মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের কার্যালয় জানায়, গতকাল বুধবার উড্ডয়নের ২৯ মিনিটের মধ্যে (স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩৫ মিনিট) হঠাৎ করেই বিমানবন্দরের সঙ্গে বিমানটির সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন বিমানটি দাওয়ে শহর থেকে ৪৩ মাইল পশ্চিমে আন্দামান সাগরের ১৮ হাজার ফুট ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। এটি ছিল সাপ্তাহিক সামরিক ফ্লাইট।
নৌবাহিনীর একটি উদ্ধারকারী জাহাজ একজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশুর মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছে। লাগেজের টুকরো, নিরাপত্তা জ্যাকেট ও একটি টায়ার পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, টায়ারটি বিমানের চাকার। দেশটির সেনাবাহিনী তাদের ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লাংলোন থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে নৌবাহিনীর একটি জাহাজ তিনজনের লাশ খুঁজে পায়। সামরিক বাহিনীর তথ্য সরবরাহকারী দলের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আমরা বিমান ও কয়েকটি মৃতদেহের সন্ধান পাই।’নৌবাহিনীর ৯টি জাহাজ ও বিমানবাহিনীর ৩টি বিমান অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে বিমানের যাত্রীসংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় ভিন্ন সংখ্যা দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ যে সংখ্যার কথা বলা হচ্ছে তা হলো ১২২। দেশটির সেনাপ্রধানের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিমানে থাকা আরোহীদের অর্ধেকের বেশি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য। এর মধ্যে ১৫টি শিশু, ৩৫ জন সেনা ও ১৪ জন ক্রু রয়েছেন। ওয়াই লিম অং নামের একজন জানান, তাঁর মা ওই বিমানে ছিলেন। তাঁর বোনের স্বামী মায়িকে সেনাঘাঁটিতে কর্মরত। ফলে বোন সেখানেই থাকেন। তাঁর মা বোনকে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের খবরের অপেক্ষায় আছি’।
ওই বিমানের ক্যাপ্টেনের নাম লে কর্নেল নাইয়েন চান। ৩ হাজার ঘণ্টার বেশি সময় তাঁর উড়োজাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। চীনে তৈরি ওয়াই-৮-২০০এফ নামের বিমানটি গত বছরের মার্চে কেনা হয়। এটি এরই মধ্যে ৮০৯ ঘণ্টা আকাশে উড়েছে।
