জেলার কমলগঞ্জ, কুলাউড়া এবং বড়লেখা উপজেলা উপজেলায় হানা দিয়েছে পাহাড়ি ঢলের পানি।
এর মধ্যে একমলগঞ্জে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কমলগঞ্জ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের আলেপুর গ্রাম এলাকায় প্রায় ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ভাঙ্গন দিয়ে ঢলের পানি দ্রুত গ্রামে প্রবেশ করতে থাকে।
কমলগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সমাজসেবক ও আব্দুর রশীদ মাখন রাত সাড়ে আটটায় মুঠোফোনে জানান, তার বাড়ির পিছনে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন এলাকায় কোন সংস্কার হয়নি।
বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে ধলাই নদীতে দ্রুত পানি বেড়ে রাত সাড়ে ৭টায় এ স্থানের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে দ্রুত পানি আলেপুর, চন্ডিপুর, শ্রীচন্দ্রপুর ও কুশালপুর এলাকার ফসলি জমি ও বসতবাড়ি এলাকায় প্রবেশ করে। ঢলের পানির রাতে দ্রুত ভাঙ্গন এলাকা বেড়ে যায়।
অন্যদিকে কুলাউড়া উপজেলার গোগালিছড়া নদীর বাঁধ ভেঙে ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং ১৫০ একর জমির আউশ ধান তলিয়ে গেছে।
১ জুন সকালে গোগালিছড়া নদীর বাঁধের জয়চন্ডীর গাজীপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার কাছে একটি, কুলাউড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে একটি এবং গাজীপুর জামে মসজিদের কাছে ভাঙন দেখা দেয়।
এতে ভাঙন কবলিত স্থান দিয়ে পানি ঢুকে গাজীপুরসহ আশপাশের রাজাপুর, পুরন্দরপুর, খুটাগাঁও ও মীরবক্সপুর এবং কুলাউড়া পৌর শহরের লস্করপুর গ্রামের কিছু জায়গা তলিয়ে যায়।
অপরদিকে বড়লেখায় উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ঢলের পানিতে ডুবে গেছে বাড়ি-ঘর, রাস্তা ঘাট, ফসলের মাঠ। ব্যাহত হচ্ছে সড়কে যানচলাচল।
আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন চালকরা। রমজান মাসে হঠাৎ করে ঢলের পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় অবর্ননীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন মানুষজন।
