জমি উদ্ধারে মাঠে নামবে ভূমি মন্ত্রণালয়

জমি উদ্ধারে মাঠে নামবে ভূমি মন্ত্রণালয়


অনলাইন ডেস্ক:  আবাদযোগ্য কৃষি ও অকৃষি লাখ লাখ একর সরকারি জমির বেশির ভাগের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। এসব সরকারি জমি উদ্ধারে মাঠে নামবে ভূমি মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, জেলা-উপজেলায় এমনকি মহানগরীগুলোতে প্রভাবশালীরা ভোগ করছেন এসব জমি। অথচ উপকূলীয় জেলার বেড়িবাঁধ ও মহানগরীর বস্তিতে লাখ লাখ ভূমিহীন মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ ও ভারসাম্য। সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখার ক্ষেত্রে সমাজপতিদের সঙ্গে ভূমি প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এ বিষয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, খাসজমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। তা অনুসরণ করে বন্দোবস্ত দেয়া হচ্ছে। তবে খাসজমি ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং তা নিয়ে নতুন করে কিছু ভাবার কাজটি আমলারা করতে পারেন না। সরকারি সিদ্ধান্ত ও সদিচ্ছা না থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কী করতে পারেন? খাস জমি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে স্বীকার করেন তারা।

অপরদিকে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী সরকারি জমি পুঁজি করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরের বাইরেও নয়। প্রতি মাসেই বিভাগীয় কমিশনারদের মাসিক সমন্বয় সভায় জবরদখলে থাকা খাস জমি উদ্ধারের জন্য তাগিদ দেয়া হচ্ছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে কৃষি খাসজমির পরিমাণ ২০ লাখ ৫০ হাজার একর। তার মধ্যে ৫ লাখ ৫০ হাজার একর জমি বন্দোবস্তযোগ্য। বাকি ১৫ লাখ একর জমি বন্দোবস্তযোগ্য নয়। এ পরিসংখ্যান কতটা যুক্তিসংগত তা নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় কৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রশ্ন তুলেছেন একজন এমপি। এমপি আবু জাহিরের প্রশ্ন ছিল ১৫ লাখ একর জমি চাষযোগ্য নয় কেন?
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. নাজমায়ারা খানম জবাবে জানান, বন্দোবস্ত অযোগ্য জমি হচ্ছে, হালট, বিল, বাঁওড়, জঙ্গল, নদী, নালা শ্রেণিভুক্ত। প্রশ্ন হচ্ছে ওই শ্রেণীর জমি কৃষি জমি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে কেন? ওই ধরনের জমির জন্য তো আলাদা শ্রেণী করা যায়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রকৃত কৃষি খাস জমির চিত্র পাওয়া যাবে না। কারণ এর সঙ্গে ভূমি প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে জবরদখলকারীদের নিবিড় ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। উপড়ির একটা বড় ক্ষেত্র হচ্ছে কৃষি খাস জমি। সভায় জবরদখলের কথাও উঠেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কারা কীভাবে জবরদখল করে। তার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

সভায় কৃষকলীগের সভাপতি বলেন, প্রকৃত কৃষক খাসজমি বন্দোবস্ত পায় না। কৃষকের নামে প্রভাবশালীরা কৌশলে বন্দোবস্ত নিয়ে তারাই ভোগ করছেন। তার প্রস্তাব স্থায়ী বন্দোবস্ত না দিয়ে একসনা বন্দোবস্ত দেয়া হোক। একজন এমপি উপজেলা পর্যায়ে কৃষি জমিতে একটি করে স্টেডিয়াম তৈরির প্রস্তাব করেন সভায়।
ভূমি মন্ত্রণালয় হিসেবে অকৃষি খাস জমির পরিমাণ ৬ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৮ একর। সব মিলিয়ে কৃষি ও অকৃষি খাস জমির পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ একর। বন্দোবস্তযোগ্য অকৃষি খাস জমির পরিমাণ ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩৩ একর। সব মিলিয়ে বন্দোবস্তযোগ্য কৃষি ও অকৃষি খাস জমির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার একর। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষকে যেমন ভূমিহীন করে রাখা হয়েছে, তেমনিভাবে সরকারি সম্পত্তি ভোগের একক সুযোগ পাওয়ায় এক শ্রেণীর মানুষ রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন।

সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার একর অকৃষি খাস জমি প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মূল্যবান সরকারি সম্পত্তি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই সরকারি কর্মকর্তাদের যথাযথ ভূমিকার অভাবে মামলায় সরকার হেরে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভূমি প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরকারের চেয়ে প্রভাবশালীদের স্বার্থ দেখছেন।

জানা যায়, সরকারি খাস জমি অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর ধরে ভোগ করছেন। চরাঞ্চলের আবাদযোগ্য ধানের জমি ও তারা ভোগ করছেন। স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউএনও, এডিসিল্যান্ড এবং ডিসিরা দখলদারদের সহযোগী। যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে, তারাই খাস জমি ভোগদখলে রাখেন।

দেখা গেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভূমি প্রশাসনের উল্লিখিত ব্যক্তিরা ভূমিহীন কৃষকের কাছ থেকে প্রতি বছর একর প্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা নিয়ে তাকে জমি চাষাবাদ করতে দিচ্ছেন। ওই কৃষকের কাছ থেকে টাকা আদায়ের দায়িত্বে থাকেন ক্ষমতাসীন দলের কোনো ক্যাডার কিংবা স্থানীয় ইউপি কিংবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।

Post a Comment

Previous Post Next Post