স্টাফ রিপোর্টারঃ কুলাউড়া পৌরসভার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া মরা গোগালী ছড়া খালের উভয়পাড়ে ৯০০ মিটার প্যালাসাইডিং নির্মাণকাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে বিরুদ্ধে। কুলাউড়া পৌরসভার বাদেমনসুর এলাকায় গোগালীছড়ার ব্লকের কাজ পরিদর্শন করেন এমপি শওকতুল ইসলাম শকু। এসময় কাজ নিম্নমানের হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা সরওয়ার আলম বেলাল, এমপির ব্যাক্তিগত সহকারী ফারহান আহমদ চৌধুরী, দৈনিক কালবেলা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন রিপন, সংবাদকর্মী ইব্রাহিম আহমদ প্রমুখ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যাকবলিত পৌরসভার বাদে মনসুর এলাকায় যেভাবে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করে ব্লক ও প্যালাসাইডিং নির্মাণকাজ করা হচ্ছে, এটা কোনো কাজে লাগবে না।
এদিকে ১৩ এপ্রিল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় পৌর এলাকায় কয়েকটি উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে যান মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকু।
পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মরা গোগালী ছড়া খালের প্যালাসাইডিং কাজে ব্যবহৃত ব্লক ও ব্রিজের নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে দেখতে পেয়েছি, যে পাথরগুলো দিয়ে কাজ করা হচ্ছে সেগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের। ব্লক যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবে টেকসই হয়নি, এটা কয়দিন ঠিকবে আমি জানি না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সঠিকভাবে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে মরা গোগালী ছড়া খালের উভয়পাড়ে ৯০০ মিটার প্যালাসাইডিং কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মাহিয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর এ কাজের উদ্বোধন করেন পৌরসভার প্রশাসক মো. মহিউদ্দিন ও মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহিয়া এন্টারপ্রাইজের সাইট ম্যানেজার তাপস বলেন, পাথরগুলো সিলেটে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখার পর আমাদের কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে আমরা কাজ করতেছি।
এ বিষয়ে কুলাউড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো: কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এ কাজে আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই। কাজটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের।’ মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ বলেন, ‘মরা গোগালী ছড়ায় প্যালাসাইডিং কাজে ব্যবহৃত পাথর ও রড পরীক্ষার জন্য প্রথমে সিলেটে ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে থেকে রিপোর্ট ভালো এসেছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ টিম এসে ব্লকগুলোর গুণগত মান পরীক্ষার জন্য কিছু ব্লক ল্যাবে পাঠিয়েছে। সেটির রিপোর্ট এখনো আসেনি। কাজের মান ভালো হওয়ার জন্য আমাদের তদারকি রয়েছে।’
