রাকিব হত্যায় ফাঁসির সাজা কমে যাবজ্জীবন


অনলাইন ডেস্ক: পেটে বাতাস ঢুকিয়ে খুলনার শিশু রাকিব (১২) হত্যার আলোচিত মামলার প্রধান আসামি মো. শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টুর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে প্রত্যেকের আরও দুই বছর করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন আদালত। জরিমানার এ অর্থ রাকিবের পরিবারকে দিতে হবে।

রাকিব হত্যার ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল খারিজ করে এবং বিচারিক আদালতের রায় পরিমার্জন করে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

হাইকোর্টে ১১ কার্যদিবসের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম ও বিলকিস ফাতেমা। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এস এম আবদুল মুবিন ও গোলাম মো. চৌধুরী আলাল।

পরে আলাল বলেন, রাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না আসামিদের। তারা বুঝতে পারেনি যে ওই কাজ করলে ভিকটিমের মৃত্যু হবে। এছাড়া ঘটনা ঘটার পর আসামিরা পালিয়ে না গিয়ে তাকে (রাকিব) নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে গেছে। রক্ত দিয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন এবং জরিমানার আদেশ দেন। আমরা রায়ে আংশিক ন্যায় বিচার পেয়েছি। আসামিপক্ষ আপিল করবে।

জহিরুল হক জহির বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর রষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে পরামর্শ করে আপিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

দেশের ইতিহাসে বিচারিক আদালতে স্বল্প সময়ে বিচার নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১০ জানুয়ারি হাইকোর্টে শিশু রাকিব হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে রায়ের এ দিন ধার্য করেন উচ্চ আদালত।

২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাকিব হত্যা মামলার রায়ের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। সাধাণত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসির রায় কার্যকরের পূর্বে হাইকোর্টের অনুমতির প্রয়োজন হয়। ডেথ রেফারেন্সের পাশাপাশি বিচারিক আদালতের ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। গত ১০ জানুয়ারি পেপারবুক থেকে পড়া শুরু হয়।

এর আগে একই বছরের ৮ নভেম্বর শিশু রাকিব হত্যার দায়ে প্রধান আসামি মো. শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টুকে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিলরুবা সুলতানা ওই রায় ঘোষণা করেন। সে সময় মামলার অপর আসামি শরীফের মা বিউটি বেগমকে খালাস দেন আদালত।

২০১৫ সালের ৩ আগস্ট বিকেলে খুলনার টুটপাড়ায় শরীফ মোটরস নামে এক মোটরসাইকেল গ্যারেজে পেটে বাতাস ঢুকিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন করে রাকিবকে হত্যা করা হয়। পরদিন রাকিবের বাবা মো. নুরুল আলম বাদী হয়ে শরীফ, তার সহযোগী মিন্টু খান এবং শরীফের মা বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post