অনলাইন ডেস্কঃ ‘মা বাবা আমাকে ক্ষমা করো, তোদেরকে ছেড়ে চলে গেলাম আমার ভালোবাসার কারণে! আমার ভালোবাসার নাম কামরুল হাসান লালন। বাড়ি মুকুলের ডাঙ্গা ভাটিয়া পাড়া। ইতি, তোমাদের মেয়ে -ফজলী আক্তার রিয়া মনি।’
প্রেমে প্রতারিত হয়ে এমনি সুইসাইড নোট লিখে রেখে কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেছে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী । আর এমন ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়।
রোববার পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলার হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়ার ভাটিয়া পাড়ার গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফজলী আক্তার (১৭) ওই এলাকার ফজল ইসলামের মেয়ে ও উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই মহিলা মহাবিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ।
নিহতের মা হালিমা খাতুন জানান, শনিবার মেয়ে ফজলীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ক্ষেতে মরিচ তুলছিলেন । বিকালে মাকে ক্ষেতে রেখেই মেয়ে নামাজ পড়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে এসে কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হক ভুইয়া ।
তবে মেয়েটির সুইসাইড নোট ও মোবাইলফোনের কল রেকর্ড সূত্রে জানা গেছে, একই ইউনিয়নের মুকুলের ডাঙ্গার বিবাহিত প্রতারক কামরুল হাসান লালন বিয়ের কথা গোপন রেখে দীর্ঘদিন আগে ওই ছাত্রীটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে ছাত্রীটি ওই প্রতারকের স্ত্রী সন্তান রয়েছে জানতে পেরে ঘটনার সত্যতা তার কাছে জানতে চাইলে সে বিষয়টি এড়িয়ে যায়।
সেখান থেকে প্রেমে প্রতারিত হওয়ার পর ছাত্রীটি হতাশাগ্রস্থ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেচে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেএলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি।
