স্পোর্টস ডেস্কঃ
রাজধানীর মতো দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামেও ঈদের ছুটির আমেজ
পরিষ্কার। রাস্তা ঘাটে ‘গাড়ি ঘোড়া’কম। বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ। নগরের
অন্যতম ব্যস্ত সড়কগুলোয় প্রাণ চাঞ্চল্য নেই বললেই চলে। সঙ্গে বৃষ্টি যোগ
হওয়ায় শহর প্রায় কোলাহল শূন্য।
এমন কোলাহল শূন্য নগরে কারও সঙ্গে সামনা-সামনি আলাপে কুশল ও সৌজন্য বিনিময়ের পর এখন দুটি বিষয় সবার মুখে মুখে।
একটি
রোহিঙ্গা ইস্যু। আহত রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন। তা দেখে মানবিক কারণে চট্টগ্রামবাসীর সহানুভূতিটা একটু বেশিই।
এর পাশাপাশি ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রামবাসী মেতে আছেন ক্রিকেট নিয়েও। কেন থাকবে
না?
তাদের
শহরে এক বড়সড় কৃতিত্বের হাতছানি টাইগারদের সামনে। সন্ধ্যায় নগরের অন্যতম
প্রাণকেন্দ্র জিইসি মোড়ের মিষ্টি আর ফাস্টফুডের দোকানগুলোতেও ক্রিকেট নিয়ে
সরব আলোচনা।
সিএনজি চালক রহিম, হোটেল বোর্ডার বয় মিজানের কৌতুহলি প্রশ্ন, অস্ট্রেলিয়াকে ‘টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করতে পারবে তো মুশফিকের দল ?
‘স্বপ্নপূরণের কথাও উচ্চারিত হচ্ছে জোরেসোরে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কি সাফল্যের নতুন ইতিহাস রচিত হবে?
পরাক্রমশালী
অস্ট্রেলিয়াকে ‘বাংলাওয়াশের’ ভেনু হয়ে থাকবে ওই মাঠ? শুধু সিএনজি চালক
রহিম আর হোটেল বয় মিজান কেন, গোটা দেশ টাইগারদের আরও একটি জয় দেখার
অপেক্ষায়।
শেরেবাংলার
পর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো মানেই বাংলাদেশের
ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। মুশফিক বাহিনীর কাছে স্টিভেন
স্মিথের অস্ট্রেলিয়া হবে নাকাল।
যদি
চট্টগ্রামে বাংলাদেশের জয়ের কেতন ওড়ে, মুশফিক, তামিম ও সাকিবরা আবার জয়ের
হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেন, তাহলে দেশের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য
রচিত হবে। অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিকে টেস্টে ২-০ তে হারানোর সংকল্প নিয়েই
কাল সকালে মাঠে নামবে মুশফিকের দল। সন্দেহ নেই টাইগারদের কাছে অমন নাকাল
হতে চাইবে না অজিরা। ঘুরে দাড়ানোর ইতিহাস তাদের সঙ্গী।
কিন্তু স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বে যে দলটি এবার টাইগারদের প্রতিপক্ষ, সে দলের সামর্থ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করাই যায়।
অনেকেরই
প্রশ্ন , আচ্ছা অস্ট্রেলিয়ার এ দলটির কি বাংলাদেশের স্পিন ঘূর্ণি সামলানোর
সামর্থ আছে? উইকেটে যদি শেরেবাংলার মত টার্ন থাকে তাহলে অজিরা কি সাকিব,
তাইজুল আর মিরাজের জাদুকরি স্পিন বোলিংয়ের তোড় সামলে উঠতে পারবে? নাকি
আবারও সাকিবের নেতৃত্বে অজি বধ পর্বের সফল বাস্তব রুপ ঘটবে ?
এ প্রশ্ন সামনে রেখেই সোমবার সকালে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্ট।
ইতিহাস
জানাচ্ছে , চট্টগ্রামের আছে গৌরবোজ্জ্বল অতীত। টেস্টে টাইগারদের প্রথম
জয়টিই বন্দর নগরীতে। ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে
জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে প্রথম টেস্ট জয়ের উৎসবে মেতেছিল হাবিবুল বাশারের দল।
নাফিস
ইকবাল, রাজিন সালেহ আর হাবিবুল বাশারের ব্যাটিং আর মোহাম্মদ রফিক ও এনামুল
জুনিয়রের স্পিন ঘূর্ণিতে ধরা দিয়েছিল সে সাফল্য। সেই শহরে আরও একটি বড়
সাফল্যের হাতছানি। শুধু ইতিহাসই আশা পূরণের একমাত্র উপাদান নয়। বাংলাদেশের
সাফল্যের আরও বড় রসদ আছে।
প্রথম
রসদ সাকিব আল হাসান। যিনি একাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন। শেরেবাংলায় ৮৯
রান করার পাশাপাশি ১০ উইকেট নিয়ে সাকিব তার প্রমাণও দিয়েছেন। আর
চট্টগ্রামের ছেলে তামিম ইকবালও আছেন ফর্মের চূড়ায়।
প্রথম
টেস্টের উভয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি (৭১- ৭২) দলকে এগিয়ে দিয়েছে। এবার নিজ
শহরে তামিম। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশার মাত্রাটা আরও বেশি তার কাছে।
সঙ্গে অধিনায়ক মুশফিকের বিশ্বস্ত ব্যাট আর দুই স্পিনার তাইজুল ও মিরাজের
সাড়াশি স্পিন আক্রমণ। সব মিলে বাংলাদেশ অন্য রকম বাংলাদেশ। শেষ তিন টেস্টে
বাংলাদেশের স্পিনারদের সাফল্য বিষ্ময়কর!
পরিসংখ্যান
জানাচ্ছে, শেষ তিন টেস্টে বাংলাদেশের স্পিনাররা প্রতিপক্ষর ৫৭ উইকেটের পতন
ঘটিয়েছেন। ৬০ উইকেটের একটিমাত্র উইকেট জমা পড়েছে পেসারদের পকেটে। আর দুজন
হয়েছেন রান আউট।
অজিরা
ঘুরে দাড়াতে পারে। সে ইতিহাস তাদের আছে। এ সত্য জানার পরও ভক্ত ও
সমর্থকদের বড় অংশ আশাবাদী-জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট শেরেবাংলার
মতো হলে স্মিথের দল কুলিয়ে উঠতে পারবে না। স্পিনারদের হাত ধরে হাসবে মুশফিক
বাহিনী।
এ
আশা পূরনের পথে আপাততঃ বাঁধা বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাষ বলছে, বৃষ্টি
চট্টগ্রাম টেস্টে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সোমবার থেকে ৭ সেপ্টেম্বর
পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। অবশ্য এমন সম্ভাবনা ঢাকা
টেস্টের আগেও ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি আর তেমন বাগড়া দেয়নি।
চট্টগ্রামেও
যদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করে বৃষ্টি না ভোগায়, তাহলে কি আবার
সাকিব ম্যাজিক? ঢাকার মত আবার অজি বধ? সাফল্যের জোয়ারে ভেসে অনেকদূর চলে
যাওয়া? সময়ই দেবে এর উত্তর।
