অনলাইন ডেস্কঃ নাটোরের সিংড়ার উপজেলার সোনাপুর পমগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা দিয়েছে সাপ আতঙ্ক। কয়েকদিন ধরে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে, বাইরে, বারান্দায়, টেবিল-বেঞ্চের নিচে এমনকি শিক্ষকদের কক্ষ থেকে আচমকা বের হচ্ছে ছোট-বড় সাপ। গত বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ৩০টি সাপ বের হয়েছে বিদ্যালয় থেকে। এ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম চলছে স্কুলের বারান্দায়। সাপের ভয়ে অনেক শিশু ক্লাসে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। যারা আসছে, তারা সাপের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে ক্লাস চলার সময় পালা করে লাঠি, বাঁশ ও লোহার পাইপ হাতে পাহারা দিচ্ছে। শুধু বিষধর সাপের উপদ্রপই নয়, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শুয়ো পোকা, গুই সাপসহ বিষাক্ত পোকামাকড়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শুয়ো পোকার অত্যাচারে অতিষ্ঠ।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাস শুরুর ঠিক আগেই প্রথম শ্রেণির কক্ষের সামনে দুটি সাপ মেরে ফেলে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির কক্ষে ক্লাস চলাকালে দরজায় লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র। তার মতো পালাক্রমে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ পাহারা দিচ্ছে অন্য ছাত্ররা। মারুফ নামে এক ছাত্র জানায়, গত তিন দিনে তারা ৩০টি সাপ মেরেছে। সাপগুলো কোনদিক দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকছে তা বুঝা যাচ্ছে না। পঞ্চম শ্রেণির বিলকিস, সুমাইয়া, মিথিলা জানায়, প্রতিদিনই স্কুলে সাপ দেখছে তারা। ভয়ে অনেকে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রমজান আলী জানান, সাপের উপদ্রপে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই আতঙ্কিত। শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে স্কুল বন্ধের উপক্রম হবে। প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম জানান, সাপের উপদ্রপের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। সিংড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের দাবি, তিনি বিষয়টি জানেন না। সাপের উপদ্রপ রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস তিনি দিয়ে বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনে স্কুলটি বন্ধ রাখা হবে।’
