অনলাইন ডেস্কঃ প্রথম দিনে করা ২৫৯ রানের সংগ্রহ নিয়ে খেলতে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দ্রুতই চারশর কাছাকাছি চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। মাত্র ২৫ ওভারে ১ উইকেটের বিনিময়ে ১২৮ রান করেছিল স্বাগতিকরা। যার বেশিরভার কৃতিত্বই সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসের।সে তুলনায় দ্বিতীয় সেশনে ২৮ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৮৪ রান করেছে বাংলাদেশ। উইকেটে একপ্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশকে পাঁচশর কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। তার ব্যাটে ভর করেই দ্বিতীয় দিনের চা বিরতি পর্যন্ত ভালো অবস্থানেই রয়েছে বাংলাদেশ।
চা বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৮ উইকেটে ৪৭১ রান। সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদউল্লাহ ১১১ এবং তাইজুল ২৬ রানের অপরাজিত রয়েছেন।টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের প্রথম দিনে ১১৩ বল খেলে ৫৫ রান করার পথে মাত্র একটি চার মেরেছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার দলও পুরো দিনের ৯০ ওভারে সীমানা ছাড়া করেছিল মাত্র ১০টি বল। কিন্তু দ্বিতীয় দিন সকালেই বদলে গেল দৃশ্যপট। সাকিব তার নিজের ও দলের আগের দিনের বাউন্ডারি খরা কাটিয়ে দেন দ্বিতীয় দিনের প্রথম ওভার থেকেই।দিনের প্রথম ওভারে কেমার রোচকে একটি, পরের ওভারে রস্টোন চেজকে একটি, দিনের চতুর্থ ওভারে পরপর তিন বলে তিনটি চার মারেন সাকিব। দিনের শুরুর ৪ ওভারেই ২৭ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ। যার মধ্যে ২৩ রানই করেন সাকিব। চার ওভারের মধ্যেই পৌঁছে যান ৭৮ রানে।
সে তুলনায় দিনের শুরুতে বেশ নড়বড়ে ছিলেন অপর অপরাজিত ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কয়েকবার লেগ বিফোরের জোরালো আবেদন ও একবার স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি। অবশেষে দিনের পঞ্চম ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেন মাহমুদউল্লাহ।তার এই বাউন্ডারিতেই পূরণ হয় দুজনের শতরানের জুটি। ৬৮তম ওভারে দলীয় ১৯০ রানের মাথায় মুশফিকুর রহিমের বিদায়ের পর দুজন মিলে জুটি বাঁধেন। ১৬৬ বল খেলেই নিজেদের জুটিতে শতরান করে ফেলেন সাকিব ও রিয়াদ।প্রথম দিনে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ মোটামুটি ভালো অবস্থানে থাকলেও জুটি গড়ে ভালো খেলা হচ্ছিলো না ব্যাটসম্যানদের। দিন শেষে সাদমান ইসলামও জানিয়েছিলেন বড় জুটির অভাবের কথা। দ্বিতীয় দিন সকালে সে কথাই যেন রাখলেন দলের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং সাকিব আল হাসান।দিনের শুরুতেই সাকিব ও রিয়াদের ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই রানের চাকা সচল রেখে খেলতে পেরেছে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ছয় ওভারেই ৩৬ বলে ৩৬ রান করে ফেলে স্বাগতিকরা। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে শতরান করেন সাকিব ও রিয়াদ। কিন্তু এর পর আর বেশিক্ষণ থাকা হয়নি টাইগার অধিনায়কের।
দিনের ৭ম এবং ইনিংসের ৯৭তম ওভারে ক্যারিবীয় পেসার কেমার রোচের অফস্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ধরা পড়ে যান সাকিব। দলীয় ৩০১ রানের মাথায় আউট হওয়ার আগে ৬ চারের মারে ১৩৯ বলে ৮০ রান করেন তিনি।দিনের শুরুতে যতোটা ইতিবাচক ছিলেন সাকিব আল হাসান, ঠিক ততটা ছন্দে ছিলেন না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে খেলেছেন নিজের উইকেট বাঁচিয়ে, রানের চাকা সচল রেখেই। সাবধানী ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৬তম অর্ধশত।দিনের সপ্তম ওভারে সাকিব ফিরে গেলেও এক প্রান্ত ধরে খেলছেন রিয়াদ। সাকিবের চেয়ে তুলনামূলক ধীর খেললেও ৮৮ বলে ৪ চারের মারে দিনের এগারতম ওভারে নিজের ফিফটি তুলে নিয়েছেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তিনি খেলেছিলেন ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস।
সে ফর্ম বজায় রাখলেন চলতি টেস্টেও। মাহমুদউল্লাহর ব্যাটের নির্ভরতা ও লিটনের স্বচ্ছন্দ ব্যাটিংয়েই মূলত বড় সংগ্রহের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। দিনের অষ্টম ওভারে উইকেটে এসে শুরু থেকেই নিজের মনমতো ব্যাটিং করতে থাকেন লিটন।দিনের শুরুতে প্রয়োজন ছিলো প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে ব্যাটিং। প্রথম ওভার থেকেই সেটি করেছেন সাকিব আল হাসান। দলের সংগ্রহ তিনশ পেরুনোর পরে সাকিব যখন ফিরে গেলেন, তখন দলের চাহিদা ছিলো দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলীয় সংগ্রহটাকে বড় করা। সেটিই করে দেখাচ্ছেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও লিটন দাস।
অভিষিক্ত সাদমান ইসলাম, অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পর ইনিংসের চতুর্থ ফিফটি তুলে নিয়েছেন লিটন দাস। সেঞ্চুরির কাছাকাছিতে অপরাজিত রয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত সপ্তম উইকেট জুটিতে দুজন মিলে মাত্র ১০৯ বলে যোগ করে ফেলেন ৮৬ রান।লিটনের ব্যাট থেকে ইনিংসের প্রথম ছক্কা পায় বাংলাদেশ। মাত্র ৫০ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কার মারে নিজের ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি পূরণ করেন তিনি। মাহমুদউল্লাহর সাথে জুটি গড়ে অপরাজিত থেকেই প্রথম সেশন পার করেন লিটন।
যতক্ষণ ব্যাটিং করছিলেন, মনে হচ্ছিলো ব্যাটিংয়ের মতো সহজ কাজ যেন দ্বিতীয়টি আর নেই। কিন্তু অতি সুখ সহ্য হয়নি লিটন দাসের। অযথাই ক্যারিবীয় অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রেথওয়েটের সাদামাটা এক ডেলিভারিতে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে নিজের উইকেট হারান তিনি।দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ২৫ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ১২৮ রান করে চালকের আসনেই ছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই ব্রেথওয়েটের বোলিংয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন লিটন। আউট হওয়ার আগে ৬২ বলে ৮ চার এবং ১ ছক্কার মারে ৫৪ রান করেন লিটন।উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরে গেলেও অপরপ্রান্তে অবিচল থাকেন মাহমুদউল্লাহ। তাকে সঙ্গ দিতে অষ্টম উইকেটে ব্যাট হাতে নামেন মেহেদি হাসান মিরাজ। মাত্র ২৬ বলে ১৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান মিরাজও। তবে নবম উইকেট জুটিতে মাহমুদউল্লাহকে দারুণ সঙ্গ দিতে থাকেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
গত মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে তার ব্যাটিং নিয়ে কথা হয়েছে অনেক। প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল টেস্ট দলে তার অবস্থান সম্পর্কেও। সেসব কোন কথা ভুল ছিলো না। লম্বা একটা সময় ধরে টেস্ট ক্রিকেটে রানের দেখা পাচ্ছিলেন না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যে কারণে পড়তে হয়েছিল সমালোচনার মুখে।সেসব সমালোচনার মুখে শীতকালে ব্যাট হাতে বসন্ত নিয়ে এলেন বাংলাদেশ দলের অন্যতম ভরসার পাত্র মাহমুদউল্লাহ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংসের পর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও ঢাকা টেস্টে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। মাঝে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে তার ব্যাটের রান ছিলো ৩ ও ৩১।মাহমুদউল্লাহর আগে সেঞ্চুরির সুযোগ এসেছিল অভিষিক্ত ওপেনার সাকিব আল হাসান ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সামনে। সাদমান ৭৬ ও সাকিব ৮০ রানে ফিরলেও, হতাশ করেননি বিপদের বন্ধু খ্যাত মাহমুদউল্লাহ। ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে ২০৩ বলের দীর্ঘ ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন তিনি।
নিজের ষোলতম পঞ্চাশ পূরণ করতে ৮৮ বল খেলে ৪টি চার মেরেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। এরপর যেনো ঢুকে যান খোলসে। অপরপ্রান্তে মারকাট ব্যাটিংয়ে মাত্র ৬২ বলে ৫৪ রান করে লিটন ও ২৬ বলে ১৪৮ রান করে মিরাজ ফিরে গেলেও এক প্রান্ত ধরে রাখেন মাহমুদউল্লাহ। দ্বিতীয় পঞ্চাশ করার পথে মাত্র ২টি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১৪০তম ওভারের শেষ বলে রস্টোন চেজকে বাউন্ডারি মেরেই ৯৯ থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান মাহমুদউল্লাহ। ২০৩ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিটি হয় তার। তাকে সঙ্গ দিয়ে খেলে যাচ্ছেন দশ নম্বর ব্যাটসম্যান তাইজুল ইসলাম।
