'আমরা পুড়ে যাচ্ছি.....', মৃত্যুর আগে শেষ স্ট্যাটাস



অনলাইন ডেস্কঃ ভিড়ে ঠাসা রাশিয়ার উইন্টার চেরি শপিং মলের আগুনে রবিবার ৬৪ জনের প্রাণ গেছে। আজ জানা গেল, সাইবেরিয়ার কেমেরোভোর ওই শপিং মলে নিহত ৬৪ জনের মধ্যে ৪১ জন এক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী। সব মিলিয়ে ওই কিশোর-কিশোরীদের গোটা ক্লাস স্রেফ পুড়ে ছাই হয়েছে।

সে দিন বিকেলে বেরনোর কোনও পথই খুঁজে পায়নি তারা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই শপিং মলের প্রস্থান পথ বন্ধ করা ছিল। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে কেউ কেউ কাঁদতে কাঁদতে ফোন করে খবর দেওয়ার চেষ্টা করেছে বাবা-মাকে। বোনঝি ভিকার কাছ থেকে এমন ফোন পেয়েছেন ইয়েভগেনিয়া নামে এক তরুণী। সে বলেছে 'আমি খুব ভালোবাসি মাকে, মনে করে একটু বলে দিবে।' 

কেউ কেউ আবার ফেসবুকে লিখে গেছেন, 'আমরা পুড়ে যাচ্ছি, এই হয়তো শেষ কথা!' মারিয়া নামে ১৩ বছরের এক কিশোরী লিখে গেছেন এই পোস্ট। ওই পোস্টে আরও ৩০ জন 'গুডবাই' লিখেছে, যারা আর কোনও দিন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অনেকে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ক্ষোভ কমেনি স্বজনহারাদের। তারা বলছেন, এখনও ৮৫ জনের খোঁজ নেই। মঙ্গলবার সরকারি দফতরের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশো লোক।

কেমেরোভোর অদূরে স্কুলের একটি ক্লাসের সবাই চলে আসে সিনেমা দেখতে। হল থেকে আর বেরোনো হল না তাদের। দুই মেয়েকে হারিয়ে এক বাবা বাকরুদ্ধ। ছুটে যান দমকলকর্মীর কাছে। একটা মুখোশ পেলে যদি মেয়েদের বাঁচানো যায়। কিন্তু দমকলকর্মীরা অন্যদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে যান বলে তার অভিযোগ। তার হাতে মুখোশ দেওয়া নিয়মে পড়ে না, এমনও বলা হয় তাকে। এখন তিনি বলছেন, নিয়মই কেড়ে আমার মেয়েদের।- আনন্দবাজার।

Post a Comment

Previous Post Next Post