এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর হামলায় ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ সদস্য গ্রেফতার

এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর হামলায় ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ সদস্য গ্রেফতার


হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলের মিরপুরে সংরক্ষিত নারী এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর হামলা-মামলায় বাহুবল উপজেলার নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া ও জেলা পরিষদের সদস্য আলাউর রহমান শাহেদকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে হবিগঞ্জের একদল ডিবি পুলিশ ও ঢাকা ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় ঢাকার কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী অফিসার শাহ আলম তাদেরকে আটকের কথা স্বীকার করে জানান, পুলিশেল বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদেরকে ঢাকার কদমতলী এলাকার একটি বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ১০ নভেম্বর শুক্রবার বিকেলে বাহুবল উপজেলার মিরপুর বেদে পল্লীতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে সরকারী সহযোগিতা প্রদানের লক্ষে এমপি কেয়া চৌধুরীর একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে স্থানীয় প্রশাসন। অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষন পর মোবাইলে ছবি তোলাকেকেন্দ্র করে বাহুবল উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ তারা মিয়ার এক সমর্থকের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে উত্তেজিত সমর্থকরা অনুষ্ঠানস্থলে হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয় এমপিকে অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছিত করে তারা মিয়ার সমর্থকরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এমপি কেয়া চৌধুরীর অনুসারীরা ঘটনাস্থলে পৌছলে দু’গ্র“পের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘটনার পর তাৎক্ষনিকভাবেমিরপুর বাজারে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে কেয়া চৌধুরীর সমর্থকরা। তখন বক্তৃতা দিতে মঞ্চে দাড়ান কেয়া চৌধুরী। এক পর্যায়ে বক্তৃতারত অবস্থায় তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সাথে সাথে তাকে প্রথমে বাহুবল উপজেলা হাসপাতাল ও পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা মহিলালীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাহেলা আক্তার ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি তৈয়ব আলী আহত হন। আহত আওয়ামীলীগ নেতা তৈয়ব আলীকে বাহুবল উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাদেয়া হয়েছে এবং মহিলালীগ নেত্রী রাহেলা আক্তারকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। রাতে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে সিলেট মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অপর দিকে এ ঘটনার পর মিরপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে র‌্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে উত্তেজিত সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঘটনার পর দিন থেকে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে উত্তাল হয়ে পড়ে বাহুবল বাসি। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে এমপি কেয়া চৌধুরী’র সমর্থকরা।

এ ঘটনায় ১৮ নভেম্বর এ ঘটনায় বাহুবল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার লামাতাসী ইউনিয়নের সদস্য ও মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী পারভিন আক্তার। মামলায় ভাইস-চেয়ারম্যান মোঃ তারা মিয়া, উপজেলা পরিষদের সদস্য আলাউর রহমান সাহেদ ও তারা মিয়ার গাড়ি চালক মোঃ জসিম উদ্দিনকে আসামী করা হয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post