অনলাইন ডেস্কঃ অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধীদের অবজ্ঞা না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সুযোগ পেলে তারাও দেশের জন্য ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সুস্থ খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে স্বর্ণ নিয়ে আসতে পারে না, কিন্তু প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়রা বিদেশ থেকে দেশের জন্য স্বর্ণ জিতে নিয়ে আসে। এদের সুপ্ত প্রতিভা আছে। তাদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারলে তারা আমাদের সম্পদ হবে। তাই তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
সোমবার (২ এপ্রিল) বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিশুরা পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপেটক থেকে পাঠ করেন। প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিশুদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ইসাফা হাফিজ সুষমী।
‘সাভারে ২৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিবন্ধী ক্রীড়া কমপ্লেক্স গড়ে তুলেছে সরকার’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণেও তাদের খেলার জন্য জায়গার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এক লাখ ২৫ হাজার প্রতিবন্ধীকে ভাতা দিচ্ছি। প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হয়েছে।’ এ সময় অটিস্টিক শিশুদের প্রতিভা বিকাশে দেশের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
‘সমাজে সুস্থ্য মেয়ে হলেই অনেক বাবা মা বোঝা মনে করে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর প্রতিবন্ধী বা অটিজম শিশু হলে তো কোনো কথাই নাই। প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হলে দোষ দেয়া হয় স্ত্রীকে, যেন সব দোষ তার। আল্লাহ সবাইকে সমানভাবে তৈরি করেন না। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সকলেরই সদয় হতে হবে। তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করলে তারাও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবাদান রাখতে পারে।’
অটিজম বিষয়ে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অটিজমের ওপর একটা রেজ্যুলেশনও গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ। শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী একটা সচেতনতা শুরু হয়েছে। আমাদের দেশেও অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন লোকদের জন্য প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটা কমপ্লেক্স তৈরি করতে চাই। মৃত্যু পর্যন্ত অটিস্টিক হয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এখানে। সূচনা ফাউন্ডেশন নামে একটি ফাউন্ডেশনও করে দিয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।’
প্রসঙ্গত, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এবার ২ এপ্রিল ১১তম ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘নারী ও বালিকাদের ক্ষমতায়ন, হোক না তারা অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন’। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল অটিস্টিক ব্যক্তি, শিশু-কিশোর, তাদের পরিবার ও পরিচর্যাকারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
