অনলাইন ডেস্কঃ
উত্তর কোরিয়ায় বসবাসরত চীনা নাগরিকদের দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং।
পিয়ংইয়ং এবং ওয়াশিংটনের মাঝে চলমান উত্তেজনা যেকোনো মুহূর্তে ভিন্ন রূপ
নিতে পারে; এমন আশঙ্কায় নাগরিকদের দেশে ফেরার ওই নির্দেশ দিয়েছে চীন।
কোরিয়া
টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ায় নিযুক্ত বেইজিং দূতাবাস
সেদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার পরামর্শ দেয়া শুরু
করেছে। উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে
যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মুহূর্তে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে এমন আশঙ্কা
প্রকাশ করেছে চীনা দূতাবাস।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক
এশীয় রেডিও স্টেশন রেডিও ফ্রি এশিয়া বলছে, পিয়ংইয়ংয়ে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস
গত মাসে দেশটির সেনাবাহিনী কোরিয়ান পিপলস আর্মির ৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর
আগে থেকেই নাগরিকদেরকে দেশে ফেরার বার্তা দেয়া শুরু করেছে।
কোরিয়ায়
বসবাসরত এক চীনা নাগরিকের সঙ্গে দূতাবাসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এই চীনা নাগরিকের বরাত দিয়ে রেডিও ফ্রি এশিয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য
জানিয়েছে।
নাম
প্রকাশ না করার শর্তে চীনা ওই নাগরিক বলেছেন, তিনি কয়েক মাস পর পর চীন সফর
করেন। তিনি দাবি করে বলেছেন যে, তাকে কিছু দিনের জন্য চীনে থাকতে বলা
হয়েছে এবং তিনি উত্তর কোরিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত মাসের শেষের দিকে
তিনি দেশে ফিরেছেন।
তিনি
বলেন, আমি দুঃশ্চিন্তার মধ্যে ছিলাম। এজন্য দ্রুত কোরিয়া ছেড়েছি। তবে
অধিকাংশ চীনা নাগরিক দূতাবাসের ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়ায়
রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে
চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে কোনো সতর্কতা দেখা যায়নি বলে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য
ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ষষ্ঠ আন্তঃমহাদেশীয়
পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জেরে কোরীয় উপদ্বীপে রণতরী কার্ল ভিনসন ও
স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র, জাপান,
দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান বাহিনী যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে।
কয়েক
দিন আগেই কোরীয় দ্বীপে মার্কিন রণতরী কার্ল ভিনসন ও পারমাণবিক অস্ত্রবাহী
সাবমেরিনে হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। মার্কিন এই দুই
রণতরী দক্ষিণ কোরিয়ার জলসীমায় মোতায়েন রয়েছে।
চলতি
সপ্তাহে পিয়ংইয়ং দাবি করে বলেছে, এই অঞ্চলকে পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে
দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান এই
উত্তেজনা কমিয়ে আনতে পরস্পরকে বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে
চীন।
