ইমাদ উদ দীন:
নাসিরপুরে নিহত জঙ্গিদের মরদেহ সনাক্ত করেছেন তাদের স্বজনরা। মৌলভীবাজারের
খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুরের আস্তানায় সোয়াতের অপারেশন ‘হিট ব্যাকে’ নিহত ৭
জনের লাশ সনাক্ত করেছেন তাদের স্বজনরা। গতকাল (সোমবার) দুপুরের দিকে
নাসিরপুরের বাগানবাড়িতে সপরিবারে নিহত লোকমান আলীর শ্বশুর আবু বকরসহ তিনজন
এই লাশ সনাক্ত করেন। গত ৩০ মার্চ নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় নিহত হন লোকমান
আলী (৪৫) ও তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার(৩৫),তাদের সন্তান আমেনা খাতুন
(১৪),সুমাইয়া আক্তার (৯), ফাতেমা (৫),মরিয়ম (৩) ও খাদিজা (৬ মাস)। তাদের
বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে। ঘোড়াঘাট থেকেই তাদের মরদেহ সনাক্ত করতে আসেন
জঙ্গি লোকমানের শ্বশুর ও জঙ্গি শিরিন আক্তারের বাবা আবু বক্কর
সিদ্দিক,জঙ্গি লোকমানের ভায়েরা ভাই সানোয়ার হোসেন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য
মোফাজ্জল হোসেন। সোমবার সকাল পৌনে ১১টায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থেকে
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পৌঁছান আবু বক্কর সিদ্দিক। তার সাথে ছিলেন
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোফজ্জল হোসেন ও জঙ্গি লোকমানের ভায়েরা ভাই সানোয়ার
হোসেন। দূপূর সাড়ে ১২টায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে লাশ সনাক্তের পর
কেঁদেকেঁদে বের হতে দেখা যায় আবু বক্কর সিদ্দিককে। জেলা পুলিশ কার্যালয়ে
দূপুর ২ টায় প্রেস ব্রিফিংএ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল জানান নিহতরা
সবাই একই পরিবারের। তবে তাদের স্বজনরা এ লাশ নিয়ে কলঙ্কের গ্লানি বহনকরতে
চাননা বলে জানান। পুলিশ সুপার নিহত ৭জনের মধ্যে ৪ শিশু রয়েছে, সে লাশ গুলো
গ্রহনের জন্য পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ জানালে সে লাশ গুলোও নিতে অপারগতা
প্রকাশ করে তারা। তিনি আরো জানান মৌলভীবাজার পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের
বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় নিহত ৩ জনের মধ্যে ১জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম
মোঃ আশরাফুল আলম নাজিম। সে সিলেটের আতিয়া মহলের অদুরে বোমা হামলা চালায়।
তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালির সোনাই মুড়ি উপজেলায়। লাশ শনাক্তের জন্য
পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়েছে। নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় নিহত ৭ জনের লাশ
যেহেতু তার পরিবারের নিতে চাচ্ছে না সেহেতু ওই লাশগুলো মৌলভীবাজার পৌরসভার
কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যদিকে বড়হাটে নিহত ৩জনের লাশ পরিবারের সদস্যদের
সনাক্ত করার অপেক্ষায় হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত
ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার রওশনূজ্জামান সিদ্দিকীসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তা বৃন্দ। তবে প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে কিংবা পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি
হননি নিহত জঙ্গি শিরিন আক্তারের বাবা ও জঙ্গি লোকমান আলীর শ্বশুর আবু
বকরসহ লাশ সনাক্ত করতে তার সাথে আসা অন্য ২জন।
