কুলাউড়া প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা-বাগানে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (বাচাশ্রই) লংলা ভ্যালী কার্যকরী পরিষদের আয়োজনে মহান আন্তর্জাতিক মে দিবস উপলক্ষে লংলা ভ্যালীর আওতাধীন ৩৪টি চা-বাগানের শ্রমিকদের নিয়ে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১
মে বুধবার বিকেলে লংলা চা-বাগান নাঠ মন্ডবে আয়োজিত সভায় লংলা ভ্যালী
কার্যকরী পরিষদের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ভ্যালী ইনচার্জ
নন্দলাল দাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুলাউড়া উপজেলা
পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ
এ.কে.এম সফি আহমদ সলমান। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, চা-শ্রমিক
নেতাদের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল হতে হবে, কারণে তাদের নেতৃত্বের কারণে
শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি পূরণ সক্ষম হয় বাগান মালিক কর্তৃপক্ষ। চা-শ্রমিকরা
আজ চা শ্রমিক নয়, তাদের মধ্য অনেকে আজ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত আছে
এমনকি অনেক চা-শ্রমিক সন্তান দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
পড়ালেখা করে বিসিএস ক্যাডার হচ্ছে। হাড়-ভাঙ্গা পরিশ্রম করে শ্রমিকদের মজুরী
১০২ টাকা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তাদের মজুরী ১০২ টাকা থেকে
সর্বনিম্ন ৩০০ টাকায় বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বাগান
মালিক কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সাথে আলোচনা করবো। তিনি আরো বলেন, কেউ খাবে, কেউ
খাবেনা এটা আর হবেনা।
বাগানের প্রত্যেক শ্রমিক তার নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারবে না। আগামী
একবছরের মধ্য লংলা চা-বাগান ও তারা পাশা চা-বাগানের মধ্যবর্তী স্থানে একটি
মাধ্যমিক বা জুনিয়র স্কুল প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করারও
আশ্বাস দেন তিনি। চা-শ্রমিকদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে শ্রমিকদের জীবন
মানউন্নয়নে নায্য অধিকার আদায়ের জন্য সবসময় কাজ করে যাবো। সর্বশেষে
কুলাউড়াকে একটি মাদকমুক্ত, দালালমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ে আধুনিক
কুলাউড়া বিনির্মাণে সবাইকে নিয়ে কাজ করে যেতে চান বলে তাঁর বক্তব্যে শেষ
করেন।
অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ
আব্দুল মালিক, ইউপি সদস্য হীরামন রবিদাস, বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন
কেন্দ্রীয় পরিষদের সহ-সভাপতি জেসমিন আক্তার, লংলা ভ্যালীর সাবেক সাধারণ
সম্পাদক শ্যাম নারায়ন গড়, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সঞ্জু গোস্বামী, লংলা
চা-বাগানের ইমাম মোঃ সাত্তার মিয়া, উত্তর ভাগ চা-বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি
দুলাল ভাত্তি প্রমুখ।
এসময়
উপজেলার বিভিন্ন চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি/সম্পাদক সহ প্রায় দুই
সহস্রাধিক চা-শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। চা-শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে তাদের
বক্তব্যে বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে চা-শ্রমিকরা আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে,
ফলাফল কিন্তুু জিরোর তলানীতে এখনো রয়েছে। নানান চড়াই-উৎড়াই পেড়িয়ে
চা-শ্রমিকরাই আজ জাত শ্রমিকে পরিণত হয়েছে। এদের পরিশ্রমের ঋণ কেউ শোধ করতে
পারবে না। ৮ ঘন্টা ডিউটি করে ১০২ টাকা মজুরী দিয়ে আমাদের পরিবার চালানো
খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। মজুরী সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সবকাজে সীমাহীন বৈষম্য থাকে। বাগান মালিকদের সাথে চুক্তির সময় চুক্তিতে
লেখা থাকে একটা, বাস্তবে হয় এর ব্যতয়। এই বৈষম্যের কারণে শ্রমিকরা বিভিন্ন
সময় নির্যাতনের শিকারও হতে হয়। বিশেষ করে নারী-পুরুষরা স্বাস্থ্য ও
চিকিৎসা সেবা থেকে বিভিন্নভাবে বঞ্চিত। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত
করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। আমাদের বাগানে পৈত্রিক সম্পত্তিতে জোরপূর্বক
পুকুর কেটে মাছ চাষ করা হয়। বাগান কর্তৃপক্ষ উদাসীন। বাগান মালিক
কর্তৃপক্ষকে কঠিন হুঁশিয়ারী করে শ্রমিক নেতারা বলেন, আমরা খেটে খাওয়া
মানুষ। আমাদের সকল নায্য দাবি মানতে হবে, অন্যতায় আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে
বাধ্য হবো। আমাদের বাগানের শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের সরকারি চাকুরীর ব্যবস্থা
গ্রহণ করারও জোর দাবি জানান চা-শ্রমিক নেতারা।
