কুলাউড়ায় যুবকের ঝু'ল'ন্ত লা'শ নিয়ে চলছে বিতর্ক, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

 


মাহফুজ শাকিল: কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের নন্দনগর কালিয়ারগড় গ্রামের গহীন পাহাড় থেকে গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় আব্দুল জলিল (৩২) নামক এক যুবকের লাশ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত শেষে বুধবার রাতে দাফন সম্পন্ন করা হয়। নিহত আব্দুল জলিল কালিয়ারগড় গ্রামের মৃত আছর উদ্দিনের ছেলে।

পরিবারের দাবি, আব্দুল জলিল আত্মহত্যা করার মতো  লোক নয়, তাকে পরিকল্পতিভাবে হত্যা করা হয়েছে। এলাকাবাসীও ঘটনায় হতবাক। ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

নিহতের স্ত্রী আছমা খাতুন জানান, আমার স্বামী আব্দুল জলিল বিদেশ যাওয়ার জন্য এনজিও সংস্থা ব্র্যাক থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ তুলে ওই টাকা বিকাশে আমার বড় বোনের মেয়ের জামাইকে পাঠান। বিদেশ যাওয়া নিয়ে তার মধ্যে নানা অশান্তি বিরাজ করছিলো। কিছু টাকা অবশিষ্ট থাকায় তিনি চিন্তায় ছিলেন। তাছাড়া বাড়ীর পাশের হাওরে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে পার্শ্ববতী বাড়ির বশিরের ছেলে রাজনের সাথে। ওই বিরোধের বিষয়টি সালিশী বৈঠকে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। ঘটনার দিন রাতে ওই বাড়িতে গিয়ে আমার স্বামীকে খোঁজে পাইনি। পরে ফেরার পথে কালিয়ারগড় এলাকায় গহীন পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর একটি আম গাছের সাথে রশি দিয়ে আমার স্বামীকে ঝুলানো অবস্থায় দেখতে পাই। পরে আমার স্বামীর ভাগ্নে সুয়েব, ভাগ্নি কুলসুমাকে সাথে নিয়ে তাকে উদ্ধার করি। তখনও তার প্রাণ ছিল। তখন বিষয়টি তাৎক্ষণিক স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সাজাদ আলী সাজুকে অবগত করি। পরে তাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো বলেন, বিদেশ যাওয়া ও হাওরের জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে আমার স্বামী অনেক মানসিক যন্ত্রণায় ছিলেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করছি।

নিহতের মা মায়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে জলিল খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল। তাঁর বিদেশ যাবার জন্য আমার নিজের পালিত দুটি গরু বিক্রি করে টাকা দেই। সে আত্মহত্যা করতে পারেনা। বিরোধের জেরে কেউ তাকে হত্যা করে গাছের সাথে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করছি। 

Post a Comment

Previous Post Next Post