প্রিন্স মুসাসহ চারজনের যুদ্ধাপরাধের অনুসন্ধান চলছে

প্রিন্স মুসাসহ চারজনের যুদ্ধাপরাধের অনুসন্ধান চলছে
নিউজ ডেস্কঃ মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পাঁচ নেতার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্যেরও ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

বর্তমানে আরও চারজনের বিরুদ্ধে যু্দ্ধাপরাধের অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত চলছে। এর মধ্যে বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের ওরফে প্রিন্স মুসার নামও রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত তদন্ত সংস্থা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত চলা অপর তিনজন হলেন- জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির মকবুল আহমদ, বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক এবং বিএনপির অপর এক নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মুমিন তালুকদার।

জানতে চাইলে তদন্ত সংস্থার কো-কোঅর্ডিনেটর এম সানাউল হক জানান, জামায়াতের নতুন আমির মকবুল আহমাদ ও ধনকুবের মুসা বিন শমসেরের অপরাধের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

অন্যদিকে, বিএনপি নেতা ড. ওসমান ফারুক ও অপর নেতা আব্দুল মুমিনের অপরাধ তদন্ত চলছে। এর চেয়ে বেশিকিছু প্রকাশ করা সম্ভব না বলেও জানান তিনি।

মুসা বিন শমসেরঃ বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দিয়েছেন দুই সাংবাদিক। গত ৬ এপ্রিল বিকেলে মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত সংস্থার ধানমন্ডির কার্যালয়ে গিয়ে তারা ২৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেন।

এর আগে, ২৯ মার্চ তদন্ত সংস্থার সিনিয়র কর্মকর্তা মো. সানাউল হক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে তদন্ত সংস্থা। এ ব্যাপারে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ওই আহ্বানে সাড়া দিয়েই মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে যেসব তথ্য ছিল, তা প্রতিবেদন আকারে জমা দেন ওই দু’জন।

তবে মুসা বিন শমসেরের বিষয়ে তদন্ত সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের কেউ মুখ খোলেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য জানা গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

জামায়াত আমির মকবুল আহমাদঃ সদ্য নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির মকবুল আহমাদ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কিনা তার তথ্য সংগ্রহ করতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে। জানা গেছে, যদি মুক্তিযুদ্ধের সময় কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়, তবেই তার বিষয়ে চূড়ান্ত তদন্ত শুরু করবে তদন্ত সংস্থা।

তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেন, জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদের নাম ওই এলাকার রাজাকারদের তালিকায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। তবে, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ভিকটিমদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, পত্রিকায় খবরে প্রকাশ পায়, মকবুল আহমাদ ১৯৭১ সালে ফেনী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমরা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই অনুসন্ধান চালাচ্ছি।

এ বিষয়ে তদন্ত সংস্থার সিনিয়র কর্মকর্তা মো. সানাউল হক বলেন, মকবুল আহমাদের মানবতাবিরোধী অপরাধ অনুসন্ধানের জন্য একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি প্রাথমিক (প্রিলিমিনারি) অনুসন্ধান শুরু করেছেন। অনুসন্ধান শেষে চূড়ান্ত তদন্ত হবে।

মকবুল আহমাদের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এসএসপি নুরুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, মকবুল আহমাদের বিষয়ে অব্যাহতভাবে অনুসন্ধান চলছে।

ড. ওসমান ফারুকঃ ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ৪ মে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একজন তদন্ত (আইও) কর্মকর্তা এবং একজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার হেলাল উদ্দিনকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মামলার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তের রেকর্ড ও নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।’

তথ্য সংগ্রহের জন্য মার্চের শেষ দিকে ময়মনসিংহ শহরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে মুক্তিযোদ্ধাসহ মামলা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পয়েন্ট আকারে নোট নেয়া হয়েছে। তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সানাউল হক ও অপর সদস্যরা ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ ঘুরে এসেছেন।

প্রাপ্ত তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা ও বিচারের স্বার্থে এসব এখনই প্রকাশ করা যাবে না।’

তবে তিনি বলেন, ওসমান ফারুকের মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিতদের পরিবার এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ১২-১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আশপাশের এলাকা ও বধ্যভূমি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তদন্ত কাজে সহায়তা করতে প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে গত ১৬ জানুয়ারি নিয়োগ দেয়া হয়।

মো. আব্দুল মুমিন তালুকদারঃ একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বগুড়া- ৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও বিএনপি নেতা আব্দুল মোমিন তালুকদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে তাকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

মামলার আইও আলতাফুর রহমান জানান, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে মামলার তদন্ত শুরু হয়ে এখনও চলছে। আদমদীঘির সুদিন, খাড়িপাড় শ্মশানঘাটি ও সান্তাহারের রথবাড়ি (জমিদার সুরেন্দ্রনাথের বাড়ি) বধ্যভূমি এলাকা ঘুরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষতিগ্রস্তসহ ২৪ থেকে ২৬ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, আব্দুল মোমিন তালুকদার একাত্তরে আদমদীঘি এলাকার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা এলাকায় প্রভাবশালী এবং তদন্তে যাতে কোনো প্রভাব বিস্তার না করতে পারেন তাই গ্রেফতারের আবেদন করা হয়েছে।

বগুড়া-৩ অর্থাৎ আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া আসন থেকে দু’বার এমপি হয়েছিলেন আব্দুল মোমিন তালুকদার। নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর বন ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও হন তিনি।

২০১১ সালের মার্চে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মোমিন তালুকদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন আদমদীঘির কায়েতপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ সুবেদ আলী। পরে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয় মামলাটি। সুত্রঃ জাগোনিউজ

Post a Comment

Previous Post Next Post