দুই লক্ষ টাকার জন্য নিভে যেতে বসেছে মেধাবী মারজানার জীবন


অনলাইন ডেস্কঃপ্রচণ্ড ব্যথা যখন উঠে, মারজানার চোখে অন্ধকার নেমে আসে। মেয়েটি ভাবে হয়তো এই নিভে গেল জীবনপ্রদীপ। অসহ্য ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান যখন ফিরে আসে, আবার সুন্দর এই পৃথিবীতে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। এভাবেই চরম অনিশ্চিয়তার মধ্য দিয়ে কেটে যাচ্ছে সবে মাত্র ১৪ বছরে পা দেয়া কিশোরী মারজানা আক্তার। বাদাঘাট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির এই ছাত্রীর হৃদযন্ত্রের বামদিকের বাল্ব নষ্ট হয়ে গেছে। সুস্থ্য হয়ে উঠতে হলে মাত্র ২ লাখ টাকার প্রয়োজন। বিত্তবানদের কাছে ২ লাখ টাকা কিছুই না হলেও, মানিক মিয়ার মতো একজন দিনমজুরের কাছে বিশাল টাকা! মাটি কাজ করে এতো টাকা ঝোগাড় করা তার পক্ষে অসম্ভব! তাই তিনি অসহায় মেয়েটিকে বাঁচাতে বিত্তবানদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। তবুও তিনি মেয়েটিকে বাঁচাতে চান। অসহায় মারজানার মা সোনারা বেগমের চোখের পানি যেনো থামছেই না। চোখের সামনে মেয়ের কষ্ট তিনি সইতে পারছেন না। ঘরে একটি গরু ছিলো, সেটাও তিনি বিক্রি করেছেন। সেই টাকা দিয়ে তিনি মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তাররা তার হৃদযন্ত্রের বামদিকের বাল্ব পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। আর তা পুনঃস্থাপন করতে হলে প্রায় ২ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। তিনি প্রতিবেদককে জানান- মেয়েটা ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে যায়। সইতে না-পেরে গরম শেক দিতে বলে। ব্যথায় কাচুমাচু হয়ে যায়। কিছুই খাচ্ছে না। অল্প একটু আম খায়। শরীরও দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। অথচ কিছুদিন আগেও স্কুলের ব্যাগ কাঁধে করে মারজানা ক্লাসে যেতো। সহপাঠীদের সাথে হৈ-হুল্লুড় করতো। আজ সে শয্যাশায়ী। মারজানার বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউপির টেখারবাড়ি গ্রামে। গ্রামের নাম টেখারবাড়ি হলেও টাকার অভাবে মেয়েটির জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে। আগামীকাল রোববার ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে মারজানাকে। সে যেনো সুস্থ্য হয়ে সিলেটে ফিরে আসে, তার জন্য যেমন দোয়া প্রয়োজন, তেমনি টাকারও প্রয়োজন। তাই মারজানার মতো ফুটফুটে একটি মেয়েকে বাঁচাতে সকল বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহŸান জানিয়েছেন মারজানার পরিবার। এদিকে, মেধাবী বোনটির জন্য এগিয়ে এসেছে সহপাঠীরাও। টিফিনের টাকা তারা জমা করছে প্রিয় বোনটির জন্য। কেবলই তা-ই নয়, তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে সহপাঠীকে বাঁচাতে টাকা সংগ্রহ করছে। তাদের চোখের সামনে মেধাবী বোনটি অকালে ঝরে যাবে, তারা তা কল্পনা করতে পারছে না। শুধু সহপাঠীরা নয়, এগিয়ে এসেছেন শিক্ষকরাও। চেষ্টা করছেন মেধাবী মারজানাকে সুস্থ্য করে তুলতে। তারাও যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বাদাঘাট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদও। তিনি জানান- আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মেধাবী এই ছাত্রীটিকে বাঁচাতে তিনি সকল বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহŸান জানান। মারজানার মা সোনারা বেগমের বিকাশ নাম্বারে (০১৭৪৭-৫০১৭০০) টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা আছে। বিবেকবানরা মারজানাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসবেন, সেটাই কামনা সকলের।

Post a Comment

Previous Post Next Post