অনলাইন ডেস্কঃ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাচ্ছেন বাংলাদেশি দুই নারী পাইলট। তারা হলেন- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই-লুৎফী।
বৃহস্পতিবার রাতে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের উদ্দেশে তারা বাংলাদেশ ছাড়বেন। এক বছর মেয়াদে তারা মিশনে অন্যদের কাজে সহায়তা করবেন।
সোমবার দুপুরে শেষবারের মতো নিজেদের সক্ষমতার পরীক্ষা দেন দুই নারী পাইলট। ঢাকা সেনানিবাসে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বাশার থেকে হেলিকপ্টার নিয়ে উড্ডয়নের পর নানা মহড়া শেষে নিরাপদে অবতরণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন লেফটেন্যান্ট নাইমা ও লেফটেন্যান্ট তামান্না।
এ সময় তাদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এ ঘটনা মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমরা কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দুর্গম ও ভিন্ন পরিবেশের কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।’
বিদেশ-বিভূঁইয়ে পাইলট হিসেবে মিশনে যাওয়া নিয়ে স্বজনদের প্রতিক্রিয়া কেমন- এমন প্রশ্নের উত্তরে নাইমা হক বলেন, ‘স্বজনদের নার্ভাসনেস তো থাকবেই। তবে পরিবারের সদস্যরাও তার চ্যালেঞ্জিং পেশা নিয়ে গর্বিত। তারা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন।’
সাবেক কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হক ও গৃহিণী নাসরীন বেগমের মেয়ে নাইমা হক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হিসেবে ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর কমিশন লাভ করেন। এর আগে ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারিতে তিনি ক্যাডেট হিসেবে প্রশিক্ষণ শুরু করেন।
হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস থেকে তিনি বিএসসি করেন।
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই-লুৎফী বলেন, বিমানবাহিনীতে বর্তমানে তারা তিন কর্মকর্তা হেলিকপ্টার ফ্লাই করছেন। তিন কর্মকর্তা রয়েছেন ট্রান্সপোর্টে। আরও কিছু নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, গত ১৪ বছর ধরে বিমানবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করে আসছে। আর গত ৭ বছর বিমানবাহিনীর নারী সদস্যরা শান্তিরক্ষী মিশনে কাজ করছেন।
আইএসপিআর আরও জানায়, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তিনটি কন্টিনজেন্টে বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৩৫৮ শান্তিরক্ষী কাজ করছেন।
প্রতিস্থাপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩০ নভেম্বর বিমানবাহিনীর ১১৫ সদস্য কঙ্গোর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। কন্টিনজেন্টের অন্য সদস্যরা ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কঙ্গোর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।
এর মধ্যে প্রথমবারের মতো দু’জন নারী পাইলটও শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিচ্ছেন। এ দু’জন নারী পাইলট ঢাকা ছাড়বেন ৭ ডিসেম্বর।
