বিশেষ প্রতিনিধিঃ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই সময়ের অন্যতম মেধাবী তরুণ অভিনয় শিল্পীর নাম ইমরান হোসেন। মিডিয়ায় তার পরিচিতি ইমরান হাসো নামে। একাধারে মঞ্চ, টিভি নাটক টেলিফিল্ম, ওয়েবসিরিজ, টিভিসি এবং চলচ্চিত্রেও নিয়মিতভাবে অভিনয় করে চলেছেন।
ভবিষ্যতের একজন জাত অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজ সত্ত্বার জানান দিয়েছেন তরুণ শিল্পী ইমরান। সম্প্রতি শততম নাটকে অভিনয় করেছেন নওগাঁর ছেলে ইমরান।
এছাড়া অন্তত ১৪টি চলচ্চিত্র, দুইটি ওয়েব সিরিজ এবং একাধিক টিভিসিতে কাজ করেছেন। এছাড়া রঙ্গনা নাট্যগোষ্ঠীর নাট্যকর্মী হিসেবে একাধিক মঞ্চ নাটকের অন্তত ২০টির মত প্রদর্শনীতে অভিনয় করেছেন ইমরান।
প্রথম দিকে এনটিভির রিয়েলিটি শো, হাসো দিয়ে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন ইমরান। এরপর মাত্র আড়াই তিন বছরের মিডিয়ার ক্যারিয়ারে অভিনয়ে বেশ সাফল্য পেয়েছেন। সাবলীল অভিনয়ের পাশাপাশি বিনয় এবং সদা হাসিমুখের কারণে অনেকের কাছেই পরিচিত ইমরান। প্রতিনিয়তই নতুন কাজ করছেন।
কাজ করতে চান আজীবন। সেই লক্ষে নতুন কাজের মাধ্যমে প্রতিনিয়তই নিজেকে শানিত করছেন, ঋদ্ধ করছেন। মিডিয়ায় নিজের আসন পাকাপোক্ত করতে পড়াশোনাও করছেন সেই বিষয়েই। একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে অনার্সে পড়ছেন তিনি।
একজন কমেডিয়ান হিসেবে অভিনয় জীবন শুরু করলেও এই অল্প সময়ে অসংখ্য সাফল্যের পালক যুক্ত হয়েছে এমরানের নিজের ক্যারিয়ারে। অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে এমরান বলেন ছোট বেলায় স্বপ্ন দেখতাম একজন আইনজীবী হবো।
পরে স্বপ্নটা পরিবর্তন হয় মীরাক্কেল দেখে। তখন ভাবতাম যদি আমিও অভিনয় করতে পারতাম।আমাকে যদি টিভির পর্দায় দেখা যেত, সংবাদপত্রে যদি আমাকে নিয়ে নিউজ হতো। অবশ্য ছোট থেকেই আমি আমার এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলাম। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে পারফরম্যান্স করে মানুষ হাসাতাম।
বিশেষ করে স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সবসময় কৌতুক পরিবেশনা এবং অভিনয়ের জন্য পুরষ্কারটা একেবারে আমার জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকতো। বিভাগীয় পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার্সআপও হয়েছি আমাদের স্কুলের গ্রুপ নিয়ে।এরপর ২০১৫ সালে বাংলাদেশের একমাত্র কমেডি রিয়েলিটি শো ‘হা-শো’ তে আমি অডিশন দেই এবং মুল প্রতিযোগিতার সেরা ৪০ জনের মধ্যে একজন হই।
এরপর প্রথম রাউন্ড থেকে আমি বাদ পড়ে যাই। তখন আসলে অনেকটা ছোট ছিলাম। সবে মাত্র এসএসসি পাশ করে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়েছি। এরপর কান্না করতে করতে বিএফডিসি থেকে চলে যাই। আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি আমি একদিন অভিনেতা হবোই। এরপর এলাকায় চলে যাই।পড়াশোনা করি কিন্তু মন পড়ে থাকে টিভির পর্দায়। এরপর ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে ঢাকায় আসি। টুকটাক সবার সাথে যোগাযোগ করি।এখন থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে অনার্স করছি।। ২০১৭ সালের শেষের দিকে আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করি। ২০১৮ শেষের দিক থেকে ২০১৯ সাল বেশ কিছু নাটকে কাজ করি। এরপর ২০২০ সাল থেকে শুরু হয় আমার নাটকের টানা কাজ। তবে হঠাৎ করোনার জন্য থমকে যাই আমরা। কারন এই সময়ে মিডিয়া কাজ বন্ধ ছিল। এই দিয়ে এখন টানা ২ বছর হচ্ছে আমার নিয়মিত অভিনয় করা। সব মিলে আলহামদুলিল্লাহ ১০০টি নাটকের অভিনয় করার সুযোগ হয়েছে আমার। আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া আদায় করছি। আমার এই স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে আমি যে পরিচিতি এবং ভালোবাসা পেয়েছি, যে সফলতা পেয়েছি তাতে আমার মা বাবা এবং পরিবারের দোয়া রয়েছে। আমার সম্মানিত পরিচালকদের ভালোবাসা, রাইটার, ক্যামেরাম্যানসহ সকল কলাকুশলীদেরও যথেষ্ঠ অবদান আছে। আর আমার চেষ্টাতো আছেই । আমার ভক্ত এবং দর্শকদের বলতে চাই আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। যেন একজন ভালো মানের অভিনেতা হতে পারি। টিভি নাটকের পাশাপাশি আমি ২০১৮ সাল থেকে গ্রুপ থিয়েটার করি। রঙ্গনা নাট্যগোষ্ঠীর আমি নাট্যকর্মী। শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন হল এবং মহিলা সমিতিতে আমি একাধিক নাটকের এ পর্যন্ত ২০ বারের মতো বড় বড় শো তে অভিনয় করেছি। দর্শক শ্রোতাদের দোয়া ভালোবাসা আমার সাথে সব সময় থাকবে এটাই আশা করি। একশটি নাটকে অভিনয় ছাড়াও ১৪টি চলচ্চিত্র, সৈকত নাসিরের ‘নেটওয়ার্ক এবং শাহীন সুমনের ‘মাফিয়া’ দুটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছি। এছাড়া কাজী ইলিয়াস কল্লোল নির্মিত টিভিসি ‘কোকোলা টি টাইম বিস্কুট’, বুলবুল বিশ্বাস পরিচালিত বাংলালিংকের অভিসিতে কাজ করেছি।
আমার অভিনীত নাটকগুলো হলো ‘বকুলপুর’, ‘চাঁন বিরিয়ানি’, ‘গোলমাল’, ‘জলকুমারী’, ‘কঙ্কাল’, ‘আদম’, ‘মদনকুমার’. ‘পুলিশের বড় ভাই’, ‘তামিল হিরো’, ‘মিস্টার চোর’,‘লতিফ ভাইরাস’, ‘হোসেন ভাইয়ের দোকানে আসা মানুষজন’, ‘খামারি’, ‘আগুন পাখি’, ‘পিরিতপুর’, ‘রসের হাড়ি’, মেহেদি হাসান হৃদয়’, ‘স্বপ্ন আড্ডা’, ‘বোকা জামাই’, ‘মেন্টাল লাভার’, ‘আয়না মতির সংসার’, ‘ভিলেজ হট্রগোল’, ‘তুমি আমার জানেমান’, ‘কাইল্যা মানিক’, ‘পন্ডিতগিরি’, ‘কিডন্যাপ’, ‘নগরবালা’, ‘জুয়াড়ির প্রেম’, ‘গুপ্তধন’, ‘জোছনা’, ‘তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না’, ‘পর্দার আড়ালে’, ‘যাদুর বাক্স’, ‘প্রেম’, ‘স্বদেশ প্রেম’, ‘এলোমেলো’, ‘তিথীর সারাজীবন’, ‘গল্পের ফেরিয়ালা’, ‘এনালগ লাই ‘, ‘তমসা ঘোর রাত্রি’, ‘মধুপুর’, ‘ডেলিভারি বয়’, ‘ঠগ’, ‘অস্থির মুড়ি ভর্তা’, ‘মিয়া বিবি রাজী’, ‘ব্যাড লাক’, ‘চাঁপাবাজ’, ‘মেস ম্যানেজার’, ‘মুদ্রা গ্রাম’, ‘-ডিসম্যান’, ‘জোকার’, ‘সেকেন্ড ম্যারেজ’, ‘ভবঘুড়ে’, ‘বাউন্ডুলে’, ‘গুড়েবালি’, ‘লোভী জামাই’, ‘ওমান হেদায়েত’, ‘আবেগী ভালোবাসা’, ‘গোপন বউ’, ‘সে আমার মন কেঁড়েছে’, ‘আলো আঁধার’, ‘চিল্লু ভাই’, ‘অসাম অসমান’, ‘রিভেঞ্জ’, ‘মেধাবী চোর’, ‘ভয়ংকর চান্দু’, ‘টেস্টি ট্যুর’, ‘আবির ভাইয়য়ের মাথা গরম’, ‘অভিশাপ’, ‘স্বামী আসামি’, ‘দিনে দুপুরে ডাকাতি’, ‘হাওয়াই মিঠাই’, ‘সমস্যা কি’, ‘রোড টু মিডিয়া’, ‘হোয়াট ইজ লাইফ’, ‘রংবাজ’, ‘প্রবাসী গ্রাম’, ‘প্রিয়জন’, ‘ঘাপলা’, ‘লুডু মাস্টার’, ‘মেম্বার’, ‘সবাই যদি এমন হতো’, ‘জাদুনগর’, ‘শোধবোধ’, ‘শেষ বিকেল’, ‘হালকা গান হালকা নাচ’, ‘ডেলিভারি ম্যান’, ‘বিবাহ ভ্যাজাল’, ‘হালখাতা’, ‘ভেতরের মানুষ’, ‘আমার কি বিয়ে হবে না’, ‘অন্য আকাশ’, ‘কাল্লু মামা হিরো’, ‘নাটাই ঘুড়ি’, ‘গোপন বিয়ে’, ‘হাওয়ায় ভাসা ভালোবাসা’, ‘বউ বিরোধ’, ‘ভেজা বিড়াল’, ‘ডা.কদম আলী এমনি