অনলাইন
ডেস্কঃ সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঐতিহ্যের পরিচিতি বিশ্বখ্যাত
পান-সুপারি, স্বচ্ছ পানি, চা-বাগান, সারী নদীর সৌন্দর্য্য, তেল-গ্যাস, পাথর
কোয়ারি, পিকনিক সেন্টার, গবেষণাকেন্দ্র গুলো পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এছাড়া
জৈন্তাপুরে রয়েছে প্রাচীন রাজপরিবারের দর্শনীয় স্থান, রয়েছে হাওর ও বিল।
মধ্য কার্তিক সিলেটের পরিবেশ এখনো বেশ গরম। তবে উত্তরের জনপদে রাতের আকাশে
কিছুটা শীতল হাওয়া বয়। পাহাড়ি পাদদেশের মাটি বা দূর্বা ঘাস সকালে হয়ে উঠে
সিক্ত। বোধ হয় শীতের আগমনী বার্তা। জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট অঞ্চলে প্রতিবছর
শীত মৌসুম শুরুর আগেই খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশের হাওর বিলে নামতে থাকে
নানা প্রজাতির দেশি পাখি। আর শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যোগ হয় অতিথি পাখি।
হাওর অঞ্চলে যেন এখন পাখির মেলা বসে।
বর্তমানে সিলেটের জৈন্তাপুরের
বিভিন্ন স্থানে উঁচু গাছের মগ ডালে সাদা সাদা বক সেই সঙ্গে রয়েছে দেশীয়
নানা জাতের পাখির কিচিরমিচির। এর সাথে প্রতি বছর আশ্বিন মাসে থেকে ছোট-বড়
বিভিন্ন জলাশয়ে অতিথি পাখির দেখা মিলে। সেসব পাখির কলতালে এক অপার
সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। জৈন্তাপুরের বিভিন্ন জলাশয়ে নিজেদের আহার যোগাতে
প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসা শুরু হয়েছে। এর সুযোগে শিকারিদের হাতে
ধরা পড়ছে অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখি।
শিকারিরা
প্রতিদিন পাখি শিকার করে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার প্রকাশ্যে বিক্রি
করলেও যেনো দেখার কেউ নেই। আর যারা পাখি শিকার করছে, তাদের অধিকাংশই আইন
সম্পর্কে ধারণা নেই। এছাড়া প্রশাসনের মধ্যে সচেতনতা গড়ে না উঠার কারণেই
শিকারিরা বেপরোয়াভাবে অবাধে পাখি শিকার করছে।
উপজেলার হেমু হাওর,
বুঝির হাওর, মেদল হাওর, ডিবিরি হাওর এর পাশের গ্রামগুলো ঘুরে জানা যায়,
বর্ষার শেষ ভাগে বিলে পানি কমতে শুরু করার কারণে ক্ষেতের জমি জেগে ওঠে। আর
জমিতে অল্প পরিমাণে পানি থাকায় দু-একটি মাছও থাকে। আর এই মাছ খাওয়ার লোভে
অতিথি ও দেশীয় প্রজাতির পাখিরা বিভিন্ন খাল বিলে ভিড় জমায়। আর এই সুযোগেই
কিছু লোভী শিকারিরা জাল, দানাদার বিষ সহ বিভিন্ন ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে
আসছে। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করে স্থানীয় হরিপুর বাজার বিকাল ৩টা
থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ফেরি করে করে পাখি বিক্রি করে। প্রতিটি পাখির জোড়া
৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানিয় বন বিভাগ
নিচ্ছে না কোন ব্যবস্থা।
পরিবেশবিদদের মতে, উপজেলার খালবিলের সৌন্দর্যমন্ডিত অতিথি পাখি অবাধে শিকারের কারণে খালবিলের জীব বৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন।
এলাকাবাসী
জানান, শহর থেকে শখের নেশায় পাখি মাংস ও পাখি ক্রয় করার জন্য জৈন্তাপুর
উপজেলার হরিপুর বাজারে আসে এবং চিহ্নিত কয়েকটি রেস্টুরেন্টে বসে পাখির মাংস
খায় আবার অনেকে চিহ্নিত শিকারিদের কাছ থেকে পাখি ক্রয় করে নিয়ে যায়।
জৈন্তাপুরের ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত, হরিপুর ও
জৈন্তাপুর ইউনিয়নে রয়েছে বেশ কয়েকটি হাওর। এগুলোর মধ্যে কেন্দ্রী হাওর,
ডিবির হাওর, বেদু হাওর, বড় হাওর, বুজির হাওর, মেদল হাওর, ডেঙ্গার হাওর,
চাতলারপাড় হাওর, গোয়ালজুরি, পুটিজুরি, বড়জুরি, ফাবিজুরি, গাছজুরি হাওর
উল্লেখযোগ্য। শীত শুরুর আগে থেকে এই হাওরগুলোতে আগমন ঘটে পাতিহাঁস,
বালিহাঁস, ডাউক পাখি, অখা, সাদাবক ও কানাবকসহ বিভিন্ন জাতের পাখি।
স্থানীয়
বাসিন্দারা বলেন, আমাদের এলাকায় বিভিন্ন উৎসবে, বিয়ে সাদিতে, বিভিন্ন
উৎসবে এ অঞ্চলে পাখির মাংসের চাহিদা একটু বেশি। তাই বাজারে শিকারিরা
পাখিগুলো বাজারে এনে ফেরি করে বিক্রয় করে।
গবেষক ও পরিবেশবিদ আব্দুল
হাই আল হাদি বলেন, উপজেলার হরিপুর ও দরবস্ত এলাকার বিভিন্ন হাওর থেকে
শিকারিরা পাখি শিকার করে স্থানীয় বাজারে ফেরি করে বিক্রয় করে। এতে পাখি কমে
যাচ্ছে এই জনপদে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে যে অভিযান পরিচালনা করে তা
অপর্যাপ্ত। তাই আমার দাবি পাখি শিকারিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে
আসলে পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব। এ ব্যাপারে বন বিভাগকে গুরুত্বের সাথে কাজ
করার আহবান জানাই।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহীদা
পারভীন বলেন, পরিবেশরক্ষার জন্য আমি পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে হরিপুর বাজারে
অভিযান করেছি, আরও করবো। আমাদের সাথে এলাকার সচেতন নাগরিকগন পাখি
শিকারিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে এটি বন্ধ করা সম্ভব।
সিলেট জেলা
বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মাহমুদুল হক খান বলেন, আমি
সিলেটে নতুন যোগদান করেছি। এ ব্যাপারে আমি খবর নিয়ে তাদের উপর আইনগত
ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। - সিলেটটুডে
