মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ পুরাতন মরিচা ধরা রড বেরিয়ে আসছে। ছাদ ছুঁয়ে পানি পরে। ছাদের আস্তর খসে পড়েছে অনেক আগেই। জরাজীর্ণ, ভাঙাচুরা ও স্যাঁতসেঁতে ভবন। বেশীর ভাগ দরজা জানালা ভেঙে ভেঙে পরছে। রয়েছে চিকিৎসক সংকট। অনেকদিন ধরেই হাসপাতালের দশটি পদের মধ্যে পাঁচটি পদই রয়েছে শূন্য। স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসকের পক্ষে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে তিনশো রোগীর স্বাভাবিক চিকিৎসা প্রদান কঠিন হয়ে পড়ছে। আর জরাজীর্ণ ভবনে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। প্রথম দেখায় বুঝার উপায় নাই এটা একটি হাসপাতাল। এই ভবনেই চলছে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা।
১৯৮২ সালে স্থাপিত হয়েছিল ৩১ শয্যাবিশিষ্ট রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় আড়াই লাখ নাগরিকের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালটি।
জানা যায়, বিশেষজ্ঞ চারটি পদের মধ্যে হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক (সার্জারি) ও দন্ত চিকিৎসকের পদ বিভিন্ন মেয়াদে অনেকদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। কয়েক মাস থেকে শূন্য রয়েছে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পদটিও। সম্প্রতি গাইনি বিশেষজ্ঞ পদে একজনকে পদায়িত করা হয়েছে। হাসপাতালে আছেন একজন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল অফিসার। ছয়জন মেডিকেল চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে চারজন কর্মরত আছেন। অন্যদিকে এক্সরে অপারেটর পদটি প্রায় আট বছর ধরে শূন্য আছে। এই আট বছর ধরেই অব্যবহৃত পড়ে আছে এক্সরে যন্ত্রটি। অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে কয়েক বছর ধরে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। এই হাসপাতালের চিকিৎসক প্রেষণে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে কাজ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে রোগী আসলে তাদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে (রেফার) দেওয়া হয়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রোগী দেখেন না। চিকিৎসা সহকারীরা রোগী দেখেন। ভাঙাচুরা কিছু কিছু জায়গা সম্প্রতি সিমেন্ট বালু দিয়ে জোড়াতালির চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তাতেও বেহাল অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। মশার উপদ্রব বেশি বলে কয়েকজন ভর্তি হওয়া রোগী জানিয়েছেন। রাতে নিজেদের উদ্যোগে কয়েল জ্বালিয়ে রাত কাটান।
রাজনগর সদর ইউনিয়নের ঘরগাঁও গ্রামের জিল্লর রহমান বলেন, বহির্বিভাগ আন্ত:বিভাগ কোনটাতেই ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়না। মিলেনা ঔষধ।
রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অভিযোগগুলো ঠিক না। যে সব রোগীকে সেবার আওতায় আনতে পারবো না। শুধুমাত্র তাদেরকে রেফার্ড করা হচ্ছে। ইমার্জেন্সিতে যে সাপোর্ট আছে এবং তা দিয়ে যাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব আমরা তা দিচ্ছি। ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার জন্য সাধারণ মানুষের মতো কর্মরত সবাই ভীতির মধ্যে থাকি। ’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় সাড়ে তিনশত রোগী দেখা হয়। আন্ত:বিভাগে ২৫/৩০ জনের মতো রোগী ভর্তি থাকেন। হাসপাতাল ভবনের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী। হাসপাতাল ভবনের কক্ষগুলো স্যাঁতসেঁতে। কক্ষে আলো স্বল্পতা। বিদ্যুৎ চলে গেলে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্ন কক্ষের জানালার কাঠ ভেঙে পড়েছে। ঝড়বৃষ্টি দিলে কক্ষের ভেতর পানি ঢুকে পড়ে। বছর চার-পাঁচ ধরে এই অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া হাসপাতালের পানিতে প্রচুর আয়রন রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের লোকজন।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন সত্যকাম চক্রবর্তী বলেন, ‘নতুন একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক সংকট কাটাতে একটু সময় লাগবে। অপারেটর নিয়োগ না দেওয়ায় এক্সরে মেশিন চালু করা যাচ্ছে না। আর হাসপাতালের সংস্কার কাজের জন্য ইতোমধ্যে ১৭ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে। হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।’
১৯৮২ সালে স্থাপিত হয়েছিল ৩১ শয্যাবিশিষ্ট রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় আড়াই লাখ নাগরিকের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালটি।
জানা যায়, বিশেষজ্ঞ চারটি পদের মধ্যে হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক (সার্জারি) ও দন্ত চিকিৎসকের পদ বিভিন্ন মেয়াদে অনেকদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। কয়েক মাস থেকে শূন্য রয়েছে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পদটিও। সম্প্রতি গাইনি বিশেষজ্ঞ পদে একজনকে পদায়িত করা হয়েছে। হাসপাতালে আছেন একজন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল অফিসার। ছয়জন মেডিকেল চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে চারজন কর্মরত আছেন। অন্যদিকে এক্সরে অপারেটর পদটি প্রায় আট বছর ধরে শূন্য আছে। এই আট বছর ধরেই অব্যবহৃত পড়ে আছে এক্সরে যন্ত্রটি। অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে কয়েক বছর ধরে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। এই হাসপাতালের চিকিৎসক প্রেষণে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে কাজ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে রোগী আসলে তাদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে (রেফার) দেওয়া হয়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রোগী দেখেন না। চিকিৎসা সহকারীরা রোগী দেখেন। ভাঙাচুরা কিছু কিছু জায়গা সম্প্রতি সিমেন্ট বালু দিয়ে জোড়াতালির চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তাতেও বেহাল অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। মশার উপদ্রব বেশি বলে কয়েকজন ভর্তি হওয়া রোগী জানিয়েছেন। রাতে নিজেদের উদ্যোগে কয়েল জ্বালিয়ে রাত কাটান।
রাজনগর সদর ইউনিয়নের ঘরগাঁও গ্রামের জিল্লর রহমান বলেন, বহির্বিভাগ আন্ত:বিভাগ কোনটাতেই ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়না। মিলেনা ঔষধ।
রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অভিযোগগুলো ঠিক না। যে সব রোগীকে সেবার আওতায় আনতে পারবো না। শুধুমাত্র তাদেরকে রেফার্ড করা হচ্ছে। ইমার্জেন্সিতে যে সাপোর্ট আছে এবং তা দিয়ে যাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব আমরা তা দিচ্ছি। ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার জন্য সাধারণ মানুষের মতো কর্মরত সবাই ভীতির মধ্যে থাকি। ’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় সাড়ে তিনশত রোগী দেখা হয়। আন্ত:বিভাগে ২৫/৩০ জনের মতো রোগী ভর্তি থাকেন। হাসপাতাল ভবনের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী। হাসপাতাল ভবনের কক্ষগুলো স্যাঁতসেঁতে। কক্ষে আলো স্বল্পতা। বিদ্যুৎ চলে গেলে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্ন কক্ষের জানালার কাঠ ভেঙে পড়েছে। ঝড়বৃষ্টি দিলে কক্ষের ভেতর পানি ঢুকে পড়ে। বছর চার-পাঁচ ধরে এই অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া হাসপাতালের পানিতে প্রচুর আয়রন রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের লোকজন।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন সত্যকাম চক্রবর্তী বলেন, ‘নতুন একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক সংকট কাটাতে একটু সময় লাগবে। অপারেটর নিয়োগ না দেওয়ায় এক্সরে মেশিন চালু করা যাচ্ছে না। আর হাসপাতালের সংস্কার কাজের জন্য ইতোমধ্যে ১৭ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে। হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।’
