বান্দরবানে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে তোলপাড়

রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে তোলপাড়
অনলাইন ডেস্কঃ বান্দরবানের সরকারী উন্নয়ন কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে তোলপাড় চলছে। এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বান্দরবান সরকারী মহিলা কলেজের ড্রপ ওয়ালে রড়ের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশ। বান্দরবান সরকারী কলেজের নির্মাণাধীন ভবনের চারতলা বারান্দায় ড্রপ ওয়ালে রডের ফাঁকে ফাঁকে এ বাঁশ দেয়া হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ৮১ লাখ টাকার এ কাজটি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউএন এন্টারপ্রাইজ এর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতা ঠিকাদার উজ্জল বাবু।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সরকারী মহিলা কলেজের ৪তলা ভবনের ড্রপ ওয়ালের নির্মাণ কাজে রডের পাশাপাশি চিকন করে কাটা বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপে একটি রড়, একটি বাঁশ ধাপে ধাপে দেয়া হচ্ছে। এভাবে প্রায় ২শ' ফুটেরও অধিক এলাকা জুড়ে এ বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু তাই নয় ঠিকাদার উজ্বল বান্দরবানে উন্নয়ন কাজে রর্ডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যাবহারের প্রবক্তা। জানা গেছে মহিলা কলেজ ছাড়াও উজ্বল বাবু বাঘমায়ায় একটি ব্রিজ নির্মাণ কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করছেন। এছাড়াও লেমু ঝিড়ি পাড়ায় কালভাট নির্মাণেও রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করছে।
নির্মাণ শ্রমিক আলী হোসেন জানান, রডের ভেতরে বাঁশ দিলে কাজটি অনেক শক্ত ও টেকসই হয়। তাই আমি এ বাঁশ ব্যবহার করছি। বিষয়টি ঠিকাদারও জানেন।
এ ব্যাপারে বান্দরবান সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ বড়ুয়া বলেন, আমি কলেজে নাই। তবে আমি রডের পরিবর্তে বাঁশ দেবার কথা শুনে তাৎক্ষণিক ইঞ্জিনিয়ার এর সাথে কথা বলেছি। ঠিকাদার যে কাজটি করেছে তা বড়ই অন্যায় করেছে। এতে ছাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। আমি কলেজে এসে অবশ্যই এর জন্য ব্যবস্থা নেব।

ঠিকাদার উজ্জল বাবু বলেন, সিমেন্ট ভাল করে দেয়ালে লাগার জন্য আমার নির্মাণ শ্রমিক বাঁশ ব্যবহার করছিল। তবে এ বিষয়গুলো আমি জানতাম না। জানার পরপরই আমি আমার শ্রমিককে বাঁশ খুলে ফেলতে বলেছি। তবে যতটুকু রড ব্যবহার করার কথা ছিল তার থেকে কোন কম রড ব্যবহার করা হয়নি।

এ ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুর হোসেন বলেন, আমি চট্টগ্রাম এসেছি চিকিৎসার জন্য। তবে দীর্ঘদিন কলেজের ড্রপ ওয়ালের কাজ বন্ধ ছিল। কিন্তু কাজ শুরু করে বাঁশ কেন দিচ্ছেন তা আমি জানিনা। আমি কাল বান্দরবানে এসে খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিব।

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবদুল আজিজ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, উজ্জল বাবু সব কাজেই বেশি বাড়াবাড়ি শুরু করছেন। আজ মহিলা কলেজে বাঁশ দেয়ার ঘটনাটি খুবই দুঃখ জনক। 

Post a Comment

Previous Post Next Post