সুনামগঞ্জে বাসে ধর্ষণচেষ্টা; আসামি রিমান্ড


অনলাইন ডেস্কঃ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলাগামী চলন্তবাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি শহীদ মিয়াকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালতে। সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) রাজেশ বড়ুয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাগীব নুরের আদালতে তার পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (সিএসআই) সেলিম নেওয়াজ।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি ভোরে সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে শহীদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এরপর তাকে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার রাতে তাকে দিরাই থানা পুলিশের কাছে হন্তান্তর করে সিআইডি। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় তাকে আদালতে নিয়ে আসা হয়।

এছাড়া, এ ঘটনায় সোমবার ভোরে সুনামগঞ্জ জেলার গোবিন্দগঞ্জ বাজারের বুঙ্গাইরগাঁও থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাসের হেলপার রশিদ আহমদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) । ওই দিনই রশিদকে দিরাই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় শিকারোক্ততিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ ডিসেম্বর বিকালে সিলেট থেকে দিরাইর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসে সিলেটের লামাকাজি থেকে ওই কলেজছাত্রীকে তুলে দেন তার বোন জামাই। বাসটি সুনামগঞ্জ যাওয়ার কথা ছিলো এবং বাসটিতে বিভিন্ন এলাকার মোট ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে দিরাইয়ের যাত্রী ছিলেন ছয়জন। দিরাই যাওয়ার রোড ভিন্ন হওয়ায় ওই ছয় যাত্রী দিরাই রাস্তার মোড়ে নেমে গেলেও ওই তরুণী সুনামগঞ্জ চলে যান। পরবর্তীতে বাসটি আবার দিরাইয়ের উদ্দেশ্যে এলেও বাসে কোন যাত্রী তোলা হয়নি। বাসটি সন্ধ্যায় দিরাই পৌরসভার সুজানগর গ্রামের পাশে পৌঁছালে ওই কলেজছাত্রী ছাড়া বাসে আর কোনো যাত্রী না থাকার বাসচালক ও হেলপার মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় মেয়েটি বাস থেকে লাফ দিলে সড়কে পড়ে যান। পরে গ্রামবাসী আহত অবস্থায় তাকে দিরাই হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ওই ছাত্রীর স্বজনসহ স্থানীয়রা ওই রাতে দিরাই থানার সামনে বিক্ষোভ করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে। এবং রাতেই শহীদ মিয়া ও রশিদ আহমদকে আসামি করে দিরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন ওই ছাত্রীর বাবা।

দিরাই ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রী বর্তমানে সিলেটের এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। এ ঘটনায় এখনও এক আসামি পলাতক রয়েছেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post