অনলাইন ডেস্কঃ বর্তমানে ছাত্র নেতাদের বিমানে চলাফেরার সমালোচনা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, আমরা যখন মফস্বলে প্রোগ্রামে যেতাম, তখন বাস-ট্রেনে যেতাম। সেই দিনগুলো হারিয়ে গেছে। আজকালের ছাত্রনেতারা বিমানে করে যাওয়ার জন্য টিকেটের অনুরোধ করেন। যেটা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে মাস্টরদা' সূর্যসেন হলের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাস্টারদা সূর্যসেন হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকাল ছাত্রনেতাদের হলে থাকার প্রবণতা কমে আসছে। আমরা যখন রাজনীতি করতাম তখন দিনে মধুতে আর সন্ধ্যায় বিভিন্ন হলের ক্যান্টিনে যেতাম। আমাদের আবার সেইসব অস্তিত্ব ও মূল্যবোধের কাছে ফিরে যেতে হবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কমিশন নির্বাচনে খরচের জন্য বেঁধে দিচ্ছেন এক অংক, খরচ হচ্ছে তার থেকে শত শত গুণ বেশি টাকা। বেঁধে দিচ্ছেন ৫ লাখ, খরচ হচ্ছে ৫ কোটি টাকা। কালো টাকার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করবেন সেটা কমিশনের সামনে বড় ও কঠিন চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের নেতৃত্বে থাকলে নির্বাচন প্রভাবিত হবে না। আমি গত ৩৬ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে দেখছি। জীবন সংগ্রাম তার অত্যন্ত কঠিন, ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচনে হেরে গেলেও তিনি জনমতকে প্রভাবিত করবেন না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ যদি না চায় জোর করে ক্ষমতায় থাকার মন-মানসিকতা শেখ হাসিনার নেই। তিনি তত্ত্বাবধানে থাকলে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা পাবে।
রাজনীতিতে শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি বলেন, রাজনীতিতে এখন সৌজন্যবোধ ও শ্রদ্ধাবোধ নেই। এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে সামাজিক অনুষ্ঠান, জানাজায় অংশ নিতেও চিন্তা করতে হয় আমার রাজনীতির ক্ষতি হবে কি না। এটা তো রাজনীতি না।
বঙ্গবন্ধু যখন চট্টগ্রামের লালদিঘীতে জনসভায় যেতেন তখন ফজলুল কাদের চৌধুরীর বাসায় চা খেতেন, তাতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব কি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে? বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও মাদকাশক্তিকে 'কঠিন বিপদ' উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মাদক গ্রামে গ্রামে ঢুকে গেছে। তরুণ সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এতে আসক্ত, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প, বিষবৃক্ষ ডালপালা গজিয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি নির্মূল বা নিষ্ক্রিয় হয়নি। বেশ কিছুদিন ধরেই তা দেখা যাচ্ছে। সতর্ক না হলে আরও ভয়াবহ বিপদের আশংকা আছে।
সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান শুরু হয়েছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, এতদিন আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে তারা শক্তি সঞ্চয় করেছে। এখন তারা আঘাতের প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর জন্য যারা সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সঙ্গে বিষাক্ত আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়েছেন তারা নিজেদের ভবিষ্যতকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। ব্যক্তি আর দলকে ঠেকাতে গিয়ে দেশের ক্ষতি করবেন না। দলমত নির্বিশেষে অভিন্ন শত্রুকে মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
শিক্ষকদের আত্মসম্মানবোধ ছাত্রনেতাদের কাছে বিকিয়ে না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে শিক্ষক রাজনীতিতে ছাত্ররাজনীতি এবং ছাত্ররাজনীতিতে শিক্ষক রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
তিনি বলেন, ছাত্রনেতাদের কাছে নিজের আত্মসম্মানবোধ বিকিয়ে দিবেন না। শিক্ষকদের একটা আত্মমর্যাদা আছে। আপনারা নিজের আত্মসম্মানবোধের দিকে একটু নজর দিবেন। এটি না থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাবে।
সূর্যসেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সূর্যসেন হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুম মুনিরসহ হলটির সাবেক ও বর্তমান কৃতি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : যুগান্তর
