নিউজ
ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সিলেটের
বিদেশগামী প্রবাসীরা। গত চারদিন থেকে নমুনা পরীক্ষায় অনেকের রিপোর্ট আসছে
‘ইনডিটারমিনেট’। পরীক্ষার ফলাফল ‘পজেটিভ’ বা ‘নেগেটিভ’ কোনটাই সনাক্ত করতে
না পেরে ল্যাব থেকে রিপোর্টে লিখে দেওয়া হচ্ছে ‘ইনডিটারমিনেট’। ফ্লাইটের ৭২
ঘন্টা আগে নমুনা দিয়ে রিপোর্ট না পেয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন যাত্রীরা। এতে
বাধ্য হয়ে বাতিল করতে হচ্ছে ফ্লাইট। হঠাৎ করে সিলেটের দুই ল্যাবে
ত্রুটিপূর্ণ এমন রিপোর্ট আসতে শুরু করায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরকম সমস্যা সমাধানে ‘জিন এক্সপার্ট আরটি পিসিআর মেশিন’ আনার উদ্যোগ নিয়েছে
স্বাস্থ্য বিভাগ।
গত
চারদিনে ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৫৮ জন বিদেশযাত্রীর
রিপোর্ট আসে ‘ইনডিটারমিনেট’। ফ্লাইটের ৪৮ ঘন্টা আগে ত্রুটিপূর্ণ এমন
রিপোর্ট পাওয়ার পর যাত্রীদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। উপায়ান্তর না পেয়ে
অনেকেই ফ্লাইট বাতিল করেন। তবে জরুরিভাবে গত মঙ্গলবার রাতে কয়েকজনের নমুনা
পুণরায় সংগ্রহ করে রিপোর্ট দেয় ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাব কর্তৃপক্ষ।
তবে
হঠাৎ করে কী কারণে নমুনা পরীক্ষায় এ সমস্যা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে কেউ
কিছু বলতে পারছেন না। কারো ধারণা নমুনা সংগ্রহে সমস্যা থাকায় এরকম সমস্যা
হচ্ছে। আবার কারো ধারণা ল্যাবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও এরকম হতে পারে।
যুক্তরাজ্য
প্রবাসী আকমাম ইসলাম চৌধুরী জানান, ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে তার
ফ্লাইট, কিন্তু মঙ্গলবার তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে লিখে দেওয়া হয়
‘ইনডিটারমিনেট’ বা ‘অনির্দিষ্ট’। ইতোমধ্যে তিনি বিদেশযাত্রার সব প্রস্তুতি
সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ রিপোর্ট আসায় তিনি ফ্লাইট বাতিল করতে
হয়েছে।
এসব বিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন,
‘এখন পর্যন্ত আমরা ১২ থেকে ১৪ হাজারের মতো বিদেশযাত্রীর নমুনা সংগ্রহ
করেছি। কখনও ভুল হয়নি। গত কয়েকদিন দিন ধরে ভুল রিপোর্ট আসছে। নমুনা সংগ্রহে
ভুল হলে আগেও রিপোর্ট ভুল আসত। এখন কী কারণে এটা ঘটছে আমরা এখনও বলতে
পারছি না।।’
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ময়নুল
হক বলেন, ‘আমাদের ল্যাবে এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা
হয়েছে। কখনও এরকম সমস্যা হয়নি। সমস্যা নমুনা সংগ্রহেও হতে পারে, যন্ত্রেরও
হতে পারে।’
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের
সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান, ‘বিদেশযাত্রীদের নমুনা সংগ্রহ করা
হয় সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে। এর আগে কখনো এরকম সমস্যা না হলেও গত
কয়েকদিন থেকে শুধুমাত্র বিদেশযাত্রীদের ক্ষেত্রে হচ্ছে। সমস্যা কোথায় তা
চিহ্নিত করা যায়নি। তবে সমস্যা সমাধানে একটি ‘জিন এক্সপার্ট আরটি পিসিআর
মেশিন’ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একসপ্তাহের মধ্যে মেশিনটি চলে আসার কথা।
তখন কারো নমুনা পরীক্ষা নিয়ে ত্রুটি দেখা দিলে এক ঘন্টার মধ্যে পুণরায়
পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া যাবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুলাই থেকে নির্ধারিত বুথে নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট বিভাগের বিদেশগামীদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে সিলেট এমজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার বিদেশযাত্রীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সুত্র- সিলেটভিউ২৪ডটকম
