ফতেপুরে চার শিশুসহ সাত লাশ শনাক্ত ‘করেছেন’ স্বজনরা


অনলাইন ডেস্কঃ  মৌলভীবাজারের ফতেপুরে (নাসিরপুর) জঙ্গি আস্তানায় নিহত চার শিশুসহ সাতজনকে শনাক্ত ‘করেছেন’ স্বজনরা। তাদের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায়।

আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে ওই পরিবারের তিন সদস্য মৌলভীবাজারে পৌঁছান।  তাঁরা হলেন- নিহত শিরিনা আক্তারের বাবা ও লোকমান হোসেনের শ্বশুর আবু বকর সিদ্দিক, তাঁর ছোট মেয়ের জামাই সানোয়ার হোসেন। তাঁদের সঙ্গে আছেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন।

প্রথমে ওই তিন ব্যক্তি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে যান। সেখান থেকে পুলিশ তাঁদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁদের আবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা হাসপাতাল থেকে বের হন। তখন আবু বকর সিদ্দিককে কাঁদতে দেখা যায়।

এর কিছুক্ষণ পর সংবাদ সম্মেলনে মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মো. শাহ জালাল বলেন, নিহতদের মরদেহ দেখে তাদের স্বজনরা চিনতে পেরেছেন।

রোববার রাতে পুলিশ জানায়, ডাঙ্গাগ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক, তাঁর ছোট মেয়ের জামাই এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মৌলভীবাজারের পথে রয়েছেন। আবু বক্কর সিদ্দিকের দেওয়া তথ্য মতে, তাঁর বড় মেয়ে মোছাম্মাৎ শিরিনা আক্তার (৩৫), তাঁর স্বামী লোকমান হোসেন (৪৫), তাদের বড় মেয়ে মোছাম্মাৎ আমেনা খাতুন (২০) (কিছুদিন আগে তাঁর বগুড়ায় বিয়ে হয়েছে), মেয়ে সুমাইয়া (১২), মরিয়ম (১০), ফাতেমা (৭), খাতিজা (সাত মাস) দীর্ঘদিন ধরেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল।

লোকমানের বাবা নুরুল আলম এবং ডাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দা নূর হোসেন, আবাদুর রশিদ ও ময়নুল ইসলাম জানান, ৮-১০ বছর ধরে তারা গ্রামের বাইরে ছিল।

গত ২৯ মার্চ (বুধবার) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের জঙ্গি আস্তানার মধ্যে ফতেপুরে ‘অপারেশন হিটব্যাক’ শুরু করে সোয়াট। রাতে অভিযান বন্ধ করে দিয়ে পরের দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অভিযান শুরু হয়।

অভিযান শেষে সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান শেষ হয়েছে। আমরা ভেতরে বেশ কিছু লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখেছি। সেগুলো একত্রিত করলে পুরো সংখ্যাটি পাওয়া যাবে। তবে, তা সাত-আটজনের কম হবে না। এরা আত্মহনন করে থাকতে পারে।’

Post a Comment

Previous Post Next Post