খালেদা জিয়ার মামলার রায় ২৯ অক্টোবর


অনলাইন ডেস্কঃ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা আরেকটি দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। ওই দিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন। এদিন তিনি মামলার যুক্তিতর্ক কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

এ নিয়ে মামলায় ৪৬ কার্যদিবস যুক্তিতর্কের জন্য ব্যয় হল। মামলা দায়েরের আট বছর দুই মাস ২১ দিন পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেছেন, যুক্তিতর্কের জন্য সময়ের আবেদন নাকচ করে রায়ের দিন ধার্য করা ‘বেআইনি ও অন্যায়’ হয়েছে। তাই আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।

অপরদিকে দুদকের আইনজীবী দাবি করেছেন, আদালতের রায় ঘোষণার দিন ধার্যের বিষয়টি আইনানুগ ও যথার্থ হয়েছে।

রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে গত আড়াই বছর ধরে এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বারবার সময় দেয়ার পরও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক শুনানিতে অংশ নেয়নি। তারা (আসামিপক্ষ) যুক্তিতর্ক শুনানি না করে নানা কারণ দেখিয়ে কালক্ষেপণ করছে।

যদিও মামলাটিতে যুক্তিতর্ক শুনানির সুযোগ নেই। তবুও আসামিপক্ষকে তা (যুক্তিতর্ক উপস্থাপন) করার জন্য বলা হয়। উচ্চ আদালত খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য চলার জন্য আদেশ দিয়েছেন।

এরপরও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেছেন। আজও (মঙ্গলবার) তারা যুক্তিতর্ক শুনানি করেননি। আসামিপক্ষের সময় আবেদন নামঞ্জুর করে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করা হল। আর এ মামলায় রায় ঘোষণার দিন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন বহাল থাকবে।

এদিন মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির হননি। তবে কারাগারে থাকা অন্য দুই আসামি- বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আদালতে হাজির করা হয়।

এছাড়া মামলার আরেক আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, আজ (মঙ্গলবার) মামলাটিতে আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল এবং রায়ের তারিখ ধার্যের বিষয়ে আদেশের জন্য আছে। উচ্চ আদালত খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলার আদেশ দিয়েছেন।

সেই কপি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করবেন। এজন্য মামলার কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য তারা (আসামিপক্ষ) সময় চেয়েছে। আমরা মামলার সব কার্যক্রম শেষ করে রায়ের তারিখ ধার্যের আদেশ দেয়ার আবেদন করছি।

জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আমরা এখনও উচ্চ আদালতের আদেশের কপি পাইনি। আদেশের অবজারভেশনে অনেক সিদ্ধান্ত এসেছে। কপি পেলে তা দেখতে পেতাম।

আমরা উচ্চ আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাব। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এক সপ্তাহের সময় দেয়া হোক। এছাড়া তিনি কারাগার থেকে এ আদালত বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অথবা বিশেষ জজ আদালত-৫ এর এজলাসে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আদালতের আদেশ প্রার্থনা করেন।

এরপর খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বলেন, পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর-দুদকের আইনজীবী) সাহেব বলছেন- অর্ডার এখানেই শেষ। কিন্তু তা শেষ হয়নি। কোর্টও আশা করেন, খালেদা জিয়া আদালতে এসে বিচার মোকাবেলা করবেন। তিনি অসুস্থ, তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। অসুস্থ থাকায় তিনি আদালতে আসতে পারছেন না।

আর আদালতে বসে থাকার অবস্থা তার নেই। তিনি সুস্থ হয়ে আদালতে আসবেন। অনন্তকাল তো কেউ কারও জন্য বসে থাকবে না। আমরা আপিল বিভাগে যাব। এজন্য আমরা সময় চাচ্ছি।

ওই সময় মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ এখানে এসেছে। এখন মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বলেছেন- আরও উচ্চ আদালত আছে। তারা আরও উচ্চতর আদালতেও যাবেন।

তারা জাতিসংঘ পর্যন্ত গেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের আদেশ ও আদেশের সীমাবদ্ধতা নিয়ে মোশাররফ হোসেন কাজল ও মাসুদ আহমেদ তালুকদারের মধ্যে কিছুটা বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ মানতে হবে। আদেশ থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদারের কাছে আদেশের ‘সীমাবদ্ধতার’ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান বিচারক। মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার সেই ব্যাখ্যা দেন।

এরপর বিচারক বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) মামলাটিতে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল থাকবে কি না এবং গত ২৬ সেপ্টেম্বর পিপির করা রায়ের দিন ধার্যের আবেদনের আদেশের জন্য নির্ধারিত ছিল।’ এরপরই বিচারক ২৯ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদেশ দেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post