মৌলভীবাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ কৌটায় করোনার নমুনা সংগ্রহ



নিউজ ডেস্কঃ মৌলভীবাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ কৌটায় করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নমুনা দিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ ও ফলাফল নিয়ে জেলাব্যাপী একটা হযবরল অবস্থার সৃষ্টি করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ জেলায় করোনা পরীক্ষার ফলাফল দিতে সময় লাগে ৩-৪ দিন। আবার কখনো কখনো ৫ দিনও লেগে যায়। যার ফলে সংক্রমণের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বুধবার সকালে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করাতে আসা সাধারণ মানুষের হাতে একটি করে কৌটা দেয়া হয়। কৌটায় ব্যক্তির নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখা ছিল। এ সময় দেখা যায় কৌটার মেয়াদ গত জুন মাসে শেষ হয়েছে।

কৌটার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এটা সাধারণ মানুষ যাতে না বুঝে এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কৌশলে তারিখের জায়গাটুকু ছিঁড়ে ফেলেন। আবার কোনোটা মুছেও দিয়েছেন। এটা দেখে দূরদূরান্ত থেকে নমুনা দিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করে। জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডে হতবাক নমুনা পরীক্ষা করাতে আসা জেলার সাধারণ মানুষ।

তারা বলছেন, এ হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষা লোক দেখানো ব্যতীত আর কিছুই নয়। এ পরীক্ষায় কার পজিটিভ কিংবা কার নেগেটিভ নির্ভুল ফলাফল পাওয়া যাবে না।

এদিকে নমুনা সংগ্রহের ৩-৪ দিন পরে দেয়া হচ্ছে ফলাফল। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ আশা রোগীরা হোম কোয়ারেন্টিনে না থেকে বাহিরে নানা কাজ করছেন। আবার পরিবারের সঙ্গে একত্রে ওঠা-বসাও করছেন। তাদের সংস্পর্শে এসে অন্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। যার ফলে মৌলভীবাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা।

জেলার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় এমনটি হচ্ছে। এ পরীক্ষা মানুষের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যার ফলে প্রতিনিয়ত করোনা রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ কৌটা ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। এ রকম হয়ে থাকলে খুবই দুঃখজনক।

নমুনা সংগ্রহের ফলাফল দেরিতে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ১-২ দিনের মধ্যে তো আশার কথা। হয়তো মাঝে মধ্যে একটু দেরি হয়। সূত্র : যুগান্তর

Post a Comment

Previous Post Next Post