কুলাউড়া-জুড়ীতে পৃথক অভিযানে নি'ষি'দ্ধ জাল ও পোনা মাছ জ'ব্দ করলো প্রশাসন


স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেট বিভাগের পাঁচটি উপজেলা নিয়ে বেষ্টিত এশিয়ার বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি নামে খ্যাত হাকালুকি হাওরে অবাধে পোনা মাছ নিধন শুরু হয়েছে। হাকালুকি হাওরের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা অংশে প্রতিবছরই বর্ষার শুরুতে এবং পানি কমার সময়ে একশ্রেণির অসাধু চক্রের মাধ্যমে অবাধে পোনা মাছ নিধন ও বিক্রির মহোৎসব চলে। বিশেষ করে মে-জুলাই মাসে মাছের প্রজনন মৌসুমে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র পোনা মাছ নিধন করে তা বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করছে। যদিও মৎস্য অফিস সকল প্রকার মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। দেশীয় মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও পোনা মাছ নিধন রোধে হাকালুকি হাওরের কুলাউড়া উপজেলা অংশের চকিয়া বিল ও ফানাই নদীতে বুধবার (১৩ মে) এক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিছুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ, কুলাউড়া থানার এসআই হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল। অভিযানে ২ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ৭০টি চায়না দোয়ারি জাল, ৪৪৮টি চাই, ৪টি বেড়জাল জব্দ করা হয়। এছাড়া ২০০টি বোয়ালের পোনা, ৩৫টি পাবদা মাছসহ অন্যান্য মাছের পোনা বিলে অবমুক্ত করা হয়। এবং একটি নৌকা জব্দ করে ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় দেয়া হয়। অভিযান শেষে পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এদিকে হাকালুকি হাওরের জুড়ী উপজেলা অংশের পোতাওয়ালি বিলে মঙ্গলবার (১২ মে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন জুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা আক্তার। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জুড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। এসময় এসআই ফরহাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। অভিযানে প্রায় ২০ কেজি বিভিন্ন জাতের পোনা মাছ, দুটি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল এবং একটি ফিক্সড ইঞ্জিন (স্থানীয় নাম: ঘুরজাল) জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাছ ও জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযান শেষে জব্দকৃত পোনা মাছ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এছাড়া পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর অবৈধ জাল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ ও জুড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, হাকালুকি হাওর আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য ভান্ডার। অবৈধ জাল ব্যবহার করে পোনা মাছ নিধন করলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের প্রজনন রক্ষায় অবৈধ জাল ও পোনা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলমান রয়েছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post