বিয়ানীবাজারে যুবক খুনের ঘটনায় আটক ২, বিক্ষোভ, জানাজা আজ

বিয়ানীবাজারে যুবক খুনের ঘটনায় আটক ২, বিক্ষোভ, জানাজা আজ
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে দিবালোকে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দক্ষিণবাজারস্থ মোকাম রোডে ছুরিকাঘাতে আনোয়ার হোসেন (২৪) নিহতের ঘটনায় দু’জনকে আটক করেছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলো, পৌর শহরের খাসা গ্রামের বাসিন্দা আজাদ উদ্দিন (৪৫) ও পাভেল আহমদ (২২)। তারা উভয়েই ঘটনার মূল অভিযুক্ত সায়েল আহমদের পরিবারের সদস্য বলে জানায় পুলিশ। এদিকে এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে নিহত আনোয়ারের এলাকাবাসী গতকাল সন্ধ্যার পর পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে তাদের ফাঁসীর দাবী জানান। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, শনিবার দুপুরে আনোয়ার মোকাম মসজিদের কাছে একটি পান দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় এক যুবক এসে তাকে ছুরিকাঘাত করলে আনোয়ার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার সরকারী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আনোয়ার মারা যায়। এদিকে আনোয়ার নিহতের সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী স্থানীয় দক্ষিন বিয়ানীবাজারে ব্যারিকেড দেন। এ সময় টায়ারে লাগুন জ্বালীয়ে তারা সড়ক অবরোধ করে হত্যাকারীকে গ্রেফতারের দাবী জানান।  পরে উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তারা অবরোধ তুলে নেন। সন্ধ্যার পর এলাকাবাসী আবারো এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ও আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের ফাঁসীর দাবী জানান। নিহত আনোয়ার হোসেন (২৪) পৌর এলাকার সুপাতলা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ও ফ্রান্স আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন’র ছোট ভাই। পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট মর্গে প্রেরণ করেছে। আজ সকাল ১০টায় নিহত আনোয়ারের জানাজা সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। 

অপর একটি সূত্র জানায়, প্রায় দেড় বছর পূর্বে পৌরশহরের মোকাম রোড এলাকায় একটি চায়ের স্টলে চা পান করতে যান আনোয়ার হোসেন। সেখানে পূর্ব থেকে বসা খাসা গ্রামের পংকি মিয়ার পুত্র সায়েল আহমদ (২৩) এর সাথে কথা কাঁটাকাটি হয় তার। স্টল মালিক ও অন্যান্যরা বিষয়টি সাময়িক নিষ্পত্তি করে দিলেও পরবর্তীতে আনোয়ার ও সায়েলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এঘটনায় গুরুতর আহত হন সায়েল। তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে। এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় মামলা হলে পরে তা সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি হয়। মূলত এসব কারণে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত সায়েল ও তাঁর পিতা আজির মার্কেটের কাঁচামাল ব্যবসায়ী পংকি মিয়া পলাতক রয়েছেন। 

সার্বিক বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (জকিগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাক সরকার জানান, নিহতের ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা মূল অভিযুক্ত সায়েলের পরিবারের সদস্য। তবে সায়েল আহমদ ও তার পিতা পংকি মিয়া পলাতক রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয় নি। 

Post a Comment

Previous Post Next Post