অনলাইন ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, এমপি বলেছেন, 'দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখার স্বার্থে আবারো নৌকায় ভোট দিতে হবে। ' তিনি বলেন, 'সরকারের একার পক্ষে সার্বিক উন্নয়ন অসম্ভব।
এ ক্ষেত্রে এসকেএস'র মতো সংগঠনগুলো বড় ভূমিকা রাখতে পারে। '
আজ শুক্রবার সকালে গাইবান্ধা শহরের রাধা কৃষ্ণপুরে বেসরকারি সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার। এসকেএস'র চেয়ারম্যান মো. আয়ুব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, এমপি ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল, পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক প্রামাণিক, একশন এইড'র কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির প্রমুখ।
এর আগে বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির ৩০ বছর পূর্তিতে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে ফুল দিয়ে ও উত্তরীয় পরিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অশোক কুমার সিনহাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। আর উদ্দীপনা স্মারক দেওয়া হয় তাইফুল কাদের তপু ও শান্তা সূত্রধরকে। বিকেলে এসকেএস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
সন্ধ্যায় ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, 'স্বাধীনতাবিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ। তারা উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তারা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে মোকাবেলা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ' সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি মাহবুব আরা গিনি বলেন, 'পিছিয়েপড়া গাইবান্ধা জেলাকে সমৃদ্ধ করতে এসকেএস অসামান্য অবদান রেখেছে। এ কারণে মঙ্গাপীড়িত এই জেলার মানুষ এখন স্বচ্ছল। সাধারণ মানুষের সেবায় এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। '
আরেক বিশেষ অতিথি কাজী খলীকুজ্জামান, উন্নত চিন্তা ও বৃহত্তর লক্ষ্য যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সঠিক নেতৃত্বও গুরুত্বপূর্ণ। সেসব বিষয়গুলো এসকেএস ধারণ করছে বলেই তারা গাইবান্ধায় সুপ্রতিষ্ঠিত। তাই সব প্রতিষ্ঠানকে ক্ষুদ্র চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পুরনো ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন চিন্তা চেতনা নিয়ে এনজিও'র কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এসকেএস'র শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যরা। তারা বলেন, নদীভাঙন কবলিত গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী হাটকে কেন্দ্র করেই তার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। একটি প্রভাবশালী মহল সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করত হাটকে কবজায় রেখে। এসব অন্যায়-অনাচারের প্রতিবাদে এ এলাকায় প্রথম প্রতিবাদমুখর হন কিশোর রাসেল আহম্মেদ লিটন। তার নেতৃত্বে ১৯৮৭ সালে ভরতখালী হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জনপদকে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন কিছু সাহসী তরুণ-তরুণী। তাদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা সফল প্রতিষ্ঠানই এসকেএস।
এ বিষয়ে এসকেএস ফাউন্ডেশন'র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান রাসেল আহম্মেদ লিটন জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে কর্মকৌশল প্রণয়নের মাধ্যমে সেক্টরভিত্তিক অগ্রগতি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বায়ন ও জাতীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এসকেএস ফাউন্ডেশন তার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাতিষ্ঠানিক সেবা প্রদান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এসকেএস হাসপাতাল, এসকেএস ইন্, এসকেএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কমিউনিটি রেডিও সারাবেলা ৯৮.৮-এর মতো প্রতিষ্ঠানসমূহ গড়ে তোলা হয়েছে।
টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট-এসডিজি'র লক্ষ্যসমূহ অর্জনে এসকেএস ফাউন্ডেশন এর প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সরকারকে সহায়তা করতে ধারাবাহিকতা কর্মসূচি পালন করছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানস্থলে কথা হয় এসকেএস ফাউন্ডেশন'র চেয়ারম্যান মো. আয়ুব আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী প্রত্যন্ত গ্রামে ১৯৮৭ সালের পহেলা ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত একটি ক্ষুদ্র সংগঠনকে পরিপূর্ণ বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনে রূপ দেওয়াই ছিল আমাদের স্বপ্ন। দরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত সমাজে পিছিয়েপড়া মানুষের সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানো ও আর্থিক সচ্ছল করে তোলা ছিল আমাদের অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার পূরণে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন প্রচেষ্টায় এসকেএস ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে। ' তিনি আগামীর পথচলায় ফেলে আসা দিনগুলোর মতোই সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৮৭ সালের পহেলা ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত 'হাটভরতখালী সমাজ কল্যাণ সমিতি' নামে ক্ষুদ্র সংগঠন বিকশিত হয়ে 'এসকেএস ফাউন্ডেশন'-এ রূপ নিয়েছে। আর দীর্ঘ ৩০ বছরের পথ পরিক্রমায় নানা চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়ে এটি পরিণত হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে। উত্তর জনপদের বিভিন্ন উন্নয়ন ইস্যু নিয়ে কাজের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য এবং টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রেখে চলেছে।
