পর্যটকদের ঢল নেমেছে মিরসরাইয়ে

অনলাইন ডেস্কঃ এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে ঝর্ণা নগরী! মিরসরাইয়ে। ঈদের দিন বিকেল থেকে শুরু করে শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাজার হাজার পর্যটকের পদচারনায় মুখর ৫টি পাহাড়ি প্রাকৃতিক ঝর্ণা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমন পিপাসু মানুষরা। এবারের ঈদে লম্বা ছুটি পাওয়ায় গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি পর্যটক এসেছেন এখানে।

এর মধ্যে বেশি পর্যটক ভিড় করছে আট স্তর বিশিষ্ট জলপ্রপাত খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নয়দুয়ারিয়া নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ও বড়কমলদহ রূপসী ঝর্ণায়। এছাড়া ওয়াহেদপুর হরিণ মারা ঝর্ণা ও মহামায়া ঝর্ণায়ও ভিড় করছেন পর্যটকরা। আবহাওয়া ভালো থাকায় ঈদের দিন বিকেল থেকে হাজারো পর্যটক উপস্থিত হয়েছে এসব পর্যটন স্পটে। দেশের ২য় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া ও সেচ প্রকল্প মুহুরী প্রজেক্টেও ঢল নেমেছে পর্যটকদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন পর্যটন স্পটের সড়কের মাথায় দাড়িতে রয়েছে বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রো, হাইচ সহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি। পর্যটকরা কেউ ব্যক্তিগত আর কেউ ভাড়া নিয়ে ছুটে এসেছেন এখানে। খৈয়াছড়া ঝর্ণায় যাওয়ার সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতো বেশি গাড়ি সড়কে প্রবেশ করেছে তাতে যানজট তো সৃষ্টি হবেই। সবার গন্তব্য ঝর্ণায় ধারায়। স্থানীয় গাইডরা পর্যটকদের সহযোগীতা করছে। তারা পাহাড়ের পাদদেশ অপেক্ষা করে পর্যটকদের জন্য। বিভিন্ন পর্যটক গ্রুপ সাথে গাইড নিয়ে যায়। তাদের ২শ থেকে ৩শ টাকা দিতে হয়।

গাজীপুর থেকে খৈয়াছড়া ঝর্ণায় ঘুরতে এসেছেন সাইফুল, মেহেদী, রাজু, নকিবসহ ৭ বন্ধু। স্যোসাল মিডিয়া ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম তারা জানতে পারেন মিরসরাইয়ে অনেকগুলো পর্যটন স্পটের বিষয়টি অবগত হয়েছেন। তাই তারা ছুটে ছুটে এসেছেন আনন্দ উপভোগ করতে। প্রথমে খৈয়াছড়া ঝর্ণা, তারপর মহামায়া ও সর্বশেষ মুহুরী প্রজেক্টে ঘুরেছেন তারা।

যে ঝর্ণার অপরূপ সৌন্দর্য থেকে চোখ ফেরানো যায় না সহজে। প্রকৃতির অপূর্ব এক সৃষ্টি খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, হরিন মারা, রূপসী বুনো ঝর্ণাধারা। ইতোমধ্যে অনেক দেশী-বিদেশী পর্যটক বিমুগ্ধ হয়ে বলেছেন, মাধবকুন্ডকে ছাড়িয়ে দৈর্ঘ্য-প্রস্থসহ পানির লেবেল এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্রে খৈয়াছড়াই দেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণা।

অন্যান্য পর্যটন স্পট থেকেও ঝর্ণার প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ অনেক বেশি। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু বান্ধব নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ছুটছেন তারা। দেখা গেছে প্রতিবারের চেয়ে এবার আরো বেশি মানুষ ভিড় করছে অপরূপ সৌন্দর্যের আট স্তর বিশিষ্ট খৈয়াছড়া ঝর্ণায়। বড়তাকিয়ায় খৈয়াছড়া সড়কে ঈদের দিন থেকে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মিরসরাই উপজেলা ছাড়াও ঝর্ণার পানিতে নিজের গা ভাসিয়ে দিতে দূর-দুরান্ত থেকে ছুটে এসেছে অনেক আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। নান্দনিক তুলিতে আঁকা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছে দেশের ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ।

এবার পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ ছিলো বড়কমলদহ রূপসী ঝর্ণা। এই ঝর্নার আবিস্কার হয়েছে খুব বেশি দেরি হয়নি। তাই এখানে ছুটছেন পর্যটকরা। তাছাড়া উপজেলার অন্যান্য ঝর্ণার চেয়ে এই ঝর্ণার যাওয়ার পথ অনেক সহজ এবং দুরত্বও কম। রূপসী ঝর্ণায় এবারের ঈদে ঘুরতে আসেন চট্টগ্রাম শহরের ব্যবসায়ী হাসান আলী। তিনি বলেন, প্রতি বছর ঈদে আমি বিভিন্ন পর্যটন স্পটে বেড়াতে যায়। এবার আমার স্ত্রীকে নিয়ে রূপসী ঝর্নায় এসেছি। সত্যি অনেক সুন্দর। ঝর্ণার পানিতে শরীর ভেজাতে অনেক ভালো লাগে। এতো চমৎকার জায়গা আমি আর দেখিনি।

খেয়াছড়া ঝর্ণায় ঘুরতে যাওয়া তিন বন্ধু তৌহিদ, বাবু, পারভেজ বলেন, আমরা এখানকার মানুষ হয়েও ব্যস্ততার কারণে আসা হয়নি। এবার ঈদে সব বন্ধুরা মিলে খৈয়াছড়া ঝর্ণায় এসেছি। অনেক ভালো লাগছে। সারাদিন সবাই অনেক মজা করেছি। আপসোস হচ্ছে বাড়ির পাশে এমন নান্দনিক অপরূপ ঝর্ণা থাকার পরও আগে কেন আসলাম না।

প্রকৃতির আরেক নাম মুহুরী। যেখানে আছে আলো-আঁধারির খেলা। আছে জীবন-জীবিকার নানা চিত্র। মুহুরীর চর, যেন মিরসরাইয়ের ভেতর আরেক মিরসরাই। অন্তহীন চরে ছোট ছোট প্রকল্প। এপারে মিরসরাই, ওপারে সোনাগাজী। ৪০ দরজার রেগুলেটরের শোঁ শোঁ আওয়াজ শোনা যায় দূর থেকে। পশ্চিমে মৎস্য আহরণের খেলা, আর পূর্বে মন কাড়ানিয়া প্রকৃতি। নুয়ে পড়া মনোবল জেগে উঠবে পূবের জেগে ওঠা চরে। ডিঙি নৌকায় ভর করে কিছুদূর যেতেই দেখা মিলবে সাদা সাদা বক। এখানে ভিড় করে সুদূরের বিদেশী পাখি, অতিথি পাখি বলেই অত্যধিক পরিচিত এরা। চিকচিকে বালিতে জল আর রোদের খেলা চলে সারাক্ষণ। সামনে পেছনে, ডানে-বামে কেবল সৌন্দর্য আর সুন্দরের ছড়াছড়ি। এ অবস্থায় মন আঁধারে ঢেকে যেতে পারে, যদি ক্যামেরা সঙ্গে না থাকে। মুহুরীর প্রকৃতির ছোঁয়ায় উদ্ভাসিত স্মৃতিরা যেন হারিয়ে যাওয়ার নয়। এসব ক্যামেরার ফিল্মে আটকে রাখার মত হাজার বছর ধরে। এখানে প্রতিদিনই ভিড় করছে শত শত পর্যটক।

নয়নাবিরাম প্রাকৃতিক আরেক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাওয়াছড়া সেচ প্রকল্প ও হরিণ মারা ঝর্ণা। সবুজ শ্যামল পাহাড়িয়া লেকে পাখিদের কলতানে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার প্রাণ জুড়িয়ে যাবে।ঈদের ছুটিতে ভ্রমন পিপাসু মানুষরা ছুটছেন সেখানে।

Post a Comment

Previous Post Next Post