স্পোর্টস ডেস্ক: কেমন কাটলো শ্রীলঙ্কা সফর? মুঠোফোনের অপর প্রান্তে শোনা গেল একটা দীর্ঘশ্বাস। কিছুক্ষণ পর হেসে বলেন, দলের জয়ে আনন্দিত। তবে একটি ম্যাচও খেলতে না পারার হতাশা ঘিরে ধরেছে রুবেল হোসেনকে। গতকালই শ্রীলঙ্কা সফর শেষে দেশে ফিরে এসেছেন আলোচিত সমালোচিত এই ২৭ বছর বয়সী পেসার। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ পাননি এক ম্যাচেও। তাই ড্রেসিং রুমে বসেই কেটেছে সময়। আর টি-টোয়েন্টি সিরিজে দল থেকেই বাদ পড়ায় দেশে ফিরেছেন অলরাউন্ডার শুভাগত হোম চৌধুরীর সঙ্গে। শ্রীলঙ্কা সফরে ভাল-মন্দ নিয়ে কথা বলেছেন। সেই কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো-
প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কা সফরটা কেমন কাটালেন? রুবেল হোসেন: হ্যাঁ, যদি ব্যক্তিগত অনুভূতি জানতে চান তাহলে প্রচণ্ড হতাশ। কারণ টেস্ট ওয়ানডের একটি ম্যাচেও খেলার সুযোগ হয়নি। বসে বসে হতাশ হয়েছি। আর যদি দলের পারফরম্যান্সের কথা বলেন, তাহলে ভীষণ ভালো লেগেছে যে আমরা শ্রীলঙ্কার মাটিতে ওদের হারাতে পেরেছি।
প্রশ্ন: একাদশে জায়গা না পাওয়ার কারণ কী মনে করেন? রুবেল হোসেন: এটা অবশ্যই টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। তারা যেভাবে ভালো মনে করেছে তারা একাদশ সাজিয়েছে। কিন্তু আমি হতাশ হয়েছি এই জন্য যে মাঠে একটি ম্যাচও যদি খেলতে পারতাম তাহলে অন্তত দেখাতে পারতাম আমার পারফরম্যান্সটা।
প্রশ্ন: মনে হয়েছে কি পারফরম্যান্স ভালো নয়, তাই সুযোগ হয়নি? রুবেল হোসেন: না, এমন কিছুই না। দলে এসেছি নিজেকে প্রমাণ করেই। ভালো করেছি বলেই তো তারা দলে নিয়েছেন। আর মাঠে নামতে পারলে দেখাতে পারতাম পারফরম্যান্সটা কেমন।
প্রশ্ন: ২৪ টেস্ট ৬৯ ওয়ানডে ১৪ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। এইভাবে বসে থাকতে কতটা খারাপ লেগেছে? রুবেল হোসেন: ক্রিকেট আমার প্যাশন, সেই সঙ্গে রুটিরুজিও। যদি খেলতেই না পারি তাহলে কিভাবে নিজেকে প্রমাণ করবো। এমনটা যার সঙ্গে হবে তারই খারাপ লাগবে। এরপর দেখেন টি-টোয়েন্টির দল থেকে বাদ পড়লাম। যদি এমন হতো ম্যাচ খেলেছি কিন্তু ভালো করিনি তাহলে এইভাবে বাদ পড়ে কষ্ট লাগতো না। আমি নিউজিল্যান্ডে তো টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছিলাম। এরপরও বাদ পড়াটা একটু অন্যরকমই লাগে। একজন ক্রিকেটারের জন্য বসে থাকার চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে!
প্রশ্ন: ম্যাচ খেলতে না পারার দায়টা কাকে দিবেন? রুবেল হোসেন: কাউকে কোনো দোষ দিতে চাই না। যা টিম ম্যানেজমেন্ট ভালো মনে করেছে। দোষ যদি দিতেই হয় তাহলে দিবো আমার ভাগ্যকে। হয়তো ভাগ্যে ছিল না বলেই হয়নি। এখন সামনের দিকে তাকিয়ে আছি। দেশে প্রিমিয়ার লীগ খেলবো প্রাইম ব্যাংকের হয়ে। চেষ্টা করবো আরো ভালো করার।
প্রশ্ন: খেলতে না পারার হতাশা বেশি নাকি জিদ? রুবেল হোসেন: দুটিই বেশি, হতাশাতো আছেই, জিদও আছে। কারণ এখন যদি আমি হতাশ হয়ে বসে থাকি তাহলে আমার পারফরম্যান্সের উপর প্রভাব পড়বে। যেমনটা পড়েছে মানসিকভাবে। আর জিদটা হলো নিজেকে আরো বেশি করে প্রমাণ করা যে-রুবেল এখনো ফুরিয়ে যায়নি। যখনই সুযোগ পাবো নিজের সেরাটাই দিবো দেশের জন্য।
প্রশ্ন: শততম টেস্ট কিভাবে উপভোগ করলেন? রুবেল হোসেন: খেলার সৌভাগ্য হয়নি সেই কষ্ট ছিল। কিন্তু দল যখন জিতলো তখন কষ্ট অনেকটাই কমে গেছে। এই ভেবে যে এমন একটা ম্যাচে দল জিতেছে, আমি ড্রেসিং রুমে ছিলাম। সবার সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করেছি। এটাও কম পাওয়া নয়। তবে খেলতে পারলে সেই আনন্দ আরো হাজার গুণ বেশি হতো।
প্রশ্ন: এখন লক্ষ্য কী? রুবেল হোসেন: ঘরের মাঠে নিজেকে প্রমাণ করেই জাতীয় দলে ফিরেছি। হয়তো আমাকে আরো পরিশ্রম করতে হবে। আরো ভালো বোলিং করতে হবে। তাহলে আমার বিশ্বাস সুযোগ আসবেই।
