ্দিন কবির, জসিম চৌধুরী, সীমান্তের ডাক এর সিনিয়র ষ্টাফ রির্পোটার ও দিনকাল প্রতিনিধি মুকতাদির হোসেন, প্রিয় কুলাউড়ার সম্পাদক একেএম জাবের, দৈনিক সকালের খবরের প্রতিনিধি সাইদুল হাসান শিপন, দৈনিক অর্থনীতির কাগজ প্রতিনিধি নাজমুল বারী সোহেল, নতুন দিন এর প্রতিনিধি সুমন আহমদ,  কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হান্নান, প্রবাসী সংগঠক তানভীর শোভন, এপেক্স ক্লাব অব মৌলভীবাজার এর এপেঃ সুরমান আহমদ, এপেঃ আলতাফ হোসেন সুমেল, এপেক্স ক্লাব অব জুড়ী ভেলীর প্রেসিডেন্ট এপেঃ সিরাজুল ইসলাম, এপেক্স ক্লাব অব হাকালুকি ভিউ এর  জেভিপি এপেঃ তাজুল ইসলাম, সার্ভিস ডাইরেক্টর আল-আমিন আহমেদ, জুড়ী অনলাইন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান নোমান, ইউনাইটেড রয়েলস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, কুলাউড়া বন্ধুসভার সহ-সাধারন সম্পাদক মিঠুন চক্রবর্ত্তী, সোস্যাল কেয়ার অব নেশন এর সভাপতি খায়রুল কবির জাফর, সাধারন সম্পাদক সায়েম আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আজিজুল ইসলাম, সদস্য ফয়সল আহমদ, সদস্য জাহিদ হাসান, প্লাটুন-১২ এর সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বাবু, টাউন ক্লাব এর নাসির জামান খান জাকি, তাসনিমুল হাসান চৌধুরী ও তাজওয়ারুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ।

বিকেল ৪:০০ টায় হাছনা-মমতাজ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ ছাত্র-ছাত্রীদের এওয়ার্ড প্রদান ও গুনীজন সংবর্ধনা এ,এফ,এম মারুফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে শহিদুল ইসলামের তনয় এর সঞ্চালনে ও মুশফিকুর রহমান মজুমদারের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রখ্যাত জাতীয় সংগীত শিল্পী সুদর্শন রবিদাসের কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়, উপস্থিত সকলে তাঁর সাথে সুর মেলান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (অবঃ) প্রফেসর মোঃ বদরুজ্জামান চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসাবে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার সোহেলী রহমান, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী ফরহাদ, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল মানিক, রাউৎগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামাল, বি,এইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম.এ কাইয়ুম চৌধুরী, আল হেরা ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাসুক আহমেদ, বৃত্তি পরীক্ষার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জুড়ী টি,এন,খানম ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ ফরহাদ আহমেদ, হলসুপার ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ খালিক উদ্দিন ও জাতীয় সঙ্গীত শিল্পী সুদর্শন রবিদাস উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের পৃষ্টপোষক ও চেয়ারম্যান এ,এফ,এম ফৌজি চৌধুরী। আরও বক্তব্য রাখেন, হাছনা-মমতাজ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মিছবাহ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা বলেন,- আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের কর্ণধার। তারা আগামীতে দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। আর এজন্য তাদের অর্জনকে স্বীকৃতি দিতে হবে। স্বীকৃতি পেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি পায়। বক্তারা এ ধরণের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আয়োজনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার অনুরোধ জানান। উপস্থিত কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বক্তারা  আরো বলেন,- শুধু শিক্ষা ও সনদ অর্জন করলেই হবে না। পড়ালেখার পাশাপাশি নীতি নৈতিকতাবোধ অটুট রেখে আদর্শবান মানুষ হয়ে নিজেকে দেশ সেবায় বিলিয়ে দিতে হবে। সুস্থ, সুন্দর ও আদর্শিক সমাজ বিনির্মাণে প্রত্যেক কৃতী শিক্ষার্থীদেরকে ব্রতী হতে হবে।

বৃত্তি প্রাপ্ত ১৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এওয়ার্ড প্রদান, হল পর্যবেক্ষদের ও বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক, বৃত্তি পরীক্ষায় অধিক সংখ্যক উপস্থিতি ও গুণীজনদেরকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। 

Post a Comment

Previous Post Next Post