অনলাইন ডেস্কঃ ২০০৫ সালে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় টাঙ্গাইলে দায়ের করা মামলায় জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ- জেএমবির ১৪ সদস্যকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের ২নং বিশেষ ট্রাইবুনাল জজ আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিঞা ওই আদেশ দেন। জরিমানার দশ হাজার টাকা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছেন- নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার টেকপাড়া গ্রামের দীন মোহাম্মদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মাদারকোল গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে ইয়ামিন মিয়া, সবুর মাস্টারের ছেলে মিজান, রাজ্জাক মুন্সির ছেলে আব্দুল আহাদ, মোংলা মিয়ার ছেলে হাবিল, মধু মিয়ার ছেলে রোস্তম, আব্দুলাহেল বাকির ছেলে তারিকুল, কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের আখম আজাদের ছেলে আরমান বিন আজাদ, মৃত নুরুজ্জামানের ছেলে আব্দুলাহ আল মামুন ওরফে সোহেব ও রাসেল, বাসাইল উপজেলার হাবলা দক্ষিনপাড়া গ্রামের শাজাহান মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান, গোপালপুর উপজেলার পলসিয়া গ্রামের সুলতান হোসেনের ছেলে জিয়াউর রহমান ওরফে তানভীর, বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার তোরাব বেফা গ্রামের মোতাহার আলীর ছেলে শহীদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার শরিফবাগ গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আব্দুল্লা আল তাসনিম।
শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইসহ ১৭ জনকে আসামি করে এ মামলায় চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে অন্য মামলায় শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইয়ের ফাঁসি হয় এবং হাবিল নামের অপর এক আসামি কারাগারে মারা যান। এছাড়া দণ্ডিতদের মধ্যে আরমান বিন আজাদ, রাসেল, তারিকুল এবং আব্দুল্লাহ আল তাসনিম পলাতক রয়েছেন। বাকি ১০ আসামি রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম খান। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন, শামীম চৌধুরী।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইল শহরের বেবি স্ট্যান্ড, শহীদ জগলু রোড ও আদালত এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই দিনই টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশি তদন্তে দণ্ডিত ব্যক্তিদের নাম বের হয়ে আসে।
