মা-ছেলে মেয়ে রহস্যজনক মৃত্যুতে, আটক ৩

মা-ছেলে মেয়ে রহস্যজনক মৃত্যুতে, আটক ৩

স্টাফ রিপোর্টারঃ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় একঘরে রহস্যজনক তিন জনের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৯ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত গৃহবধুর চাচাত ভাই ইমরান আলী বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলা দায়ের পরপরই তিন মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ।

আককৃতরা হলেন- নাসির (২৪), আলি জান (৪২) মনোয়ারা (৫২)।

আটক এবং মামলার বিষয় নিশ্চিত করে এডিশনাল এসপি (কুলাউড়া সার্কেল) আবু ইউছুফ জানান, ঘর নির্মাণ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিলো। এ সূত্র থেকে হত্যা কাণ্ডা ঘটতে পারে। তবে আরও নিখুঁতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালে  এক ঘর দুই শিশুসহ এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হচ্ছেন- কাতারপ্রবাসী আকামত আলীর স্ত্রী মাজেদা বেগম (২৫), মেয়ে লাবনী বেগম (৫) ও ছেলে ফারুক মিয়া (৩)। মঙ্গলবার বিকালে মা ও মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় ও শিশু-পুত্রকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এসময় দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল বলে জানান তারা।

মৌলভীবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো. আবু ইউছুফ বলেন, ‘আমরা এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলিনি, রহস্যজনক মৃত্যু মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে নিহতের প্রতিবেশি তিন মহিলাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র বা পারিবারিক বিরোধ রয়েছে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের স্বামী আকামত আলী কাতার থেকে আজ-কালের মধ্যে দেশে আসছেন। আমার সঙ্গে ইতোমধ্যে ফোনে কথা হয়েছে তার।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কাতারপ্রবাসী আকামত আলীর স্ত্রী নিহত মাজেদা প্রতিদিন বাড়ির প্রায় একশ’ গজ দুরের নির্মাণাধীন ঘর নির্মাণকাজ তদারকি করেন। প্রতিদিনই তিনি মিস্ত্রিদের সহযোগিতা করতেন । মঙ্গলবারও তিনি বসতবাড়ি ও নির্মাণাধীন ঘরের স্থানে যাওয়া-আসা করছিলেন। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে দিবাংশু নামের এক মিস্ত্রি সিমেন্ট নিতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখেন। এরপর ডাকাডাকি করেও দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে মাজেদাসহ মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে লোকজনকে জানান।

খবর পেয়ে ওয়ার্ড মেম্বার মাসুক আহমদ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোক্তার আলী পুলিশে খবর দেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের ঝুলন্ত লাশ ও মেঝে থেকে শিশুপুত্রের লাশ উদ্ধার করে।

Post a Comment

Previous Post Next Post