নিউজ ডেস্কঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়কে অবাধে চলছে থ্রি-হুইলার সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা।
মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলে হাইকোর্ট ও সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব যান।
মহাসড়কের পাশে হাইওয়ে থানার সামনে দিয়ে থ্রি হুইলার চলে। এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলে কয়েকদিন লোক দেখানো অভিযান চালানো হয়। কয়েকদিন পর মহাসড়কে আবার আগের মতোই চলে থ্রি-হুইলার।
সরেজমিনে ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে দেখা যায়, মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চলছে থ্রি-হুইলার যানগুলো। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ থেকে বিজয়নগরের সাতবর্গ পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড মোড় থেকে কুটি চৌমুহনীর কালামোড়া ব্রিজ পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অধিনস্থ। এই সড়কগুলোতে অবাধে যাতায়াত করছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা।
মহাসড়কগুলোর পাশেই রয়েছে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড। প্রতিদিন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড়, সরাইল বিশ্বরোড থেকে বিজয়নগরের চান্দুরা, চান্দুরা থেকে সাতবর্গ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত থ্রি-হুইলার যাতায়াত করছে।
এদিকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের খাঁটিহাতা মোড় থেকে জেলা শহরের কাউতুলী ও কুমারশীল মোড়, কাউতুলী থেকে কসবা-আখাউড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।
অভিযোগ রয়েছে, মহাসড়কে এসব সিএনজি চলতে প্রতিটি থেকে মাসে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা মাসোহারা নেয় হাইওয়ে পুলিশ। মাসিক মাসোহারার বাইরে যেসকল সিএনজি রয়েছে, তাদের মাঝে মাঝে আটক করা হয়। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে মহাসড়কের পাশে থাকা সিএনজি পাম্পগুলো থেকে মাসোহারার বাইরে থাকা সিএনজিগুলোকে গ্যাস নেয়ার সময় দেয়া হয়। এই সময়ের বাইরে মহাসড়কে পেলে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের স্ট্যাম্পে মুচলেকার মাধ্যমে ও জরিমানা করে ছাড়া হয়। অথচ মাসোহারা দিয়ে চলা সিএনজিগুলোর বিষয়ে কোন বাধা নেই হাইওয়ে পুলিশের কাছে।
মহাসড়কে অবৈধভাবে সিএনজি যাতায়াতের ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে। ঝুঁকিতে থাকে এসব সিএনজিতে থাকা যাত্রীরা। এছাড়াও এসব মহাসড়কে যাতায়াতকারী দ্রুতগামী বাস ও ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়ে।
সর্বশেষ কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার ঘাটুরায় এক নারী ও এর আগের দিন সোমবার সুলতানপুরে বেপরোয়া সিএনজির চাপায় জেলা শহরের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।
এসব থ্রি-হুইলার মহাসড়কে বন্ধ করতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।
এ বিষয়ে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমরা এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। অনেক থ্রি হুইলারকে মামলা দিচ্ছি। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা জরিমানা আদায় না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা থ্রি-হুইলারগুলো আটক রেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি। - বিডি প্রতিদিন
