জোবায়দা আক্তার জবা:
বাবা তুমি বাড়ি আসো আমি তোমার কোলে যাবো। আজকে না ছুটি হইছে রীপা আপুর
আব্বুও আসছে তুমি আসো। আমি কমলা খাবো, আঙুর খাবো। আর কেক আনবা। মাম শুধু
মারে তুমি আসো বাবা। মুমুর এরকম আবদার শুনে মইন একটু গম্ভীর হয়ে গেল। কিছু
বলতে পারছে না। কিছুসময় পর মুমুকে বলল বাবাই ফোন টা একটু মামের কাছে দাওতো।
মুমু ফোনটা আনিকার হাতে দিয়ে বলল মাম বাবা তোমার সাথে কথা বলবে। তুমি কিন্তু বাবাকে আসতে বলবা। আনিকা ফোন নিয়ে বলল হ্যালো কি হয়েছে ?
মইন কিছু সময় চুপ থেকে বলল আচ্ছা কি করি বলোতো? দেশের এ অবস্থা ট্রেনে চলাচল নিরাপদ নয় তারপর আমি এতদিন অফিসে যাতায়াত করছি আমার শরীর সুস্থ কিনা জানিও না। এসেতো তোমাদের কাছে যেতে পারব না এদিকে মেয়ে কাঁদছে কি করব।
আনিকা একটু মন খারাপের সুরে বলল দেখো চিন্তা করে। আমি কি বলব। সরকার যখন ছুটি দিছে আসতে পারো। আবার আসার পথটা ওতো নিরাপদ নয়। ওখানে একা থাকতে তোমার কষ্ট হবে। আমি কিছু বুঝতে পারছি না।
মইন একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল আমার এমনিতেই শরীর টা একটু ম্যজম্যজ করছে। থাক নিজে একটু কোয়ারেন্টাইনে থাকি। এটা ছুটি নয় এটা বিপদমুক্তির প্রচেষ্টা এতে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। মন খারাপ করো না ইনশাআল্লাহ বেঁচে থাকলে দেখা হবে। তোমরা সাবধানে থেকো। আমি বাজারে ফোন দিয়ে দিব সবকিছু বাসায় দিয়ে যাবে বের হইও না কেউ। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিও। এখন রাখছি পরে আবার কথা হবে।
পরদিন সকালে মুমু বাবাকে ফোন দেয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠল। মা সামনে পহেলা বৈশাখ আমি নতুন জামা কিনব। বাবাকে আনতে বলো। আনিকা ফোনে ডায়াল করল মইনকে। হ্যালো! কেমন আছো?
এইতো ভালো আছি। তোমার মেয়ে কথা বলবে তোমার সাথে। হ্যালো! আমার মুমু মামনিটা কি করছে।
বাবা আমার নতুন জামা লাগবে পহেলা বৈশাখে।
ও এই কথা? আচ্ছা ইনশাআল্লাহ পহেলা বৈশাখ জামা নিয়াসবো মাম্মাটার জন্য।
সত্যি আনবেতো?
হুম অবশ্যই আনবো।
আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে রাখো।
আনিকা ফোন নিয়ে বলল তোমার গলাটা ভারি ভারি শোনাচ্ছে কোনো সমস্যা হয় নিতো?
নাহ! এমনি হয়ত ঘুম থেকে উঠছি তাই। আচ্ছা তোমরা ভালো থেকো আর আমার জন্য দোয়া করো।
এমনি করে টুকটাক কথা চলছিল ওদের কদিন ধরে।
হঠাৎ দশ তারিখ থেকে মইনের ফোন বন্ধ পাচ্ছে আনিকা। উপায় না পেয়ে ওর সিহাবকে ফোন দিল দু'দিন পরে। সিহাব ফোন রিসিভ করে আনিকাকে যা বলল তা শুনে....
আনিকা চিৎকার করে উঠে বলল না!!!এমন হতে পারে না! এসব কেন বলতেছেন?
সিহাব শুধু বলল ভাবি আপনি দোয়া করেন। ভাইকে লাইফ সাপোর্ট নেয়া হইছে। এসময় আল্লাহ ছাড়া কোন গতি নাই। আনিকা পাগলের মতন ছুটোছুটি করছে। ওর শশুর শাশুড়ী সবাই চেষ্টা করছে খবর নেয়ার কিন্তু ও কিছু বলতে পারছে না। পাগল হয়ে গেছে মইনের কাছে পৌঁছানোর কোন রাস্তা নাই। সারাদেশ লকডাউন। এদিকে মইনও চায়নি ওরা তার কাছে যাক।
তাই কোনোভাবে সম্ভব হল না মইনকে দেখা।
ঠিক ১৪ এপ্রিল সকালে মইনের ফোন থেকে একটা টেক্সট আসলো আনিকার ফোনে। ও ভীষণ আনন্দের সাথে ম্যাসেজ পড়তে শুরু করল।
প্রিয় আনিকা। আমাকে ক্ষমা করো। অফিসে এক কলিগের করোনা পজিটিভ ছিল আমরা জানতাম না।
ওনার প্রবাসী ভাই এসছিল কদিন আগে। উনি সাসপেক্টেড হলে আমাদের করেন্টাইন পাঠানো হয়। আমার ডায়বেটিস তাই ঝুঁকি নিয়ে আর বাড়ি আসিনি। তোমরা জানলে দুশ্চিন্তা করতে আমার কাছে চলে আসতে তখন আমার কলিজা পাখিগুলো বিপদে পড়ার ঝুঁকি ছিল। তাই কিছু জানালাম না। যদি সুস্থ হই ফিরে আসবো ইনশাআল্লাহ আর যদি মরে যাই আমার মুমু আর বাবা মাকে নিয়ে তুমি ভালো থেকো। আমার মুমু সোনাটাকে বৈশাখী লালসাদা শাড়ি কিনে দিও। জানি না ও বড় হলে শাড়িতে ওকে ঠিক তোমার মতন সুন্দর লাগবে কি না। খুব ইচ্ছে করছে দেখতে।
আইসোলেশনে যতদিন একা আছি আল্লাহর কাছে সবসময় দোয়া করছি। তিনি যেন আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দেন। যদি কথা রাখতে না পারি ক্ষমা করে দিও। কোনো এক বৈশাখে করোনা মুক্ত দিনে আমার মুমু মাকে নিয়ে আমার কবর জিয়ারত করতে এসো।
এখন আসবা না আমার আদেশ রইল।
ভালো থেকো তোমরা। ভালো থাকুক আমার দেশ ভালো থাকুক পৃথিবী।
মেসেজ সীন করার পর মুমু ডায়ালে চাপ দিল। ওপাশ থেকে সিহাবের কন্ঠে শুনতে পেল ভাবি ফোনটা পরে পাঠিয়ে দিব আমি। ভাই বলে গিয়েছিল এখন না পাঠাতে।
মুমু ফোনটা আনিকার হাতে দিয়ে বলল মাম বাবা তোমার সাথে কথা বলবে। তুমি কিন্তু বাবাকে আসতে বলবা। আনিকা ফোন নিয়ে বলল হ্যালো কি হয়েছে ?
মইন কিছু সময় চুপ থেকে বলল আচ্ছা কি করি বলোতো? দেশের এ অবস্থা ট্রেনে চলাচল নিরাপদ নয় তারপর আমি এতদিন অফিসে যাতায়াত করছি আমার শরীর সুস্থ কিনা জানিও না। এসেতো তোমাদের কাছে যেতে পারব না এদিকে মেয়ে কাঁদছে কি করব।
আনিকা একটু মন খারাপের সুরে বলল দেখো চিন্তা করে। আমি কি বলব। সরকার যখন ছুটি দিছে আসতে পারো। আবার আসার পথটা ওতো নিরাপদ নয়। ওখানে একা থাকতে তোমার কষ্ট হবে। আমি কিছু বুঝতে পারছি না।
মইন একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল আমার এমনিতেই শরীর টা একটু ম্যজম্যজ করছে। থাক নিজে একটু কোয়ারেন্টাইনে থাকি। এটা ছুটি নয় এটা বিপদমুক্তির প্রচেষ্টা এতে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। মন খারাপ করো না ইনশাআল্লাহ বেঁচে থাকলে দেখা হবে। তোমরা সাবধানে থেকো। আমি বাজারে ফোন দিয়ে দিব সবকিছু বাসায় দিয়ে যাবে বের হইও না কেউ। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিও। এখন রাখছি পরে আবার কথা হবে।
পরদিন সকালে মুমু বাবাকে ফোন দেয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠল। মা সামনে পহেলা বৈশাখ আমি নতুন জামা কিনব। বাবাকে আনতে বলো। আনিকা ফোনে ডায়াল করল মইনকে। হ্যালো! কেমন আছো?
এইতো ভালো আছি। তোমার মেয়ে কথা বলবে তোমার সাথে। হ্যালো! আমার মুমু মামনিটা কি করছে।
বাবা আমার নতুন জামা লাগবে পহেলা বৈশাখে।
ও এই কথা? আচ্ছা ইনশাআল্লাহ পহেলা বৈশাখ জামা নিয়াসবো মাম্মাটার জন্য।
সত্যি আনবেতো?
হুম অবশ্যই আনবো।
আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে রাখো।
আনিকা ফোন নিয়ে বলল তোমার গলাটা ভারি ভারি শোনাচ্ছে কোনো সমস্যা হয় নিতো?
নাহ! এমনি হয়ত ঘুম থেকে উঠছি তাই। আচ্ছা তোমরা ভালো থেকো আর আমার জন্য দোয়া করো।
এমনি করে টুকটাক কথা চলছিল ওদের কদিন ধরে।
হঠাৎ দশ তারিখ থেকে মইনের ফোন বন্ধ পাচ্ছে আনিকা। উপায় না পেয়ে ওর সিহাবকে ফোন দিল দু'দিন পরে। সিহাব ফোন রিসিভ করে আনিকাকে যা বলল তা শুনে....
আনিকা চিৎকার করে উঠে বলল না!!!এমন হতে পারে না! এসব কেন বলতেছেন?
সিহাব শুধু বলল ভাবি আপনি দোয়া করেন। ভাইকে লাইফ সাপোর্ট নেয়া হইছে। এসময় আল্লাহ ছাড়া কোন গতি নাই। আনিকা পাগলের মতন ছুটোছুটি করছে। ওর শশুর শাশুড়ী সবাই চেষ্টা করছে খবর নেয়ার কিন্তু ও কিছু বলতে পারছে না। পাগল হয়ে গেছে মইনের কাছে পৌঁছানোর কোন রাস্তা নাই। সারাদেশ লকডাউন। এদিকে মইনও চায়নি ওরা তার কাছে যাক।
তাই কোনোভাবে সম্ভব হল না মইনকে দেখা।
ঠিক ১৪ এপ্রিল সকালে মইনের ফোন থেকে একটা টেক্সট আসলো আনিকার ফোনে। ও ভীষণ আনন্দের সাথে ম্যাসেজ পড়তে শুরু করল।
প্রিয় আনিকা। আমাকে ক্ষমা করো। অফিসে এক কলিগের করোনা পজিটিভ ছিল আমরা জানতাম না।
ওনার প্রবাসী ভাই এসছিল কদিন আগে। উনি সাসপেক্টেড হলে আমাদের করেন্টাইন পাঠানো হয়। আমার ডায়বেটিস তাই ঝুঁকি নিয়ে আর বাড়ি আসিনি। তোমরা জানলে দুশ্চিন্তা করতে আমার কাছে চলে আসতে তখন আমার কলিজা পাখিগুলো বিপদে পড়ার ঝুঁকি ছিল। তাই কিছু জানালাম না। যদি সুস্থ হই ফিরে আসবো ইনশাআল্লাহ আর যদি মরে যাই আমার মুমু আর বাবা মাকে নিয়ে তুমি ভালো থেকো। আমার মুমু সোনাটাকে বৈশাখী লালসাদা শাড়ি কিনে দিও। জানি না ও বড় হলে শাড়িতে ওকে ঠিক তোমার মতন সুন্দর লাগবে কি না। খুব ইচ্ছে করছে দেখতে।
আইসোলেশনে যতদিন একা আছি আল্লাহর কাছে সবসময় দোয়া করছি। তিনি যেন আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দেন। যদি কথা রাখতে না পারি ক্ষমা করে দিও। কোনো এক বৈশাখে করোনা মুক্ত দিনে আমার মুমু মাকে নিয়ে আমার কবর জিয়ারত করতে এসো।
এখন আসবা না আমার আদেশ রইল।
ভালো থেকো তোমরা। ভালো থাকুক আমার দেশ ভালো থাকুক পৃথিবী।
মেসেজ সীন করার পর মুমু ডায়ালে চাপ দিল। ওপাশ থেকে সিহাবের কন্ঠে শুনতে পেল ভাবি ফোনটা পরে পাঠিয়ে দিব আমি। ভাই বলে গিয়েছিল এখন না পাঠাতে।
